New Update
/indian-express-bangla/media/post_attachments/wp-content/uploads/2018/08/jhulan-1-12.jpg)
বউবাজারের বাবুরাম শীল লেনের রামকানাই অধিকারীর বাড়ীতে আসর বসেছে। আসরে মগ্ন হয়ে যদু ভট্ট গাইছেন 'আজু কি আনন্দ, ঝুলত ঝুলনে শ্যামর চন্দ' পাখোয়াজে সঙ্গত দিচ্ছেন খোদ রামকানাই নিজেই। অধিকারীদের এই বাড়ি মূলত বেশি পরিচিত ঝুলনবাড়ি নামে। এক্সপ্রেস ফোটো- শশী ঘোষ এ বাড়িতে ঝুলেন উৎসব হয় পাঁচদিন ধরে। সে উপলক্ষ্যে রামকানাই বাবু নিজের বাড়িতেই বসাতেন ধ্রুপদ গানের আসর। এই আসরে মুল আকর্ষণ ছিলেন যদু ভট্ট। পুরনো ঐতিহ্য বজায় রেখে এখনও অধিকারী পরিবারের বংশধরেরা ঝুলনের সময় ধ্রুপদ গানের আসর চালিয়ে যাচ্ছেন। অধিকারী বাড়ীতে যদু ভট্ট এলে এখানেই থাকতেন। এক্সপ্রেস ফোটো- শশী ঘোষ রসিক শ্রোতারা এই গান শুনতে অনেক দূর দূর থেকে এখনও এখানে ছুটে আসেন। রামকানাই বাবু নিজে ভালো পাখোয়াজ বাজাতেন যার ফলে তাঁর গানবাজানার প্রতি ঝোঁক ছিল শুরু থেকে। ঠাকুরের সামনে এই মন্দিরেই বসত গানের আসর। যদু ভট্ট ছাড়াও রামাকানাইয়ের এই ঝুলনের আসর জমাতে আসতেন, রাধিকাপ্রসাদ গোস্বামী, অঘোরনাথ চক্রবর্তী প্রমুখ শিল্পী। অতীতের মত এখনও শিল্পীরা আসেন, তবে আগে যেমন সারারাত এই অনুষ্ঠান চলত এখন তা হয় না। রাম কানাই বাবুর ষষ্ট প্রজন্ম উৎপল অধিকারী। তাঁর কথায়, ২০০ বছর আগে এই ঝুলনবাড়ি ছিল জমিদারদের বাড়ি। এখানে কৃষ্ণমোহন অধিকারী পুজো করতেন। তাঁর কাজে সন্তুষ্ট হয়ে তৎকালীন জমিদার কৃষ্ণমোহনের নামে এই বাড়ি লিখে দিয়ে দেশান্তরী হয়ে যান। এক্সপ্রেস ফোটো- শশী ঘোষ ১২৯১ বঙ্গাব্দে কৃষ্ণমোহন অধিকারী এই ঝুলনের সূচনা করেন। পরবর্তীতে তাঁর পৌত্র রামকানাই অধিকারী সারম্বরে এই ঝুলনপুজোর সূচনা করনে। দেওয়ালের গায়ে ছবিতে লাগানো কৃষ্ণের রাসলীলা। একাদশীর দিন থেকে শুরু করে রাখি পূর্ণিমার দিন পর্যন্ত অধিকারী বাড়িতে এই ঝুলন উৎসব চলতে থাকে। আর তাই এই পাঁচ দিন দেবতাকে বিভিন্ন বেশে সাজানো হয়। প্রথম দিন রাখাল বেশ, দ্বিতীয় দিন যোগী বেশ, তৃতীয় দিনে সুবল বেশ, চতুর্থ দিনে হয় কোটাল বেশ এবং শেষ দিনে রাজ বেশ। প্রথম দিন হোম করে ঝুলন উৎসবের সূচনা করা হয়। এর পরে দেবতাকে এক এক দিন এক এক রকমের ভোগ নিবেদন করা হয়। প্রথা মেনে রোজই চলতে থাকে অথিতি সমাগম। এক্সপ্রেস ফোটো- শশী ঘোষ বর্তমানে অধিকারী বাড়ির এ পুজোর প্রধান পৌরহিত্য করেন জয়ন্ত কুমার মিশ্র। শুধুমাত্র রাঁধা কৃষ্ণ নয় ঝুলন আসনের পাশে জগন্নাথকেও সাজিয়ে তোলেন তিনি। এক্সপ্রেস ফোটো- শশী ঘোষ চতুর্থদিন কোটাল বেশে দেবতাদের সাজানো হচ্ছে। এক্সপ্রেস ফোটো- শশী ঘোষ রাতে পুজো হয়ে যাওয়ার পর বিগ্রহদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এর পর আবার সকাল থেকে শুরু হয় সাজানোর কাজ। কয়েকজন পুরোহিত হাতেহাত লাগিয়ে পুরো ব্যপার সামলান। এক্সপ্রেস ফোটো- শশী ঘোষ ঝুলনের এই পাঁচ দিন উৎপল অধিকারী এবং শুভাশিস অধিকারীর তত্বাবধনে গোটা এই কর্মকাণ্ড চলতে থাকে। গোপাল এবং রাঁধাকে কিভাবে সাজাতে হবে তারাই নিজেরা দাঁড়িয়ে থেকে নির্দেশ দিয়ে নেন। এক্সপ্রেস ফোটো- শশী ঘোষ এই বাড়িতে মাটির পুতুল, কাঠের দোলনা আর গাছপালা দিয়ে ঝুলন সাজানোর কাজ শুরু হয় সকাল থেকে। পাঁচদিন রোজই নতুন নতুন বেশে নতুন করে গোপাল এবং রাঁধাকে সাজিয়ে তোলা হয়। যদু ভট্টের শেষ জীবন এই বাড়িতেই কাটে এবং এখানেই মৃত্যু হয়। তবে উৎপল অধিকারীর কথায় যদু ভট্টের এই বাড়িতে মৃত্যু নিয়ে দ্বিমত আছে। যদুভট্ট সে এই বাড়িতেই মারা গিয়েছেন তার সঠিক প্রমাণ এখনও তেমন একটা ওনারা পাননি। এক্সপ্রেস ফোটো- শশী ঘোষ ঠাকুরকে দেখার জন্যে যে কোনও কোণা থেকে গোটা মন্দির জুড়ে লাগানো আছে আয়না।এক্সপ্রেস ফোটো- শশী ঘোষ বর্তমানে বাড়ির অন্যতম কর্তা শুভাশিস অধিকারী। শেষ মুহূর্তে পুজোর আয়োজন সঠিক ভাবে হয়েছে কিনা দেখে নিচ্ছেন। এক্সপ্রেস ফোটো- শশী ঘোষ পুজো শেষে এখানেই ধ্রুপদ গানের আসর বসে। রাখি পূর্ণিমার দিন দেবতাকে রাজ বেশ সাজিয়ে পুজোকরে গান দিয়ে শেষ করা এই পাঁচ দিনের ঝুলন অনুষ্ঠান। এক্সপ্রেস ফোটো- শশী ঘোষ পুরোহিতের সঙ্গে বাড়ির মহিলাদের দিয়ে এই আরতি শুরু হয়। এক্সপ্রেস ফোটো- শশী ঘোষ