/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/27/jim-corbett-national-park-facts-2026-01-27-18-46-37.jpg)
Jim Corbett National Park Facts: জিম করবেট ন্যাশনাল পার্ক সম্পর্কে এই বিষয়গুলো জেনে নিন।
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/27/jim-corbett-national-park-facts-jpg-1-2026-01-27-18-48-17.jpg)
জিম করবেট ন্যাশনাল পার্ক
Jim Corbett National Park Facts: উত্তরাখণ্ডের নৈনিতাল জেলার জিম করবেট ন্যাশনাল পার্ককে বেশিরভাগ মানুষ শুধুই বাঘ দেখার জায়গা হিসেবেই জানেন। কিন্তু এই জাতীয় উদ্যানের ইতিহাস, প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য এবং সংরক্ষণমূলক গুরুত্ব এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে একে ভারতের বন সংরক্ষণের ভিত্তিস্তম্ভ বলা যায়। প্রকৃতপক্ষে, জিম করবেট শুধু একটি জাতীয় উদ্যান নয়, এটি ভারতের পরিবেশ সচেতনতা ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/27/jim-corbett-national-park-facts-jpg-2-2026-01-27-18-48-17.jpg)
হেইলি ন্যাশনাল পার্ক
১৯৩৬ সালে এই উদ্যানটি প্রতিষ্ঠিত হয়, 'হেইলি ন্যাশনাল পার্ক' নামে, যা ছিল ভারতের প্রথম জাতীয় উদ্যান। স্বাধীনতার আগেই এমন একটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল তৈরি হওয়া সেই সময়ের জন্য ছিল এক বিপ্লবী চিন্তাধারা। পরে এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় জিম করবেট ন্যাশনাল পার্ক। জিম করবেট ছিলেন একজন শিকারি। সেখান থেকে তিনি পরিবেশরক্ষক হয়ে ওঠেন। যা এক ব্যতিক্রমী মানুষের দৃষ্টান্ত। একসময় তিনি মানুষখেকো বাঘ ও চিতার শিকার করলেও, জীবনের শেষভাগে বন সংরক্ষণ এবং বন্যপ্রাণী রক্ষার জোরালো সমর্থক হয়ে ওঠেন।
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/27/jim-corbett-national-park-facts-jpg-3-2026-01-27-18-48-17.jpg)
প্রজেক্ট টাইগার কর্মসূচি
এই পার্কের সবচেয়ে বড় ঐতিহাসিক গুরুত্ব বোঝা গিয়েছিল ১৯৭৩ সালে। তখন থেকেই ভারতের বিখ্যাত প্রজেক্ট টাইগার কর্মসূচির সূচনা হয়েছিল। সেই সময় দেশে বাঘের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছিল। জিম করবেটকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই প্রকল্প পরবর্তীতে সারা দেশে বাঘ সংরক্ষণের একটি শক্ত ভিত গড়ে তোলে। আজ ভারতের বাঘ সংরক্ষণ আন্দোলনের সাফল্যের পেছনে জিম করবেটের অবদান অনস্বীকার্য।
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/27/jim-corbett-national-park-facts-jpg-4-2026-01-27-18-48-17.jpg)
জিম করবেট ন্যাশনাল পার্ক
জিম করবেট ন্যাশনাল পার্কের প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য এটিকে আরও বিশেষ করে তুলেছে। এই উদ্যান একাধিক পর্যটন জোনে বিভক্ত, যেমন ধিকালা, বিজরানি, ঝিরনা, ধেলা এবং দুর্গা দেবী। প্রতিটি জোনের ভূপ্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য আলাদা, ফলে একাধিকবার ভ্রমণ করলেও একঘেয়ে লাগে না। ধিকালা অঞ্চল খোলা তৃণভূমি ও জলাশয়ের জন্য বিখ্যাত, এখানে বড় পশুপালের দেখা মেলে। আবার দুর্গা দেবী এলাকা পাহাড়ি ও বনভূমি নির্ভর, যা পাখিপ্রেমীদের কাছে স্বর্গসম।
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/27/jim-corbett-national-park-facts-jpg-5-2026-01-27-18-48-17.jpg)
রামগঙ্গা নদী
এই পার্কের প্রাণরেখা বলা হয় রামগঙ্গা নদীকে। এই নদী জিম করবেটের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে জলাভূমি, তৃণভূমি ও ঘন অরণ্যকে জীবন দেয়। সারা বছর জলপ্রাপ্যতার কারণে এখানে বন্যপ্রাণীদের বসবাস ও প্রজনন সহজ হয়। শীতকালে নদীর ধারে অসংখ্য পরিযায়ী পাখির সমাগম দেখা যায়, যা করবেটকে পাখিপ্রেমীদের কাছেও জনপ্রিয় করে তুলেছে।
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/27/jim-corbett-national-park-facts-jpg-6-2026-01-27-18-48-17.jpg)
বায়োডাইভার্সিটি হটস্পট
বাঘ ছাড়াও জিম করবেট ন্যাশনাল পার্কে রয়েছে হাতি, চিতা, হরিণের নানা প্রজাতি, ঘড়িয়াল, উটকো এবং ৬০০-রও বেশি পাখির প্রজাতি। এই বিপুল জীববৈচিত্র্যের জন্য করবেটকে ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বায়োডাইভার্সিটি হটস্পট হিসেবে ধরা হয়। অনেক পর্যটক বাঘ দেখার আশায় আসেন, কিন্তু এখানকার প্রকৃত সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে এই বৈচিত্র্যের মধ্যেই।
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/27/jim-corbett-national-park-facts-jpg-7-2026-01-27-18-48-17.jpg)
সচেতনতার মঞ্চ
আজকের দিনে জিম করবেট ন্যাশনাল পার্ক শুধু একটি পর্যটন কেন্দ্র নয়, বরং এটি পরিবেশ শিক্ষা, গবেষণা এবং সচেতনতার বড় মঞ্চ। আধুনিক জীবনযাত্রার চাপে যখন বন ও বন্যপ্রাণী ক্রমশ কমছে, তখন করবেট আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে সংরক্ষণ আর উন্নয়ন একসঙ্গেই চলতে পারে। এই জাতীয় উদ্যান প্রমাণ করে, সঠিক পরিকল্পনা এবং সচেতনতা থাকলে প্রকৃতি এবং মানুষের সহাবস্থান অস্বাভাবিক কিছু নয়।
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/27/jim-corbett-national-park-facts-jpg-8-2026-01-27-18-48-17.jpg)


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us