/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/14/paediatric-hypertension-explained-1-2026-01-14-20-42-56.jpg)
Paediatric Hypertension Explained: শিশুদের হাই ব্লাড প্রেসার কীভাবে চিনবেন?
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/14/paediatric-hypertension-explained-2-2026-01-14-20-45-48.jpg)
পেডিয়াট্রিক হাইপারটেনশন
Paediatric Hypertension Explained: পেডিয়াট্রিক হাইপারটেনশন (Paediatric Hypertension) শব্দটি শুনলেই অনেকের মনে প্রশ্ন আসে—শিশুদের আবার উচ্চ রক্তচাপ হয় নাকি? সাধারণভাবে উচ্চ রক্তচাপকে আমরা প্রাপ্তবয়স্কদের সমস্যা হিসেবেই জানি। কিন্তু আধুনিক গবেষণা বলছে, শিশু ও কিশোরদের মধ্যেও এই সমস্যা দ্রুত বাড়ছে এবং এটি ভবিষ্যতের বড় স্বাস্থ্যঝুঁকির ইঙ্গিত দিচ্ছে। জনস হপকিন্স মেডিসিন–সহ একাধিক আন্তর্জাতিক গবেষণা অনুযায়ী, পেডিয়াট্রিক হাইপারটেনশন (paediatric hypertension) বলতে শিশু ও কিশোরদের মধ্যে অস্বাভাবিক রক্তচাপ বৃদ্ধিকে বোঝায়।
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/14/paediatric-hypertension-explained-3-2026-01-14-20-45-48.jpg)
রক্তচাপ বৃদ্ধি
শিশুদের ক্ষেত্রে রক্তচাপ বিচার করার পদ্ধতি বড়দের থেকে আলাদা। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই শিশুর রক্তচাপও ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়। তাই চিকিৎসকেরা শিশুদের রক্তচাপ নির্ধারণ করতে বয়স, লিঙ্গ এবং উচ্চতার ভিত্তিতে বিশেষ চার্ট (percentile) ব্যবহার করেন। কোনও শিশুর রক্তচাপ যদি বারবার মাপার পর তার বয়স ও উচ্চতা ৯৫তম পার্সেনটাইল (percentile) বা তার বেশি থাকে, তখনই তাকে পেডিয়াট্রিক হাইপারটেনশন (paediatric hypertension) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/14/paediatric-hypertension-explained-4-2026-01-14-20-45-48.jpg)
বিরল সমস্যা
একসময় এই সমস্যাকে খুবই বিরল বলে মনে করা হত। কিন্তু সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান ভিন্ন কথা বলছে। বিশ্বজুড়ে বর্তমানে প্রায় ৪ থেকে ৬ শতাংশ শিশু উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত। ২০০০ সাল থেকে ২০২০ সালের মধ্যে এই হার প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে বলে একাধিক গবেষণায় উঠে এসেছে। ২০২০ সালের মধ্যে প্রায় ১১ কোটিরও বেশি শিশু ও কিশোর এই সমস্যার আওতায় পড়েছে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। এই পরিসংখ্যান চিকিৎসক মহলে যথেষ্ট উদ্বেগ তৈরি করেছে।
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/14/paediatric-hypertension-explained-5-2026-01-14-20-45-48.jpg)
চাইল্ডহুড ওবেসিটি
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের উচ্চ রক্তচাপ বাড়ার অন্যতম বড় কারণ হল চাইল্ডহুড ওবেসিটি (childhood obesity) বা শিশুদের মধ্যে স্থূলতার বৃদ্ধি। অতিরিক্ত ওজন শরীরের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে, যার প্রভাব সরাসরি রক্তচাপে পড়ে। শুধু তাই নয়, স্থূলতার সঙ্গে প্রায়ই উচ্চ কোলেস্টেরল, টাইপ ২ ডায়াবেটিস এবং শারীরিক নিষ্ক্রিয়তার মত সমস্যাও জড়িত থাকে। এই সব মিলেই শিশুদের হৃদ্যন্ত্র এবং রক্তনালির ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ সৃষ্টি হয়।
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/14/paediatric-hypertension-explained-6-2026-01-14-20-45-48.jpg)
পেডিয়াট্রিক হাইপারটেনশন
পেডিয়াট্রিক হাইপারটেনশন (paediatric hypertension) ধরা পড়া বেশ কঠিন, কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এর কোনও স্পষ্ট উপসর্গ দেখা যায় না। শিশুরা সাধারণত মাথা ঘোরা, বুকে ব্যথা বা শ্বাসকষ্টের মত লক্ষণ প্রকাশ করে না। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় রক্তচাপ মাপা অত্যন্ত জরুরি। চিকিৎসকেরা সাধারণত বছরে অন্তত একবার রুটিন চেকআপে শিশুদের রক্তচাপ পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন। যদি কোনও শিশুর রক্তচাপ ৯০তম পার্সেনটাইল (percentile)–এর ওপরে থাকে, তাহলে পুনরায় একাধিকবার মাপার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয় সে সত্যিই উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত কি না।
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/14/paediatric-hypertension-explained-7-2026-01-14-20-45-48.jpg)
গবেষণার ফলাফল
এই সমস্যাটি কেন এত গুরুত্বপূর্ণ, তা বোঝা খুব দরকার। শৈশবে উচ্চ রক্তচাপ থাকলে তা ধীরে ধীরে হৃদ্যন্ত্র, কিডনি এবং রক্তনালীর ক্ষতি করতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে বড় হয়ে হৃদরোগ, স্ট্রোক বা কিডনি সমস্যার ঝুঁকি বেড়ে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব শিশু উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত, তাদের প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায়ও হাইপারটেনশন হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে।
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/14/paediatric-hypertension-explained-8-2026-01-14-20-45-48.jpg)
জীবনযাত্রার পরিবর্তন
চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রথমেই দেখা হয়, রক্তচাপ বাড়ার পেছনে কোনও নির্দিষ্ট কারণ রয়েছে কি না। অনেক সময় কিডনি রোগ, হরমোনজনিত সমস্যা বা জেনেটিক কারণেও শিশুদের রক্তচাপ বাড়তে পারে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই জীবনযাত্রার পরিবর্তনই সবচেয়ে কার্যকর চিকিৎসা। স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, নিয়মিত শরীরচর্চা, সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং অতিরিক্ত নুন ও মিষ্টিজাত খাবার কমানো—এই বিষয়গুলিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/14/paediatric-hypertension-explained-2026-01-14-20-45-48.jpg)
লাইফস্টাইল মডিফিকেশন
শিশুদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকেরা সাধারণত ওষুধ দেওয়ার আগে লাইফস্টাইল মডিফিকেশন (lifestyle modification)–এর ওপর জোর দেন। তবে যদি রক্তচাপ খুব বেশি থাকে বা জীবনযাত্রার পরিবর্তনেও কাজ না হয়, তখন বিশেষজ্ঞের পরামর্শে ওষুধ দেওয়া হতে পারে। সময়মতো শনাক্তকরণ এবং সঠিক চিকিৎসা শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে। সব মিলিয়ে বলা যায়, পেডিয়াট্রিক হাইপারটেনশন (paediatric hypertension) এখন আর বিরল কোনও সমস্যা নয়। সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এবং স্বাস্থ্যকর অভ্যাসই এই নীরব বিপদ থেকে শিশুদের সুরক্ষিত রাখতে পারে।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us