/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/08/sneezing-myth-1-2026-01-08-18-00-10.jpg)
Sneezing Myth: হাঁচি নিয়ে রয়েছে নানা কুসংস্কার।
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/08/sneezing-myth-2-2026-01-08-18-00-42.jpg)
হাঁচি সম্পর্কে রয়েছে নানা কুসংস্কার
Sneezing Myth: আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এমন অনেক বিশ্বাস রয়েছে, যেগুলি আমরা ছোটবেলা থেকেই দেখে ও শুনে বড় হয়েছি। তার মধ্যে অন্যতম হল বেরোনোর সময় হাঁচি দেওয়া। কোনও শুভ কাজে যাওয়ার আগে বা গুরুত্বপূর্ণ কাজে বেরোনোর মুহূর্তে হাঁচি এলে অনেকেই সঙ্গে সঙ্গে থেমে যান। বাড়ির বয়স্করা বলেন, এই সময় হাঁচি দেওয়া মানে অশুভ ইঙ্গিত। ফলে কয়েক মিনিট বসে থাকা, জল খাওয়া বা যাত্রা পিছিয়ে দেওয়ার চল রয়েছে বহু পরিবারে। কিন্তু প্রশ্ন হল, এই বিশ্বাসের কোনও বাস্তব ভিত্তি আছে কি না।
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/08/sneezing-myth-3-2026-01-08-18-00-42.jpg)
শারীরবৃত্তীয় প্রতিক্রিয়া
হাঁচি আদতে একটি স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রতিক্রিয়া। নাকের ভিতরে ধুলো, অ্যালার্জি, ঠান্ডা বাতাস বা হালকা সংক্রমণ হলেই হাঁচি আসতে পারে। শরীর নিজেকে সুরক্ষিত রাখার জন্যই এই প্রতিক্রিয়া দেখায়। হাঁচির সঙ্গে সময়, জায়গা বা ভবিষ্যৎ ঘটনার কোনও সরাসরি যোগ নেই। তা সত্ত্বেও বহু মানুষ আজও বিশ্বাস করেন যে ঠিক বেরোনোর মুহূর্তে হাঁচি এলে বিপদের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/08/sneezing-myth-4-2026-01-08-18-00-42.jpg)
শাস্ত্রে হাঁচির উল্লেখ
শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যার দিকে তাকালে দেখা যায়, প্রাচীন গ্রন্থে হাঁচি নিয়ে নানা উল্লেখ রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, যাত্রা শুরুর একেবারে মুহূর্তে যদি নিজে হাঁচি দেন, তা হলে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করাই শ্রেয়। বিশ্বাস করা হয়, এই বিরতি অশুভ প্রভাব কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে। আবার বলা হয়, যদি কিছু সময় পরে পুনরায় হাঁচি আসে বা অন্য কেউ হাঁচি দেন, তা হলে যাত্রা শুরু করা যেতে পারে। এই বিশ্বাসগুলির মূল উদ্দেশ্য ছিল সম্ভবত মানুষকে কিছুক্ষণের জন্য থামিয়ে চিন্তাভাবনার সুযোগ দেওয়া।
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/08/sneezing-myth-5-2026-01-08-18-00-42.jpg)
হাঁচি যখন শুভ
তবে শাস্ত্রে কেবল অশুভ ইঙ্গিতের কথাই বলা হয়নি। কিছু বিশ্বাস অনুযায়ী, রাতে খাওয়ার পর হাঁচি এলে সেটিকে শুভ সংবাদ পাওয়ার লক্ষণ হিসেবেও ধরা হয়। অর্থাৎ একই শারীরিক প্রতিক্রিয়াকে কখনও অশুভ, কখনও শুভ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এখানেই প্রশ্ন ওঠে, যদি হাঁচি সত্যিই ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করত, তবে তার অর্থ কি সব পরিস্থিতিতেই এক রকম হত না?
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/08/sneezing-myth-6-2026-01-08-18-00-42.jpg)
বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে
বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে হাঁচির সঙ্গে শুভ বা অশুভের কোনও সম্পর্ক নেই। এটি সম্পূর্ণভাবেই শরীরের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। ঠান্ডা, ধুলো, সংবেদনশীল নাক, আবহাওয়ার পরিবর্তন কিংবা হালকা সংক্রমণ থেকেই হাঁচি হতে পারে। অনেক সময় মানসিক চাপ বা হঠাৎ তীব্র আলোতেও হাঁচি আসে। এই সব কারণের সঙ্গে ভবিষ্যৎ বিপদের কোনও যোগসূত্র নেই বলেই বিজ্ঞানের মত।
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/08/sneezing-myth-7-2026-01-08-18-00-42.jpg)
ভিত্তি মানুষের অভিজ্ঞতা এবং ভয়
আসলে এই ধরনের কুসংস্কার গড়ে ওঠে মানুষের অভিজ্ঞতা ও ভয়ের ওপর ভিত্তি করে। কেউ হয়তো বেরোনোর সময় হাঁচি দিয়েছিলেন এবং পরে কোনও অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটেছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই মনে গেঁথে যায় যে হাঁচির সঙ্গে বিপদের যোগ আছে। অথচ আমরা ভুলে যাই, বহুবার হাঁচি দিয়েও কোনও অঘটন ঘটেনি। মানুষের মন খারাপ ঘটনাকেই বেশি মনে রাখে, ভালো ঘটনাগুলি সহজে ভুলে যায়।
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/08/sneezing-myth-8-2026-01-08-18-00-42.jpg)
আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই
বেরোনোর আগে হাঁচি এলে আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। বরং নিজের শরীরের দিকে নজর দেওয়া জরুরি। ঘনঘন হাঁচি হলে বা তার সঙ্গে জ্বর, সর্দি, শ্বাসকষ্ট থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই উচিত। হাঁচিকে ভয় না পেয়ে সেটিকে শরীরের স্বাভাবিক সংকেত হিসেবে দেখা তাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/08/sneezing-myth-9-2026-01-08-18-00-42.jpg)
অশুভ ধারণা
শেষ পর্যন্ত বলা যায়, বেরোনোর সময় হাঁচি দেওয়া নিয়ে যে অশুভ ধারণা প্রচলিত রয়েছে, তার কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। এটি মূলত সামাজিক বিশ্বাস ও প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা কুসংস্কারের ফল। সচেতনতা এবং যুক্তিবোধই পারে এই ধরনের ভ্রান্ত ধারণা থেকে আমাদের মুক্ত করতে।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us