/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/08/madhav-gadgil-1-2026-01-08-21-06-23.jpg)
Madhav Gadgil: মাধব গাডগিল।
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/08/madhav-gadgil-2-2026-01-08-21-07-58.jpg)
প্রবীণ পরিবেশবিদ
Veteran Ecologist Madhav Gadgil: ভারতের পরিবেশ আন্দোলন ও আধুনিক পরিবেশবিজ্ঞানের ইতিহাসে যে কয়েকজন মানুষের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে, তাঁদের অন্যতম হলেন মাধব গাডগিল। প্রবীণ পরিবেশবিদ (Veteran Ecologist Madhav Gadgi) হিসেবে তিনি শুধু একজন বিজ্ঞানীই নন, ছিলেন একজন দার্শনিক, নীতিনির্ধারক এবং সাধারণ মানুষের পাশে থাকা নিরলস যোদ্ধা। পরিবেশ সংরক্ষণ যে কেবল গবেষণাগারের চার দেয়ালের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং মানুষের জীবনযাত্রা, অধিকার ও সামাজিক ন্যায়ের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত—এই ভাবনাই তিনি আজীবন তুলে ধরেছেন।
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/08/madhav-gadgil-3-2026-01-08-21-07-58.jpg)
পুনেতে জন্ম
মাধব ধনঞ্জয় গাডগিলের জন্ম ১৯৪২ সালের ২৪ মে মহারাষ্ট্রের পুনে শহরে। ছোটবেলা থেকেই প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য ও প্রাণীজগতের প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহ ছিল। ভারতে জীববিজ্ঞান ও প্রাণিবিদ্যায় পড়াশোনা শেষ করার পর তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে যান। সেখানে গণিতভিত্তিক পরিবেশবিদ্যায় পিএইচডি করেন। তাঁর শিক্ষা জীবনই প্রমাণ করে যে তিনি তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি বাস্তব পরিবেশ সমস্যার সমাধান খোঁজার দিকে বিশেষভাবে মনোযোগী ছিলেন।
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/08/madhav-gadgil-4-2026-01-08-21-07-58.jpg)
বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স
পড়াশোনা শেষ করে ভারতে ফিরে এসে তিনি বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্সে যোগ দেন। এখানেই তিনি প্রতিষ্ঠা করেন সেন্টার ফর ইকোলজিক্যাল সায়েন্সেস, যা আজও ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পরিবেশ গবেষণা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিবেশবিদ্যা, সংরক্ষণ জীববিজ্ঞান, মানব পরিবেশবিদ্যা ও পরিবেশ ইতিহাসের মতো বিষয়ে তিনি পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করেন। তাঁর গবেষণা শুধু ভারতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, আন্তর্জাতিক স্তরেও তাঁর কাজ বিশেষ সম্মান পেয়েছে।
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/08/madhav-gadgil-5-2026-01-08-21-07-58.jpg)
পশ্চিমঘাট বাঁচাও
গাডগিলের নাম বিশেষভাবে উচ্চারিত হয় পশ্চিমঘাট বাঁচাও প্রসঙ্গে। ২০১০ সালে তিনি ওয়েস্টার্ন ঘাটস ইকোলজি এক্সপার্ট প্যানেলের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন, যা পরবর্তীকালে গাডগিল কমিশন নামে পরিচিতি পায়। পশ্চিমঘাট ভারতের অন্যতম জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ অঞ্চল এবং একইসঙ্গে অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি পরিবেশ ব্যবস্থা। গাডগিল কমিশনের রিপোর্টে এই অঞ্চলের পরিবেশ রক্ষার জন্য কঠোর কিন্তু প্রয়োজনীয় সুপারিশ করা হয়। টেকসই উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও স্থানীয় মানুষের স্বার্থ রক্ষার মধ্যে ভারসাম্য রাখার কথাই ছিল এই রিপোর্টের মূল কথা।
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/08/madhav-gadgil-6-2026-01-08-21-07-58.jpg)
মানুষকেন্দ্রিক পরিবেশবিদ্যা
তবে তাঁর চিন্তাভাবনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল মানুষকেন্দ্রিক পরিবেশবিদ্যা। তিনি বিশ্বাস করতেন, পরিবেশ রক্ষা কখনওই কেবল সরকারি নির্দেশ বা আইনের মাধ্যমে সম্ভব নয়। স্থানীয় মানুষ, আদিবাসী সমাজ ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে সঙ্গে নিয়ে তবেই প্রকৃত সংরক্ষণ সম্ভব। এই দর্শনই তাঁকে বনাধিকার আইন তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সাহায্য করে। এই আইন বনবাসী ও আদিবাসী জনগণের অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/08/madhav-gadgil-7-2026-01-08-21-07-58.jpg)
বহু পুরস্কার
মাধব গাডগিলের কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি দেশ ও বিদেশে বহু পুরস্কার পান। ভারত সরকার তাঁকে পদ্মশ্রী ও পদ্মভূষণ সম্মানে ভূষিত করে। আন্তর্জাতিক স্তরে তাঁর অবদানের স্বীকৃতি আসে আরও পরে। ২০২৪ সালে তিনি রাষ্ট্রসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির সর্বোচ্চ সম্মান ‘চ্যাম্পিয়ন্স অব দ্য আর্থ’-এর আজীবন সম্মাননা লাভ করেন, যা তাঁর জীবনের অন্যতম বড় পুরস্কার হিসেবে বিবেচিত হয়। ২০২৬ সালের ৭ জানুয়ারি পুনেতে ৮৩ বছর বয়সে মাধব গাডগিলের প্রয়াণ ঘটেছে। তাঁর মৃত্যুতে শুধু ভারত নয়, গোটা বিশ্বের পরিবেশ বিজ্ঞানী ও পরিবেশকর্মীরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি রেখে গেছেন এক বিশাল বৌদ্ধিক ঐতিহ্য, যা আগামী প্রজন্মের গবেষক, নীতিনির্ধারক ও পরিবেশ আন্দোলনকারীদের পথ দেখাবে। গাডগিলের জীবন আমাদের শেখায় যে প্রকৃতি রক্ষা মানে শুধু বন, নদী বা পাহাড় বাঁচানো নয়, বরং মানুষের জীবন, সংস্কৃতি ও ভবিষ্যৎকেও সুরক্ষিত করা। তাঁর চিন্তা ও আদর্শ চিরকাল প্রাসঙ্গিক হয়ে থাকবে।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us