scorecardresearch

বড় খবর

মিনি ভারতের জয়ই দিল্লির মসনদ দখলের হাতিয়ার তৃণমূলের, কোন অঙ্কে ছক কষছেন মমতা?

আগেই বলেছিলেন ‘ভি মানে ভবানীপুর, ভি মানে ভারত’। এদিনের জয়ের পর এবার মমতার টার্গেট দিল্লির কুর্সি।

After the victory in Bhabanipur tmc is desperate to win 2024 Loksabha poll
মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

ভবানীপুরের উপনির্বাচনের প্রচারেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, এই ভবানীপুরই দেশের পথ দেখাবে। ‘বি মানে ভবানীপুর, বি মানে ভারত’। প্রত্যাশামতো ভবানীপুরের উপনির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন হেভিওয়েট তৃণমূল প্রার্থী। ব্য়বধান ৫৮ হাজারের বেশি। তাহলে এবার কি টার্গেট ২০২৪? তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব এবার সেই বার্তাই দিচ্ছেন। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, এই বিশাল ব্যবধানে মমতার জয় দিল্লি যাত্রার ক্ষেত্র ত্বরান্বিত করতে সাহায্য় করবে। সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে এই প্রচারও সামনে আনবে তৃণমূল।

ভবানীপুরের উপনির্বাচনের এই জয় তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নানা দিক থেকে স্বস্তি এনে দিল। অভিজ্ঞ মহলের মতে, প্রথমত নন্দীগ্রামের হারের জ্বালা কিছুটা হলেও মিটবে। যদিও নন্দীগ্রামের পরাজয়কে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছেন তৃণমূলনেত্রী। দ্বিতীয়ত, বিধায়ক না হয়েও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন। অতএব এই জয় খুবই জরুরি ছিল তাঁর কাছে। তাছাড়া উপনির্বাচন হলেও বিজেপির সদ্য নিযুক্ত রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী-সহ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন এই উপনির্বাচনের প্রচারে। তা যে কোনও কাজেই এল না তা এদিনের ফলাফল প্রমাণ করে দিল। সর্বোপরি তৃণমূলের দিল্লি অভিযানের ডাকে এই জয় সহায়ক হবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

আরও পড়ুন- তিন কেন্দ্রেই বিরাট জয় তৃণমূলের, ভবানীপুরে রেকর্ড মমতার

এই উপনির্বাচন এবং বাকি দুই কেন্দ্র জঙ্গিপুর ও সামশেরগঞ্জের ভোটে তৃণমূলের প্রচারে সর্বভারতীয় রাজনীতি যথেষ্ট প্রাধান্য পেয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী তো সরাসরি ভবানীপুর থেকে ভারত জয়ের ডাক দিয়েছিলেন। দলের দ্বিতীয় সেনাপতি সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও মোদির দিকে নিশানা করেছেন। এমনকী কংগ্রেস নয় তৃণমূল কংগ্রেসই পারে বিজেপিকে হারাতে সেকথা বারে বারে মনে করিয়ে দিয়েছেন তিন কেন্দ্রের ভোটারদের। রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যের তিন কেন্দ্রের ভোট হলেও তৃণমূল কংগ্রেসের লক্ষ্য ছিল দিল্লি। জয় নিয়ে তারা ভাবেননি ২০২৪ যে তাদের লক্ষ্য সেকথাই বারে বারে মনে করিয়ে দিয়েছেন।

আরও পড়ুন- নজির, ভবানীপুরে তৃণমূলের ৮-এ ৮, উচ্ছ্বসিত মমতা

তৃণমূল কংগ্রেস ইতিমধ্যে ত্রিপুরায় পা দিয়ে সাড়া ফেলেছে। সেখানে অন্য দল থেকে তৃণমূলে যোগদান চলছে। গোয়ায় কংগ্রেসের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী-সহ একঝাঁক কংগ্রেস নেতা তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কন্যা প্রাক্তন সাংসদ সুস্মিতা দেবকে দলে এনে তৃণমূল কংগ্রেসে রাজ্যসভায় সাংসদ করেছে। অসম-সহ উত্তর-পূর্ব ভারতে সংগঠন বিস্তারের কাজে লেগে পড়েছেন সুস্মিতা। পরিস্থিতি এমনই দাঁড়িয়েছে আদালতে তৃণমূলের হয়ে লড়াই করা বিশিষ্ট আইনজীবী কংগ্রেস নেতা কপিল সিব্বলকে নিয়েও রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। ভবানীপুরের এই জয়ের পর তৃণমূলের মনোবল আরও বেড়ে গেল তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

আরও পড়ুন- জয়ের জন্য মমতাকে অভিনন্দন জানিয়েও টিপ্পনি সুকান্তর, ‘ছাপ্পা ভোট’ তত্ত্বে জোর প্রিয়াঙ্কার

সারা দেশে মোদি বিরোধী মুখ হিসাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তুলে ধরছে তৃণমূল কংগ্রেস। ভবানীপুর কেন্দ্রে অবাঙালি ভোটারও যথেষ্ট উল্লেখযোগ্য। রাজনৈতিক মহলের মতে, এমন একটি ‘মিনি ভারত’-এ মমতার বিপুল জয় সর্বভারতীয় ক্ষেত্রেও গুরুত্ব পাচ্ছে। তৃণমূল নেতৃত্বও হিসেব দিয়ে বলছে অবাঙালি বুথেও তৃণমূল ব্যাপক লিড পেয়েছে। একদিকে তৃণমূলের জয়, অন্যদিকে বিজেপির বিপুল ব্যবধানে পরাজয়। এই ফলাফল তৃণমূল কংগ্রেস দিল্লি যাত্রায় বাড়তি মাত্রা যোগ করবে তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

 ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলা এখন টেলিগ্রামে, পড়তে থাকুন

Stay updated with the latest news headlines and all the latest Politics news download Indian Express Bengali App.

Web Title: After the victory in bhabanipur tmc is desperate to win 2024 loksabha poll