বাংলাদেশে আক্রান্ত সংখ্যালঘু হিন্দুরা। প্রতিবাদে সরব ভারত। ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার সেদেশের হিন্দুদের সুরক্ষায় এবার সংশোধীত নাগরিকত্ব আইনের (সিএএ) সংশোধনের দাবি তুললেন কংগ্রেস নেতা মিলিন্দ দেওরা। সিএএ-এর বিরুদ্ধে শুরু থেকেই সোচ্চার কংগ্রেস। দেশের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির দাবি এই আইন ধর্মের ভিত্তিতে তৈরি। কিন্তু, এবার প্রভাবশালী কংগ্রেস নেতাই বাংলাদেশের ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হিন্দুদের রক্ষায় সিএএ আইনের সংশোধনের দাবি জানালেন। ভারতীয় রাজনীতির প্রেক্ষিতে যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
টুইটবার্তায় মিলিন্দ দেওরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর অত্যাচারের ঘটনা 'অত্যন্ত উদ্বেগজনক'। তবে, এই ঘটনার রেশ ধরে তাঁর আর্জি, ভারতীয় মুসলিমদের বাংলাদেশী ইসলামিক মৌলবাদীদের সঙ্গে যেন একীভূত করে দেখা না হয়।
মঙ্গলবার টুইটে কংগ্রেস নেতা মিলিন্দ দেওয়া লিখেছেন, 'বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ধর্মীয় নীপিড়নের শিকার সেদেশের হিন্দুদের রক্ষা ও পুনর্বাসনের লক্ষ্যে সিএএ আইনে সংশোধন আবশ্যক। ভারতীয় মুসলমানদের বাংলাদেশী ইসলামপন্থীদের সঙ্গে একীভূত করে যে কোন সাম্প্রদায়িক উস্কানির প্রচেষ্টা ভারতকেও প্রত্যাখ্যান ও ব্যর্থ করতে হবে।'
সম্প্রতি বাংলাদেশের কুমিল্লায় পুজোমণ্ডপে ভাঙচুর চালায় দুষ্কৃতীরা। পরে, নোয়াখালির ইস্কন মন্দিরেও হামলা হয়। উদ্ধার হয় এক ভক্তের দেহ। হিংসা ক্রমশ ছড়িয়ে পড়তে থাকে। জানা গিয়েছে, রংপুর জেলায়ও হিন্দুদের ৯টি বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই সাম্প্রদায়িক হিংসায় মৃত্যু
হয়েছে বেশ কয়েকজনের।
আরও পড়ুন- বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর হামলার প্রতিবাদে গর্জে উঠল আমেরিকা
এই ঘটনায় উদ্বিগ্ন ভারত। জানা গিয়েছে, হাসিনা প্রশাসনকে কড়া হাতে পরিস্থিতি মোকাবিলার আবেদন জানানো হয়েছে নয়াদিল্লির তরফে। প্রতিনিয়ত বাংলাদেশের মোতায়েন ভারতীয় রাষ্ট্রদূতেদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে সাউথ ব্লক।
সাম্প্রদায়িক হিংসা মাথাচাড়া দিতেই কড়া বার্তা দিয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেছিলেন যে, 'বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক চেতনার দেশ। বাংলাদেশের সকল ধর্ম-বর্ণের একসঙ্গে বসবাস করবেন। যাঁর যাঁর ধর্ম, তাঁরা পালন করবেন। অর্থাৎ ধর্ম যাঁর যাঁর, কিন্তু উৎসব সকলের। বাংলাদেশে এটা সবসময় ছিল, থাকবেও। প্রত্যেকে সেই উৎসব সামিল হয়ে একসঙ্গে উপভোগ করেন। কিন্তু মাঝেমাঝে কিছু কিছু দুষ্টচক্র কিছু ঘটনা ঘটিয়ে মানুষের এই চেতনাকে নষ্ট করতে চায়। এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। কয়েকদিন আগে কুমিল্লায় যে ঘটনা ঘটেছে, তা নিয়ে ব্যাপক তদন্ত হচ্ছে। কিছু কিছু তথ্যও আমরা পাচ্ছি। অবশ্যই এই ধরনের ঘটনা যারা ঘটাবে, তাদের আমরা খুঁজে বের করবই। আমরা বের করতে পারব। এখন প্রযুক্তির যুগ। এটা বের করা যাবে। সে যেই হোক না কেন, যে ধর্মের হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে যথাযখ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তা আমরা করেছি এবং করব।'
সিএএ কী?
ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান থেকে সেখানকার
সংখ্যালঘু (হিন্দু, খ্রিষ্টান, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি) ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ভারতে এসেছেন তাঁদের নির্দিষ্ট তথ্য ও আবেদনের ভিত্তিতে এ দেশের নাগরিক্ত দেওয়া হবে।
আরও পড়ুন- Exclusive: ‘ধর্মের নামে রাজনীতি হলে ধর্মের নামে সন্ত্রাসও হবে’, বললেন শাহরিয়ার কবীর
Read in English
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলা এখন টেলিগ্রামে, পড়তে থাকুন