/indian-express-bangla/media/post_attachments/wp-content/uploads/2021/02/Untitled-design-36.jpg)
ফাইল চিত্র।
শেষ জনসভায় মতুয়াদের উদ্দেশ্যে নাগরিকত্ব আইন নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিতে পারেনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী। ঠাকুরনগরের সভায় অমিত শাহ শুধু বলে গিয়েছেন, ‘গণ টিকাকরণ মিটলেই কার্যকরী হবে নাগরিকত্ব আইন।‘ সেই ঘোষণার সপ্তাহ ঘুরতেই ফের একবার বঙ্গ সফরে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এবার তাঁর সফরসুচির অংশ দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানা। সেখানে জনসভার পাশাপাশি করবেন রথ যাত্রার সূচনা। কিন্তু ঝটিকা এই সফরের ফাঁকে উদ্বাস্তু মন জয়ে বিশেষ উদ্যোগী বঙ্গ বিজেপি। তাই লক্ষ্মীবারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যহ্নভোজের আয়োজন করা হয়েছে এক মৎস্যজীবী পরিবারে।
জানা গিয়েছে, নামখানার নারায়ণপুরের সুব্রত বিশ্বাসের বাড়িতে বৃহস্পতিবার দুপুরের খাওয়ার খাবেন অমিত শাহ।তফশিলি জাতিভুক্ত উদ্বাস্তু এই পরিবার নিম্ন মধ্যবিত্ত। বাংলাদেশ থেকে নামখানা এসে কোনওভাবে একটা বসতি গড়ে তুললেও ফেরেনি সংসারের হাল। স্ত্রী, মেয়ে-সহ ছোট পরিবার সুব্রতর। এক আয়ে সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরায়। তাই পরিচারিকার কাজ করেন সুব্রতর স্ত্রী অর্চনা। অনেক বাছাই করে এমন একটা পরিবারে পাত পেড়ে খেতে চলেছেন অমিত শাহ। বিজেপি সূত্রে এমনটাই খবর।
এদিকে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরের আগে তাঁর নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে ইতিমধ্যেই দফায় দফায় স্থানীয় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী পর্যবেক্ষণ করেছে গোটা এলাকা। তার পর তোড়জোড় শুরু বিশ্বাস পরিবারে। গৃহকর্তা সুব্রত বলেন, ‘দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমার বাড়িতে আসছেন। আমরা ভীষণ খুশি। তাঁর জন্য বিশেষ কোনও খাবারের ব্যবস্থা না করতে পারলেও সামর্থ্য অনুযায়ী কয়েকটি নিরামিষ পদের আয়োজন করছি। এর মধ্যে যদি সম্ভব হয়, নিজেদের কথা তাঁকে জানাব।’
যদিও শাহের তফশিলি পরিবারে মধ্যহ্ন ভোজে রাজনীতি দেখছে বঙ্গ বিজেপি।দলের কলকাতা জোনের আহ্বায়ক দেবজিৎ সরকার বলছেন, ‘আমরা সংকীর্ণতার রাজনীতি করি না। তাই রাজনৈতিক পরিচয় না জেনেই নামখানার বিশ্বাস পরিবারে মধ্যাহ্নভোজন সারতে চলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সর্বস্তরের মানুষকে সঙ্গে নিয়েই বিজেপি গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই জারি রাখবে।’
গত বছর নভেম্বর মাসে বোলপুর সফরে এক বাউল শিল্পীর বাড়িতে মধ্যাহ্নভোজ সারেন অমিত। ওই বছরই ডিসেম্বরে নয়া কৃষি আইন নিয়ে দিল্লি যখন উত্তপ্ত ঠিক সে সময় মেদিনীপুরে এক কৃষকের বাড়িতেও দুপুরের খাবার খান তিনি। কোচবিহার সফরে আসার আগে গত ১০ ফেব্রুয়ারি অসমে বসবাসকারী কোচবিহারের রাজবংশি সম্প্রদায়ের মহারাজা হিসাবে পরিচিত অনন্ত রায়ের বাড়িতেও অতিথির ভূমিকায় দেখা যায় অমিতকে। অনন্তর বাড়িতে গিয়ে পিঠে এবং নাড়ু খান শাহ।
এবার সূত্রের খবর, সপ্তাহ খানেক আগে বিশ্বাস পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন বিজেপির দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার নেতারা। সেই প্রস্তাবে রাজি হয়ে যান সুব্রত। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জন্য ঘরোয়া এবং নিরামিষ খাবারের আয়োজন করতে চলেছেন তাঁরা। শাহের মেনুতে থাকতে পারে ভাত, ডাল, সবজির তরকারি, চাটনি, দই এবং মিষ্টি।