উত্তরাখণ্ডে ফের ক্ষমতায় বিজেপি। ৭০টির মধ্যে গেরুয়া শিবির পেয়েছে ৪৭টি আসন। কিন্তু পরাজিত হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি। খাতিমা কেন্দ্র থেকে হেরেছেন ৬০০০-এরও বেশি ভোটে।
'অ্যাকসিডেন্টাল চিফমিনিস্টার' হিসাবে বিবেচিত করা হয়েছিল ধামিকে। গত বছর তীরথ সিং রাওয়াত পদত্যাগ করলে মুখ্যন্ত্রীর ফাঁকা আসনে বসানো হয় ৪৬ বছরের ধামিকে। মুখ্যমন্ত্রীত্ব গ্রহণের ৬ মাসের মধ্যে ভোটে জিতে আসতে না পারায় সেরাজ্যে সাংবিধানিক সংকট দেখার ক্ষেত্র তৈরি হয়। ধামিকে বসিয়ে সেই সংকট রোধ করে বিজেপি। পুষ্কর সিং ধামি ছিলেন উত্তরাখণ্ডের দশম মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপির তরফে সপ্তম।
দুই বারের বিধায়ক ধামি, মুখ্যমন্ত্রী পদের জন্য অপেক্ষাকৃত অনভিজ্ঞ নেতা বলেই সকলে মনে করেন। তবে এবারের ভোটে কংগ্রেস প্রভাবিত কুমায়ুন অঞ্চলকে গুরুত্ব দিতেই ধামিকে রাজ্যে প্রশানের শীর্ষ পদে বসানো হয়েছিল। রাজ্যে কংগ্রেসের মুখ তথা মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হরিশ রাওয়াতও কুমায়ুনের বাসিন্দা। ফলে ধামিকে মুখ্যমন্ত্রী করে এক ঢিলে দুই পাখি মারতে চেয়েছিল বিজেপি। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের নির্বাচনে বিজেপি গাড়ওয়াল অঞ্চলে ৩৪টি আসন জিতেছিল, যা রাজ্যের সংখ্যাগরিষ্ঠতার সংখ্যা থেকে মাত্র দু'টি কম ছিল।
১৯৭৫ সালে পিথোরাগড়ে জন্মগ্রহণকারী ধামী ৩৩ বছর ধরে আরএসএস এবং এর সহযোগী সংস্থায় বিভিন্ন পদে কাজ করেছেন। তিনি ১০ বছর ধরে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের সদস্যও ছিলেন, সেই সময়ে তিনি উত্তর প্রদেশের অবধ প্রান্ত অঞ্চলে কাজ করেছিলেন। তিনি ২০০২-০৮ সাল পর্যন্ত দু'বার বিজেপির উত্তরাখণ্ড যুব মোর্চার সভাপতি ছিলেন।
২০০১-০২ সালে উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন ধামি ভগত সিং কোশিয়ারির ওএসডি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি রাজ্যে নগর পর্যবেক্ষণ কমিটির ভাইস-চেয়ারম্যানের (প্রতিমন্ত্রী পদ সমতুল্য) পদেও কাজ করেছেন। তিনি মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং শিল্প সম্পর্ক বিষয়ে আইন স্নাতক।
ধামি ঠাকুর সম্প্রদায়ভুক্ত। বিজেপি জাতপাতের সমীকরণে ভারসাম্য আনতে তাঁকেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে বেছে নিয়েছিলেন।
Read in English