মাথায় ২০২৪-এর লোকসভা ভোট, ইমেজ বদলানো ‘যুববাহিনী’কে মাঠ নামাচ্ছেন যোগী

২০১৭ সালে আদিত্যনাথ উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরই অবশ্য যুববাহিনী তার আক্রমণাত্মক আচরণগুলো বন্ধ করে দিয়েছে।

মাথায় ২০২৪-এর লোকসভা ভোট, ইমেজ বদলানো ‘যুববাহিনী’কে মাঠ নামাচ্ছেন যোগী

তখন তিনি গোরক্ষপুরের মহন্ত, পাশাপাশি সাংসদ। সেই সময় ২০০২ সালে হিন্দু যুববাহিনী গঠন করেছিলেন যোগী আদিত্যনাথ। কিছুদিনের মধ্যেই তাঁর সেই যুববাহিনী উত্তরপ্রদেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় রীতিমতো পরিচিতি পায়। বেছে বেছে যুবকদের হিন্দুত্বের নামে শারীরিক কসরত, লাঠিচালানো, অস্ত্রশিক্ষার প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করে এই যুববাহিনী।

সেই যোগী আদিত্যনাথই এখন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী। এই পরিস্থিতিতে তাঁর মুখ যাতে যুববাহিনীর জন্য না-পোড়ে সেই কথাও মাথায় রাখতে হচ্ছে যোগীকে। ৩ আগস্ট তিনি যুববাহিনীর উত্তরপ্রদেশের সমস্ত সাংগঠনিক ইউনিট ভেঙে দিয়েছেন। শীঘ্রই নতুন পদাধিকারীদের ইউনিটগুলো দায়িত্ব দেওয়া হবে। আর, সেটা করা হবে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখেই। এমনটাই যুববাহিনী সূত্রে খবর।

২০১৭ সালে আদিত্যনাথ উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরই অবশ্য যুববাহিনী তার আক্রমণাত্মক আচরণগুলো বন্ধ করে দিয়েছে। এখন অবশ্য তাদের লক্ষ্য উত্তরপ্রদেশ ছাড়িয়ে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে যুববাহিনীর বিস্তার। যদিও গোটা উত্তরপ্রদেশের সব জায়গায় এখনও যুববাহিনীর সেই সক্রিয়তা তৈরি হয়নি। তবে, গোরক্ষপুর, দেওরিয়া, কুশীনগর, আজমগড়, মউ, সন্ত কবির নগর-সহ পূর্ব উত্তরপ্রদেশে বিভিন্ন জেলায় বেশ শক্তিশালী এই সংগঠন।

সূত্রের খবর, মারকাট্টা ভাব ছেড়ে ইমেজ পুনরুদ্ধারের জন্য এবার যুববাহিনীকে অন্য চেহারা দিতে চান যোগী। যেখানে সদস্যপদ থাকবে। সংগঠনের পদাধিকারী আলাদা পরিচয়পত্র থাকবে। পাশাপাশি, শিক্ষিত, বুদ্ধিজীবী এবং অফিস কর্মী এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যেও সদস্য তৈরি করবে যুববাহিনী। সবটাই অবশ্য যোগীর ছত্রছায়ায়।

এই ব্যাপারে বিজেপির প্রাক্তন বিধায়ক ও যুববাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় প্রধান রাঘবেন্দ্র সিং বলেন, ‘আমরা যুববাহিনীকে বিলুপ্ত করে দিয়েছি। কারণ, একই নামের আরও কয়েকটি সংগঠন গত পাঁচ বছরে তৈরি হয়েছে। তাদের কাজকর্ম নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সেই কারণে আমরা আমাদের সংগঠন এক থেকে দুই মাসের মধ্যে পুনর্গঠন করব।’

আরও পড়ুন- মোদীর ডাকা নীতি আয়োগের বৈঠক এড়ালেন নীতীশ, তিন সপ্তাহে ৪ বার কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে গরহাজির

সূত্রের খবর, যুববাহিনীর পুনর্গঠনের সিদ্ধান্তে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশের সম্মতিও রয়েছে। তবে আইন-শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে যুব
বাহিনী যে কোনও প্রশাসনের কাছেই রীতিমতো চ্যালেঞ্জ। বিজেপি ক্ষমতায় আসার আগে মুলায়ম সিং যাদবের নেতৃত্বাধীন সরকার (২০০৪-০৭) এবং পরে মায়াবতীর শাসনকালে (২০০৭-২০১১) গোরক্ষপুর, মউ, আজমগড়, কুশীনগরে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও উত্তেজনার মামলায় যুববাহিনীর বেশ কয়েকজন সদস্য অভিযুক্ত।

যোগী ক্ষমতায় আসার পর শুধরে গেলেও চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেই, যুববাহিনীর প্রাক্তন রাজ্য প্রধান রাঘবেন্দ্র সিংকে সিদ্ধার্থ নগর জেলায় একটি ঘৃণামূলক বক্তব্যের মামলায় অভিযুক্ত করেছিল নির্বাচন কমিশন। রাঘবেন্দ্র সিং ডোমারিয়াগঞ্জ আসন থেকে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। কিন্তু, সমাজবাদী পার্টির কাছে হেরে গেছেন।

Read full story in English

Stay updated with the latest news headlines and all the latest Politics news download Indian Express Bengali App.

Web Title: Hindu yuva vahini set for a makeover

Next Story
মোদীর ডাকা নীতি আয়োগের বৈঠক এড়ালেন নীতীশ, তিন সপ্তাহে ৪ বার কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে গরহাজির