কলকাতা পুরনিগমে প্রশাসনিক বোর্ড গঠন করা নিয়ে ফের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি লিখে জবাব চাইলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। কলকাতা পুরনিগমে প্রশাসক বসানোর সিদ্ধান্ত তাঁকে কেন জানানো হয়নি? এর আগে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে এ কথা জানতে চেয়েছিলেন রাজ্যপাল। তাঁর অভিযোগ, সেই জাবাব মেলেনি। তাই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফের মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দেন রাজ্যপাল। সংবিধানের ১৬৭ নম্বর ধারা উল্লেখ করে রাজ্যপালের প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগ স্মরণ করিয়ে দেন।
৭ মে কলকাতা পুরনিগমের তৃণমূল বোর্ডের মেয়াদ শেষ হয়েছে। গত ৬ মে রাজ্য সরকার কলকাতা পুরসভায় প্রশাসক বোর্ড বসানোর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। রাজ্যের পুরমন্ত্রী তথা বিদায়ী মেয়র ফিরহাদ হাকিমকেই প্রশাসনিক বোর্ডের প্রধান ঘোষণা করে বিজ্ঞপ্তি জারি হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ ছিল ,জরুরি পরিস্থিতিতে রাজ্যপালের অনুমোদন অনুসারে রাজ্য সরকারের তরফে প্রশাসনিক বোর্ড গঠন করা হয়েছে। প্রশাসনিক বোর্ডই আপাতত পুরনিগমের রোজকার কাজ দেখভাল করবেন।
তাঁকে না জানিয়েই গোটা বিষয়টি করা হয়েছে বলে এরপরই নবান্নের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। মুখ্যসচিবকে চিঠি লিখে কলকাতা পুনিগমে প্রশাসক বাসানোর বিষয়ে জানতে চান। কিন্তু, উত্তর না গত ৭ মে মেলায় মুখ্যমন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়ে এ বিষয়েরর জবাব তলব করেন তিনি।
আরও পড়ুন- বন্দে ভারত মিশন: ‘ভিন দেশের ভারতীয়রা কেউ কলকাতায় ফিরতে চাইছেন না, এটা বিশ্বাসযোগ্য?’
এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও সেই জবাব মেলেনি বলে দাবি রাজ্যপালের। বৃহস্পতিবার ফের এ বিষয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি লেখেন তিনি। ফের কলকাতা পুরনিগমের প্রশাসনিক বোর্ড সদস্যদের বাছাই পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। চিঠিতে উল্লেখ, 'আপনি যেমন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আপনার দায়িত্বপূরণের ক্ষেত্রে সংবিধানকে অনুসরণ করে চলতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, আমিও রাজ্যপাল হিসেবে তার রক্ষণ ও নিরাপত্তাবিধানে। কেএমসির-র বিজ্ঞপ্তি সক্রান্ত যে তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে তা সঙ্গতভাবে অনুচ্ছেদ ১৬৭-র অন্তর্ভুক্ত... অনুচ্ছেদ ১৬৭ অনুযায়ী রাজ্যপালের প্রতি দায়িত্বপালনের ক্ষেত্রে আপনার এই লাগাতার নীরবতা দুর্ভাগ্যজনক ও অনুচ্ছেদ ১৬৪-র শপথের পরিপন্থী এবং সংবিধানের স্বত্তা ও ভাবেরও বিরোধী।'
প্রসঙ্গত, কলকাতা পুরনিগমে প্রশাসনিক বোর্ড গঠন ও ফিরহাদ হাকিমকে সেই বোর্ডের প্রধান করার বিরুদ্ধে ১২ মে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা গড়ায়। সিঙ্গল বেঞ্চ জানায় আগামী একমাস এই বোর্ডই কাজ চালাবে। এই রায়ের বিরুদ্ধে দুই বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন করা হয়। ডিভিশন বেঞ্চ আগামী জুলাই পর্যন্ত কলকাতা পুরনিগমের প্রশাসনির বোর্ডকে কাজ চালানোর নির্দেশ দিয়েছে।
Read in English
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলা এখন টেলিগ্রামে, পড়তে থাকুন