মেয়র হওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন এক সপ্তাহও হয়নি। এরইমধ্যে বুধবার ১৮০ ডিগ্রী ঘুরে বললেন, মেয়র হওয়ার ইচ্ছা নেই। বক্তা বিধাননগর পুরনিগমের চেয়ারপার্সন কৃষ্ণা চক্রবর্তী। বিধায়কদের নিয়ে এদিন বৈঠক করেছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু, তৃণমূল ভবনে হাজির হয়েছিলেন কৃষ্ণা চক্রবর্তী। এদিন তিনি তোপসিয়ার তৃণমূল ভবনে ছিলেনও দীর্ঘ সময়। মেয়রের বিরুদ্ধে অনাস্থা এনেছে তৃণমূল। তার মধ্য়ে চেয়ারপার্সনের তৃণমূল ভবনে এমন হাজিরা, সব মিলিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয় রাজনৈতিক মহলে।
কৃষ্ণা মেয়র হতে চেয়েছিলেন ২০১৫-তেই। ৮ জুলাই বিধাননগর পুরসভায় মেয়র সব্যসাচী দত্ত হঠাৎ চেয়ারপার্সন কৃষ্ণা চক্রবর্তীর দফতরে ঢুকে পড়েন। এরপরই বিতর্কিত মেয়রের পাশে বসে কৃষ্ণা চক্রবর্তী মন্তব্য করেছিলেন, তাঁর মেয়র হওয়া ইচ্ছা ছিল। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল, দল চাইলে এখনও তিনি মেয়র হতে রাজি আছেন। এই মন্তব্যের পর ফের জল্পনা সৃষ্ট হয়। উল্লেখ্য, চারবছর আগে যখন মেয়রপদে সব্যসাচীর নাম ঘোষণা হয়েছিল, তখন কৃষ্ণাদেবীর চোখে জল দেখা গিয়েছিল। তিনি ছিলেন পূর্বতন বিধাননগর পুরসভার পুরপ্রধান।
বৃহস্পতিবার তৃণমূল ভবনে দলের রণকৌশল ঠিক করতে সব বিধায়কদের নিয়ে বৈঠকে বসেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন বিধায়করা ছাড়া দলের সর্বভারতীয় যুব সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও প্রশান্ত কিশোরও ছিলেন তৃণমূল ভবনে। বিধাননগরের চেয়ারপার্সন কৃষ্ণা চক্রবর্তীকেও এদিন বৈঠকের আগে থেকেই উপস্থিত থাকতে দেখা যায় দলের প্রধান কার্যালয়ে। বিধাননগরের মেয়রের বিরুদ্ধে দলের কড়া সিদ্ধান্তের মধ্য়ে কৃষ্ণা চক্রবর্তীর ভবনে যাওয়া নিয়ে গুঞ্জন ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
বিধায়কদের বৈঠকের পর দেখা যায় কষ্ণা চক্রবর্তীও ভবন থেকে বেরিয়ে আসছেন। মেয়র কে হচ্ছেন সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "আমার মেয়র হওয়ার কোনও ইচ্ছা নেই"। কিন্তু এর বাইরে আর কোনও মন্তব্য করেননি বিধাননগরের চেয়ারপার্সন। দু'দিন আগেই তিনি বলেছিলেন, তার মেয়র হওয়ার ইচ্ছা কিন্তু, এদিন পুরো ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে যান বিধাননগরের এই তৃণমূলনেত্রী।
সব্যসাচীকে বাদ দিয়ে ডেপুটি মেয়র তাপস চট্টোপাধ্যায়কে মেয়রের ভূমিকা পালনে নির্দেশ দিয়েছে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। তিনি উন্নয়নপ্রক্রিয়া সচল রাখতে মেয়রপারিষদ ও পুরসভার প্রশাসনিক কর্তাদের নিয়ে বৈঠকও সেরে নিয়েছেন। তাঁর নেতৃত্বেই মেয়রের বিরুদ্ধে অনাস্থার উদ্যোগ নিয়েছে তৃণমূল।
রাজনৈতিক মহলের ধারনা, পরবর্তী মেয়র হওয়ার ক্ষেত্রে দল তাপস চট্টোপাধ্যায়ের উপরই ভরসা করছে। এদিকে মেয়রকে পাশে বসিয়ে নিজের ইচ্ছাপ্রকাশ করে যে বিতর্ক বাড়িয়েছেন কৃষ্ণা চক্রবর্তী, তা নিয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব রীতিমতো বিরক্ত বলেই সূত্রের খবর। তৃণমূল ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, এমন আলটপকা মন্তব্য না করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বিধাননগরের চেয়ারপার্সনকে।