scorecardresearch

বড় খবর

অধিবেশনের মধ্যেই খাড়গেকে তলব ইডি-র, ‘মোদীশাহি’ বলে তোপ দাগল কংগ্রেস

খাড়গে অভিযোগ করেন, সরকার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলোকে দিয়ে বিরোধীদের হতাশ করে দেওয়া ও ভয় দেখানোর চেষ্টা চালাচ্ছে।

kharge_goyel

একের পর এক কংগ্রেস নেতাদের ডেকে পাঠাচ্ছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। বৃহস্পতিবার এনিয়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠল রাজ্যসভার বাদল অধিবেশন। বাক্য বিনিময়ে জড়িয়ে পড়লেন বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা রাজ্যসভায় শাসকদলের নেতা পীযূষ গোয়েল। সভায় খাড়গে অভিযোগ করেন, সংসদের অধিবেশন চলাকালীন ইডি তাঁকে তলব করেছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইডির এভাবে ডেকে পাঠানো ন্যায়সঙ্গত কি না, সেই প্রশ্ন তিনি তোলেন।

পালটা, পীযূষ গোয়েল বলেন যে কংগ্রেস নেতাদের আইনের মুখোমুখি হওয়া উচিত। খাড়গে অভিযোগ করেন, সরকার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলোকে দিয়ে বিরোধীদের হতাশ করে দেওয়া ও ভয় দেখানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। পালটা গোয়েল দাবি করেন যে কেন্দ্রীয় সরকার আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কাজকর্মে হস্তক্ষেপ করে না।

বৃহস্পতিবার প্রশ্নোত্তর পর্বে বিষয়টির উত্থাপন করে খাড়গে বলেন, ‘রাজ্যসভা কাজ করছে এবং আমি বিরোধী দলনেতা। কিন্তু, এই মুহূর্তে সংসদের অধিবেশন চলাকালীন আমি ইডির থেকে সমন পেয়েছি তাদের কাছে উপস্থিত হওয়ার জন্য। এই মুহূর্তে যখন সংসদ কাজ করছে, তখন ইডির পক্ষ থেকে আমাকে তলব করা কি ন্যায়সঙ্গত?’ খাড়গে জানান, তিনি সমাজের একজন আইন মান্যকারী সদস্য। দুপুর সাড়ে বারোটায় তাঁকে ইডি অফিসে রওনা দিতে হবে।

একথা জানিয়ে খাড়গে বলেন, ‘আমি আইন এড়াতে চাই না। আমি আইন মেনেই চলতে চাই। কিন্তু, কংগ্রেস সভাপতি সনিয়া গান্ধী ও দলনেতা রাহুল গান্ধীর বাসভবন ইতিমধ্যেই পুলিশ ঘিরে রেখেছে। আমরা এভাবে চলতে থাকলে গণতন্ত্র কি বেঁচে থাকবে? আমরা কি করে আমাদের সংবিধান অনুযায়ী কাজ করব? এটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করা হচ্ছে আমাদের নিরাশ করার জন্য। আমাদের ধ্বংস করতে এবং ভয় দেখানোর জন্য। তবে আমরা ভয় পাব না, লড়াই করব। তবে, এইসব বিষয়ে সংসদে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।’

পালটা রাজ্যসভায় শাসকদলের নেতা পীযূষ গোয়েল দাবি করেন, ‘সরকার আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কাজে হস্তক্ষেপ করে না। কংগ্রেস নেতাদের আইনের মুখোমুখি হওয়া উচিত। আইনের হাত থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা উচিত না। একইসঙ্গে সংসদকে কাজ করতে দেওয়া উচিত।’
উলটে কংগ্রেসের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলে গোয়েল বলেন, ‘কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকাকালীন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কাজে হস্তক্ষেপ করত। আমাদের সরকার কোনওভাবেই আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কাজে হস্তক্ষেপ করে না। তাদেরকে নিজেদের কাজ করতে দেয়। কেউ যদি অন্যায় করে থাকেন, আইন তার নিজের পথে চলবে। বিরোধী দলনেতা যা বলছেন, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে। কংগ্রেস নেতারা জামিনে রয়েছেন। এখন কংগ্রেস নেতারা ও বিরোধী দলনেতার পালিয়ে না-গিয়ে আইন মেনে চলা উচিত।’

আরও পড়ুন- সামরিক মহড়ার নামে তাইওয়ানে তাণ্ডব, আকাশে চিনের যুদ্ধবিমান, জলসীমায় রণতরী

গোয়েল বলেন, ‘বিরোধী সদস্যদের কাছে এই কক্ষ কাজ করতে দেওয়ার আবেদন করেছিল। বিরোধী সদস্যদেরও নিজেদের চেয়ারের অপমান করা উচিত নয়। কিন্তু, দেখা যাচ্ছে যে বিরোধী সদস্যরা হাউসের ওয়েলে নেমে স্লোগান দিচ্ছেন। তা-ও কখন, না তো যখন প্রশ্নোত্তর পর্ব চলছে। এমনকী, তাঁরা ধাক্কাধাক্কি পর্যন্ত করছেন।’

রাজ্যসভায় কংগ্রেসের মুখ্য সচেতক জয়রাম রমেশ অভিযোগ করেন, ‘সংসদের অধিবেশনের মাঝখানে ইডি রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতাকে তলব করায় মোদীশাহি এক নতুন নিম্নস্তরে পৌঁছল।’ এই প্রসঙ্গে রমেশ টুইট করেন, ‘পার্লামেন্টের অধিবেশন চলাকালীন রাজ্যসভার বিরোধী দলের নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গেকে ইডি তলব করেছে। তিনি অবশ্য দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদই চলে গিয়েছেন। ইডির সামনে উপস্থিত হয়েছেন। এটাই মোদিশাহির নতুন করে নিম্নস্তরে পৌঁছনো।’

Read full story in English

Stay updated with the latest news headlines and all the latest Politics news download Indian Express Bengali App.

Web Title: Mallikarjun kharge and piyush goyal spar in rajya sabha over ed