বুথ ফেরত সমীক্ষায় পাঁচ রাজ্যর মধ্যে তিন রাজ্যই বিজেপির দখলে যেতে পারে। আসন কমলেও স্বস্তিজনক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়েই উত্তরপ্রদেশের ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন ঘটবে গেরুয়া শিবিরেরে। পাঞ্জাবে নজির গড়তে পারে আপ। মণিপুরেও ক্ষমতায় ফিরতে চলেছে পদ্ম-জোট। তবে, বুথ ফেরৎ সমীক্ষার রায়ে হাড্ডাহাড্ডা লড়াইয়ের ইঙ্গিত উত্তরাখণ্ড ও গোয়ায়।
সমীক্ষার রায়ে চাঙ্গা পদ্ম বাহিনী। তবে, চ্যালেঞ্জের সুর বিরোধী শিবিরের অন্দরেও। আপাতত রাত পোহালেই পাঁচ রাজ্যের ভোট গণনা। সেদিকেই তাকিয়ে সব শিবিরের বাঘা বাঘা নেতৃত্ব। চলছে বিভিন্ন সমীকরণ ও কৌশলের হিসাবনিকেষ।
মাত্র দুটি সমীক্ষা বাদে সব বুথ ফেরত সমীক্ষাই উত্তরপ্রদেশের মসনদ জয়ে এগিয়ে রেখেছে বিজেপিকে। তবে ২০১৭ সালের তুলনায় আসন সংখ্যা কিছুটা কমবে। কিন্তু, ম্যাজিক ফিগার ২০২টি আসন পেতে বিজেপিকে মোটেই কাটখড় পোহাতে হবে না বলেই ইঙ্গিত। তবে, এবার গতবারের চেয়ে ভোট বেশি পাবে সমাজবাদী পার্টি। তবে, কংগ্রেস এক অঙ্কের বেশি আসন পাবে না।
২০১৭ সালে মোদী ম্যাজিক ও উন্নয়নের মোড়কে জাঠ, অ-যাদব অনগ্রসর, অ-জাটভ দলিত শ্রেণির সঙ্গে ব্রাহ্মণ-ঠাকুর-বানিয়া উচ্চবর্ণের মিশেলে বিজেপি ৪০৩টির মধ্যে উত্তরপ্রদেশে এককভাবে পেয়েছিল ৩১২ আসন। পদ্মের জোটসঙ্গী আপনা দল ও এসবিএসপি পেয়েছিল মোট ১৩টি আসন। সবমিলিয়ে সাসক জোটের দখলে ছিল ৩২৫ আসন। বিরোধী সমাজবাদী পার্টি, বহিজন সমাজবাদী পার্টি ও কংগ্রেস জোট গড়েও হালে পানি পায়নি। এই মহাজোট পেয়েছিল মাত্রা ৪৭টি আসন।
পাঞ্জাবে এবার নজির গড়ে ক্ষমতা দখল করতে পারে আম আদমি পার্টি। সমীক্ষার ফলাফল বাস্তবায়িত হলে বিরোধী জোটে আশার আলো বাড়বে। জিতলে আপই হবে দেশের মধ্যে অন্যতম আঞ্চলিক দল যারা দ্বিতীয় রাজ্যে ক্ষমতা দখল করবে। ২০১৭ সালে ১১৭ আসনের মধ্যে ৭৭টি জিতে পাঞ্জাবে ক্ষমতায় ফেরে কংগ্রেস। গতবছপ প্রথমবার লড়েই আপ এই রাজ্যে পেয়েছিল ২০টি আসন। আকালি ও বিজেপি জোট পায় মাত্রা ১৮টি আসন। (আকালি দল ১৫ ও বিজেপি ৩টি)
উত্তরাখণ্ডে লড়াই হাড্ডাহাড্ডি। বিজেপিকে কয়েকটি সমীক্ষার ফলাফল এগিয়ে রাখলেও গেরুয়া শিবিরের কাজটা সোজা হবে না। কোনও দলকেই কোনও সমীক্ষাই ৪০টি বেশি আসন দেয়নি। ২০০০ সালে নয়া রাজ্য গঠনের পর থেকেই প্রতি পাঁচ বছর অন্তর উত্তরাখণ্ডে শাসক দল বদল হয়। এবারও সেই দারা বজায় থাকে কিনা সেটাই দেখার। ২০১৭ সালে মোট ৭৭ আসনের মধ্যে মোদী ম্যাজিকে ভর করে উত্তরাখণ্ডে ৫৭ আসন জয় করে ক্ষমতা দখল করে বিজেপি। ১১টি কংগ্রেসের দখলে যায়। বাকি দুটি আসন পায় নির্দল, যারা প্রথম থেকেই শাসক দল বিজেপির সঙ্গে ছিল।
সেয়ানে সেয়ানে লড়াইয়ের ইঙ্গিত আরব সাগরের তীরের রাজ্য গোয়াতেও। গতবার ৪০ আসনের গোয়ায় ১৭ আস পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হয় কংগ্রেস। বিজেপি পায় ১৩ আসন। তবে, গোয়া ফরওয়ার্ড পার্টি, এমজিপি ও নির্দলদের সহায়তায় বিজেপি গোয়ার ক্ষমতা দখল করেছিল।
এবার গোয়ায় লড়ছে তৃণমূল। তাদের জোট সঙ্গী মহারাষ্ট্র গোমন্ত্রক পার্টি। সমীক্ষার হিসাব এবার গোয়ায় এই জোট ২ থেকে ৫টা আসন পেতে পারে।
নিরঙ্কুশ গরিষ্ঠতা না পেলেও এবারও বিজেপি মণিপুরে সরকার গড়ার লড়াইয়ে এগিয়ে থাকবে বলেই সমীক্ষার রায়। ২০১৭ সালে এই রাজ্যের ভোট কংগ্রেস একক সংখ্যা গরিষ্ঠতা পেয়েছিল। ৬০ আসনের বিধানসভায় হাত শিবির জিতেছিল ২৮ আসন। বিজেপির ঝুলিতে যায় ২১ আসন। কিন্তি নাগা পিপলস ফ্রন্ট, ন্যাসনাল পিপস পার্টি, লোকজনশক্তি পার্টি ও এক নির্দল বিধায়কের সমর্থনে উত্তরপূর্বের এই রাজ্যে সরকার গড়ে বিজেপি। শাসক জোটের আসন দাঁড়া ৩১-এ।
সমীক্ষার ফল নিয়েই আপাতত কাটাছেঁড়ে চলছে সব শিবিরেরে। নানা সমীকরণের প্রেক্ষিতে উঠে আসছে বিভিন্ন হিসাব-নিকেষ। কর্নাটক ও মহারাষ্ট্রের কথা মাথায় রেখে জয়ী প্রার্থীদের অন্য শিবিরের থেকে সুরক্ষিত রাখতে কোন রিসর্ট সবচেয়ে নিরাপদ তারও জরিপ হয়ে গিয়েছে। গোয়া থেকে মণইপুর, দেরাদুনে ছুটোছুটি শুরু করেছেন কংগ্রেস নেতৃত্ব। দু'দিন আগেই দিল্লিতে উড়ে গিয়ে অমিত শাহর সঙ্গে দেখা করেছেন গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ান্ত।
উত্তজনা বাড়ছে। অপেক্ষা আর মাত্র কয়েক ঘন্টার। বৃস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুরু ভোট গণনা। পাঁচ রাজ্যের এই ভোটের রায়েই স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলতে পারে ২০২৪-য়ের নির্বাচনে ফলাফলের।
Read in English