East Bengal FC: দুরন্ত লড়েও হার, কোন অঙ্কে এএফসি উইমেন্স চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠবে ইস্টবেঙ্গল?

East Bengal FC: এএফসি মহিলা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ (AFC Women’s Champions League)-এ ইস্টবেঙ্গল (East Bengal) ০-২ হেরে গেল উহান জিয়াংদা (Wuhan Jiangda)-র কাছে।

East Bengal FC: এএফসি মহিলা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ (AFC Women’s Champions League)-এ ইস্টবেঙ্গল (East Bengal) ০-২ হেরে গেল উহান জিয়াংদা (Wuhan Jiangda)-র কাছে।

author-image
Chinmoy Bhattacharjee
New Update
East Bengal FC: ইস্টবেঙ্গল এফসি।

East Bengal FC: ইস্টবেঙ্গল এফসি।

East Bengal FC: এএফসি উইমেন্স চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ইস্ট বেঙ্গল মহিলা দলের দ্বিতীয় গ্রুপ ম্যাচটি ছিল চ্যালেঞ্জিং। প্রতিপক্ষ ছিল শক্তিশালী চীনা ক্লাব উহান জিয়াংদা, যারা এশিয়ার মহিলা ফুটবলে নিজেদের দীর্ঘদিন ধরেই শীর্ষ পর্যায়ে ধরে রেখেছে। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হল চীনের উহানে, সেখানে মাঠে স্থানীয় সমর্থকদের তুমুল উৎসাহে খেলতে নামে জিয়াংদা। অন্যদিকে, ভারতের মহিলা লিগ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে প্রথমবারের মতো এই মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে ইস্ট বেঙ্গল, যার ওপর নজর ছিল ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের।

Advertisment

ম্যাচের শুরু থেকেই উহান জিয়াংদা বল দখল এবং আক্রমণাত্মক ফুটবলের মাধ্যমে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে থাকে। পাসিং, মুভমেন্ট, ফ্ল্যাঙ্ক প্লে—সব ক্ষেত্রে তারা ছিল গোছানো এবং ধারালো। ইস্ট বেঙ্গলও যথাসাধ্য প্রতিরোধ গড়ে তোলে, বিশেষ করে রক্ষণভাগে দৃঢ়তা বজায় রাখতে চেষ্টা করে। কিন্তু চীনা দলের আক্রমণের তীব্রতা ততটাই বেশি ছিল যে ভারতীয় চ্যাম্পিয়নদের রক্ষণ চাপের সামনে বারবার নড়বড়ে হয়ে ওঠে।

আরও পড়ুন- ভারতীয় ফুটবলের কালো অধ্যায়, ফিফা ব়্যাঙ্কিংয়ে কতটা নীচে নামল জানেন?

Advertisment

ম্যাচের সবচেয়ে বড় তারকা ছিলেন চীনের সুপরিচিত ফুটবলার ওয়াং শুয়াং। জাতীয় দলে যেমন তিনি অসাধারণ নৈপুণ্য দেখান, ক্লাব ফুটবলেও তিনি একইভাবে প্রভাব বিস্তার করেন। ম্যাচের প্রথম গোল আসে তাঁর পা থেকেই ওপেন প্লে-তে। ডান দিক থেকে আসা একটি ক্রস বক্সের ভেতর পেয়ে তিনি চমৎকার নিয়ন্ত্রণে শট নেন, যা ইস্ট বেঙ্গলের গোলরক্ষককে কোনও সুযোগই দেয়নি। গোল পাওয়ার পর উহান জিয়াংদা আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠে এবং প্রথমার্ধজুড়ে প্রভাব বজায় রাখে।

আরও- দ্বিতীয় টেস্ট থেকে ছিটকে গেলেন শুভমন, গুয়াহাটিতে ভারতের নেতৃত্বে কে?

দ্বিতীয়ার্ধে ইস্ট বেঙ্গল কিছুটা ছন্দে ফেরার চেষ্টা করলেও প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ছিল অত্যন্ত সুশৃঙ্খল। মেরিনা, রিতু, দুলনির মতো ফুটবলাররা আক্রমণে উঠতে চাইলেও জিয়াংদার ডিফেন্স সহজে কোনও জায়গা দেয়নি। উপরন্তু মিডফিল্ডে বল ধরে রাখা বা থার্ড ম্যান রান তৈরি করা—এসব জায়গায় ইস্ট বেঙ্গল বারবার সমস্যায় পড়ে। ফলে গোলের পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে পারেনি ভারতীয় দল।

আরও পড়ুন- গুয়াহাটির উইকেট যেন 'অজানা রহস্য', লুকিয়ে রয়েছে কোন জুজু?

ম্যাচের দ্বিতীয় গোলটিও আসে ওয়াং শুয়াং-এর সৌজন্যে। বক্সের ভেতরে ইস্ট বেঙ্গলের একজন ডিফেন্ডারের ফাউলের কারণে পেনাল্টি পায় জিয়াংদা। শুয়াং ঠান্ডা মাথায় পেনাল্টিটি গোলে পরিণত করেন এবং ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। স্কোরলাইন ২-০ হয়ে গেলে ম্যাচের ফলাফল প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায়। শেষদিকে ইস্ট বেঙ্গল কিছু দ্রুত পাসিং এবং থ্রু-বল চেষ্টা করলেও জিয়াংদা কোনো ভুল করেনি এবং স্বাভাবিকভাবে ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণে রাখে।

আরও পড়ুন- রিঙ্কুর শতরান থেকে রোহিতের পদস্খলন, দেখে নিন দিনের সেরা ৫ খবর

উল্লেখযোগ্য যে, উহান জিয়াংদা প্রথম ম্যাচে উজবেক ক্লাব নাসাফের বিরুদ্ধে ১-১ ড্র করেছিল। তাই এই ম্যাচে জয়ের জন্য তারা ছিল আরও উদ্যমী ও মনোযোগী। অন্যদিকে, ইস্ট বেঙ্গল মহিলা দল প্রথমবার এশিয়ার সেরা প্রতিযোগিতায় খেলে নিজেদের অভিজ্ঞতা বৃদ্ধি করছে, যা ভবিষ্যতে তাদের আরও শক্তিশালী দলে পরিণত করবে।

এই পরাজয় সত্ত্বেও ইস্ট বেঙ্গলের খেলোয়াড়রা ম্যাচ শেষে দৃঢ় মনোভাব প্রকাশ করেছেন। তাঁরা জানিয়েছেন—এশিয়ার সেরা ক্লাবগুলোর বিরুদ্ধে খেলতে গিয়ে শেখার অনেক সুযোগ রয়েছে, যা ভারতের মহিলা ফুটবলের উন্নতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ফুটবল বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে ইস্ট বেঙ্গল ও অন্যান্য ভারতীয় মহিলা দলের খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক মানে ফুটবল খেলার আত্মবিশ্বাস দেবে।

দেখে নিন, কোয়ার্টার ফাইনালের অঙ্ক..

ইস্টবেঙ্গলের হাতে এখনো একটা ম্যাচ বাকি রয়েছে। আগামী রবিবার তারা নাসাফের বিরুদ্ধে খেলতে নামবে। ওই ম্যাচটা যদি ইস্টবেঙ্গল ড্র করতে পারে, তাহলেই কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে যাবে। ইতিপূর্বে ইরানের ফুটবল ক্লাব বাম খাতুন এফসি কে 3-1 গোলে হারিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। সেই ম্যাচ থেকে লাল হলুদ ব্রিগেড ৩ পয়েন্ট সংগ্রহ করেছিল। ফলে যদি আগামী ম্যাচটা ড্র করতে পারে তাহলেই পরের রাউন্ডে পৌঁছে যাবে মশাল গার্লসরা। আর জিতলে তো কথাই নেই।

East Bengal FC