/indian-express-bangla/media/media_files/2025/10/25/east-bengal-fc-21-2025-10-25-09-08-38.jpg)
এই বছর কি আইএসএল-য়ে ভাগ্য ফিরবে ইস্টবেঙ্গলের?
East Bengal FC: কলকাতা ফুটবল ইতিহাসে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের অবদান যে কতখানি, সেটা আর আলাদা করে বলার দরকার নেই। শুধু কলকাতা কিংবা বাংলা বললে ভুল হবে, একটা সময় গোটা দেশের কাছেই অনন্য নজির কায়েম করেছিল লাল-হলুদ জার্সির ফুটবলাররা। কিন্তু, সেইসব দিন আজ নেহাতই স্মৃতি। বিশেষ করে ইন্ডিয়ান সুপার লিগে (ISL 2025-26) নাম লেখানোর পর থেকে ইস্টবেঙ্গল দলের পারফরম্য়ান্স একেবারে নিম্নমুখী হয়েছে। বিশেষ করে মোহনবাগান (Mohun Bagan Super Giant) যেখানে ইতিমধ্যে ২ বার খেতাব জয় করে ফেলেছে, সেখানে ইস্টবেঙ্গল এখনও পর্যন্ত একবারও প্লে-অফেই উঠতে পারেনি। কেন এই ব্যর্থতা? দোষ কি শুধুমাত্র ফুটবলারদেরই? না এই ব্যর্থতার দায় ম্য়ানেজমেন্টেরও রয়েছে? গোটা বিষয়টা সরেজমিনে খতিয়ে দেখল ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলা।
এই প্রতিবেদনে আমরা শুধুমাত্র ইস্টবেঙ্গল পুরুষ ফুটবল দলকে নিয়েই আলোচনা করছি। কারণ লাল-হলুদ ব্রিগেডের মহিলা দল আপাতত অশ্বমেধ ঘোড়ার মতো দৌড়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি তারা ২০২৫-২৬ মরশুমে ইন্ডিয়ান উইমেন্স লিগের (IWL 2025-26) খেতাব জয় করেছে। এমনকী, ছোটদের পারফরম্য়ান্সও যথেষ্ট নজরকাড়া। অনূর্ধ্ব-১৬ এবং অনূর্ধ্ব-১৮ ব্রিগেড দাপট দেখাচ্ছে। কিন্তু, সিনিয়র পুরুষ দলের এ কী হাল? কোচ বদলেছে, বদলেছে একাধিক খেলোয়াড়। বেশ কয়েকজন বিদেশি তারকা এই দলে যোগ দিয়েছেন, কিন্তু ভাগ্যের চাকার শেষপর্যন্ত ঘোরাতে পারেনি মশালবাহিনী। গলদটা ঠিক কোথায় হচ্ছে?
আরও পড়ুন:
চ্যাম্পিয়ন হতেই মাঠে নামে ইস্টবেঙ্গল - শান্তিরঞ্জন দাসগুপ্ত
এই ব্যাপারে ইস্টবেঙ্গল দলের সহকারি সাধারণ সচিব শান্তিরঞ্জন দাশগুপ্ত বললেন, 'আমরা প্রত্যেকটা ট্রফি জেতার জন্যই মাঠে নামছি। দিনের শেষে প্রত্যেকটা টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়াই আমাদের লক্ষ্য। ইস্টবেঙ্গল কখনও রানার্স হওয়ার জন্য নামে না। আমি মানছি যে ইস্টবেঙ্গল ফুটবলাররা হয়ত আশানুরূপ পারফরম্য়ান্স করতে পারছে না। কিন্তু, তা বলে এটা নয় যে তারা লড়াই করার মানসিকতা হারিয়ে ফেলছে। এটা আমাদের দলের মূল ভিত্তি। আমরা লড়াই করতে জানি। মহিলাদের মতো ছেলেদের দলটাও সাফল্য পাক, এটাই আমাদের প্রত্যাশা। এবার মাঠে নেমে কীভাবে ছেলেরা পারফর্ম করবে, সেটার উপর গোটা বিষয়টা নির্ভর করবে।'
/filters:format(webp)/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/04/east-bengal-fc-34-2025-12-04-18-27-51.jpg)
এই প্রসঙ্গে আপনাদের জানিয়ে রাখি, ২০২০ সালে আই-লিগ থেকে ইন্ডিয়ান সুপার লিগে নাম লেখায় ইস্টবেঙ্গল এফসি। তারপর থেকে কেটে গিয়েছে পাঁচ-পাঁচটি বছর। কিন্তু, সাফল্য আজও অধরা। ২০২৪ সালের ২৮ জানুয়ারি তারা কার্লেস কুয়াদ্রাতের কোচিংয়ে কলিঙ্গ সুপার কাপ জয় করেছিল। একটা অন্ধকার ঘরে কোনও দেশলাই কাঠি যদি দপ করে জ্বলে ওঠার পরই ফের নিভে যায়, তাহলে সেই ঘরটা আরও অন্ধকার বলে মনে হয়। ইস্টবেঙ্গলের সুপার কাপ জয় সেই দেশলাই কাঠিটাই ছিল।
আরও পড়ুন:
East Bengal FC New Footballer: এবার 'খেলা হবে', ইস্টবেঙ্গলে যোগ দিলেন তারকা ফুটবলার
বঙ্গ সন্তানদের অভাবই ভোগাচ্ছে ইস্টবেঙ্গলকে - রহিম নবি
এই ব্যাপারে ইস্টবেঙ্গলের প্রাক্তন ফুটবলার রহিম নবিকে প্রশ্ন করা হয়েছিল। রহিম নবি ইস্টবেঙ্গলের 'ঘরের ছেলে'। দলের একাধিক সাফল্যে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। কিন্তু, গত কয়েক বছরে লাল-হলুদ ব্রিগেড যে পারফরম্য়ান্স করেছে, তা দেখে হতাশ নবিও। তিনি বললেন, 'এই দলে বঙ্গ সন্তান না থাকলে, সাফল্য আনা সত্যিই খুব মুশকিল। বর্তমানে যে ফুটবলাররা এই ক্লাবের হয়ে খেলতে আসছে, তাদের মধ্যে কোনও অনুভূতি কিংবা আবেগই নেই। এরা শুধুমাত্র টাকা নিয়ে চলে যাচ্ছে।'
/filters:format(webp)/indian-express-bangla/media/media_files/2025/08/17/rahim-nabi-1-2025-08-17-12-55-44.jpg)
সঙ্গে তিনি আরও যোগ করলেন, 'বাংলায় বেশ কয়েকজন ফুটবলার রয়েছে, যারা ইস্টবেঙ্গল অ্যাকাডেমি থেকেই উঠে এসেছে। তাদের যদি না খেলানো হয়, তাহলে কাঙ্খিত ফলাফল পাওয়া যথেষ্ট কঠিন হবে। কারণ, বাকিদের মধ্যে সেই ফিলিংসটা আসবে না। ইস্টবেঙ্গল ক্লাবটা যে আসলে কী, সেটা সবার আগে জানা দরকার। বর্তমানে অধিকাংশ ফুটবলারই চরম পেশাদার। এদের কাছে আবেগের কোনও দাম নেই। এরা শুধুমাত্র অর্থের বিনিময়েই খেলতে নামছে।'
আরও পড়ুন:
East Bengal FC Transfer News: জেরিকে সই করাতেই 'হুঙ্কার' অস্কারের, বললেন - ম্য়াচের রং বদলে দেবে!
এতদিন ধরে ক্লাব সেভাবে সাফল্য অর্জন করতে না পারার কারণে, দলের সমর্থকরাও একাধিকবার ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। অভিযুক্তের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন দলের ম্য়ানেজমেন্টকে। অনেকেই দাবি করেছেন, যে বিদেশি ফুটবলারদের নিয়ে আসা হচ্ছে, তাঁরা কাজের কাজটা করতে পারছেন না। সেকারণে দল নির্বাচন নিয়ে আরও বেশি সতর্ক হওয়া উচিত বলেই তাঁরা মনে করছেন। উল্লেখ্য, আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৫-২৬ মরশুমের আইএসএল টুর্নামেন্ট শুরু হতে চলেছে। এবার মশালে জয়ের আগুন জ্বলে ওঠে কি না, সেইদিকে সকলে তাকিয়ে রয়েছেন।
জুনিয়র ফুটবল অ্যাকাডেমির উপর নজর দেওয়া দরকার - নাড়ুগোপাল হাইত
কথা হয়েছে, ইস্টবেঙ্গলের আরও একজন প্রাক্তন ফুটবলার নাড়ুগোপাল হাইতের সঙ্গে। তাঁর মুখেও প্রায় একই কথা শুনতে পাওয়া গেল। ইস্টবেঙ্গলের দল নির্বাচন একেবারে সঠিক হচ্ছে না। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলাকে হাড়োয়ার এই ফুটবলার খানিক হতাশার সুরেই বললেন, 'আমাদের বাংলার ফুটবলারদের উপর আরও বেশি করে জোর দিতে হবে। ইস্টবেঙ্গলের তো নিজস্ব ফুটবল অ্যাকাডেমি রয়েছে। সেই অ্যাকাডেমি থেকে যে ফুটবলাররা বেরিয়ে আসছে, তারা কেন সিনিয়র দলে সুযোগ পাচ্ছে না, সেদিকে ম্য়ানেজমেন্টকে অবশ্যই নজর দিতে হবে। তৃণমূল স্তরের এই ফুটবলারদের মধ্যে জেতার যথেষ্ট খিদে রয়েছে। সেই খিদেটাকে যদি কাজে লাগানো যায়, যদি ওদের প্রতিভা আরও শানিত করা যায়, তাহলে আগামীদিনে আমরা এই ক্লাবের থেকে অবশ্য়ই ভাল ফলাফল প্রত্যাশা করতে পারি। মোহনবাগান যদি তাদের অ্যাকাডেমি থেকে দীপেন্দু বিশ্বাসের মতো অত ভালমানের একজন ফুটবলার তুলে আনতে পারে, তাহলে ইস্টবেঙ্গল কেন পারবে না?'
/filters:format(webp)/indian-express-bangla/media/media_files/2025/08/17/east-bengal-3-2025-08-17-15-34-53.jpg)
আরও পড়ুন:
সবশেষে একটা কথা বলতেই হয়। পিছু হটতে হটতে দেওয়ালে যখন পিঠ ঠেকে যায়, তখনই সে ঘুরে দাঁড়াতে পারে। জ্বলে ওঠে ফিনিক্স পাখির মতো। কারণ তার কাছে আর পিছনে যাওয়ার কোনও রাস্তা খোলা থাকে না। বলতে বাধা নেই, বর্তমানে ইস্টবেঙ্গল পুরুষ ফুটবল দলেরও পিঠ একেবারে দেওয়ালে ঠেকে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ২০২৫-২৬ মরশুমে তারা ঘুরে দাঁড়াতে পারে কি না, এখন সেটাই দেখার। আপাতত লড়াই শুরুর অপেক্ষা। অপেক্ষা নতুন এক সূর্যোদয়ের। যেখানে লেখা থাকবে প্রত্যাবর্তনের রূপকথা - 'এভাবেও ফিরে আসা যায়।'


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us