/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/22/ilyas-pasha-east-bengal-2026-01-22-15-20-12.jpg)
প্রয়াত ইস্টবেঙ্গল ফুটবল দলের প্রাক্তন অধিনায়ক ইলিয়াস পাশা
East Bengal: ১৭ নম্বর লাল-হলুদ জার্সি। এই জার্সির কথা উঠলে সকলের আগে যে ফুটবলারের কথা মনে করে, তিনি হলেন ইলিয়াস পাশা (Ilyas Pasha)। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকালে ইস্টবেঙ্গলের এই প্রাক্তন অধিনায়ক শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। রক্ষণভাগে তিনি যে কতখানি দুর্ভেদ্য ছিলেন, সেটা আজ আর আলাদা করে বলার দরকার পড়ে না। বিগত কয়েকবছর ধরেই তিনি বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই কলকাতা ময়দানে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
আরও পড়ুন:
শোকপ্রকাশ AIFF-এর
সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে গভীর শোকজ্ঞাপন করা হয়েছে। একটি বিবৃতিতে লেখা হয়েছে, ইলিয়াস পাশা একজন বিনয়ী এবং প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ফুটবলার ছিলেন। ডিফেন্সের মতো কঠিন জায়গায় হাসিমুখে পারফর্ম করেন। তাঁর অসাধারণ দক্ষতাই উজ্জ্বল কেরিয়ারের পাথেয় ছিল। মূলত রাইট উইং-ব্যাক হিসেবে খেলতেন পাশা। তাঁর মধ্যে একদিকে যেমন ছিল নিখুঁত সময়জ্ঞান এবং মাথা ঠান্ডা রাখার দক্ষতা। ঠিক তেমনই ম্যাচের ভবিষ্যৎ বোঝার অসাধারণ ক্ষমতাও ছিল তাঁর মধ্যে। বিশেষ করে চাপের মুখে তিনি খুব কমই বিচলিত হতেন। তাঁর সুশৃঙ্খল পজিশনিং এবং সময়োচিত ট্যাকল বিপক্ষ দলের লেফট উইঙ্গারদের সমস্যায় ফেলত।
আরও পড়ুন:
কলকাতা ময়দানে কেরিয়ার
মহমেডান স্পোর্টিং ক্লাবে হয়ে কলকাতা ময়দানে পা রেখেছিলেন ইলিয়াস পাশা। দক্ষিণ ভারতের (বেঙ্গালুরু) এই ফুটবলার খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সকলের নজর কেড়েছিলেন। যদিও সাদা-কালো ব্রিগেডের হয়ে খুব বেশিদিন খেলার সুযোগ পাননি তিনি। পরের মরশুম অর্থাৎ ১৯৯০ সালে তিনি বঙ্গ ফুটবলের অপর স্তম্ভ ইস্টবেঙ্গলে যোগ দিয়েছিলেন। তারপর তো বাকিটা ইতিহাস। টানা ১০ বছর তিনি লাল-হলুদ সমর্থকদের হৃদয়ে স্বতন্ত্র্য জায়গা করে নিয়েছিলেন। মশাল বাহিনীর রাইট ব্যাক হিসেবে অর্জন করেছিলেন যথেষ্ট সুনাম। সৈয়দ নঈমুদ্দিন, শ্যামল ঘোষ এবং পিকে বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের আরও শানিত হয়েছিল তাঁর পারফরম্য়ান্স।
আরও পড়ুন:
East Bengal FC Latest News: মিনি ডার্বিতে ধামাকা ইস্টবেঙ্গলের, ১৪-০ গোলে ওড়াল প্রতিপক্ষকে!
ট্রফির ঝুলি
তবে শুধুমাত্র ফুটবলার নন, ইস্টবেঙ্গল অধিনায়ক হিসেবেও তিনি অর্জন করেছেন একাধিক সাফল্য। লাল-হলুদ জার্সিতে তিনি পাঁচবার কলকাতা ফুটবল লিগ, পাঁচবার IFA শিল্ড, ৪ বার ডুরান্ড কাপ, জোড়া রোভার্স কাপ এবং ফেডারেশন কাপ সমেত অসংখ্য ট্রফি জয় করেন। ১৯৯০ সালে ক্লাবের 'ট্রিপল ক্রাউন' জয়ী দলের সদস্য ছিলেন। এর পাশাপাশি ১৯৯৩ সালে কাঠমান্ডুতে আয়োজিত ওয়াই-ওয়াই কাপ জেতা দলের নেতৃত্ব দেন। ২০১২ সালে ইস্টবেঙ্গল তাঁকে বিশেষ আজীবন সম্মাননা পুরস্কার প্রদান করে। এর পাশাপাশি বাংলা দলের হয়ে সন্তোষ ট্রফিতেও অর্জন করেছেন সাফল্য। এই প্রসঙ্গে আপনদের জানিয়ে রাখি, ভারতীয় ফুটবল দলের হয়ে ইলিয়াস পাশা হয়ত খুব বেশি খেলার সুযোগ পাননি। সেকারণে তেমন কোনও সাফল্যও নেই তাঁর ঝুলিতে।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us