/indian-express-bangla/media/post_attachments/wp-content/uploads/2019/06/61876222_2659711707391773_7809698935949230080_n.jpg)
লর্ডসে আজ ইংল্য়ান্ডের ব্য়াটিং বনাম নিউজিল্যান্ডের বোলিং
আর কয়েকঘন্টা পরেই সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। ম্যাঞ্চেস্টাররে ওল্ড ট্র্যাফোর্ড ক্রিকেট গ্রাউন্ডে মুখোমুখি হতে চলেছে ভারত-পাকিস্তান। বাইশ গজে মুখোমুখি চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশ। যাদের ক্রিকেটীয় মহারণের দিকে তাকিয়ে থাকে গোটা ক্রিকেটবিশ্ব। হেভিওয়েট এই ম্যাচের আগে কী বলছেন আমাদের বিশ্বকাপ বিশেষজ্ঞ শরদিন্দু মুখোপাধ্যায়?
ফ্যাক্টর যখন টস
টস একটা বড়সড় ফ্যাক্টর হতে চলেছে। যেখানে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে, সেখানে টস সবসময়েই নির্ধারক হতে পারে। টসে যেই জিতুক, সেই দলই ফিল্ডিং করবে। কারণ পরের দিকে ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বেশি। ডাকওয়ার্থ লুইস মেথডে কত বলে কত রান করতে হবে, সেই হিসেব কষে রান তাড়া করা যাবে।
চার নম্বর, ওপেনিংয়ে কে?
লোকেশ রাহুল ওপেন করলে চারে কেদার যাদবকে খেলানো হোক। কেদার যাদব বেশ কিছুদিন আন্তর্জাতিক ম্যাচে খেলছে। ও যদি চার নম্বরে নেমে পারফর্ম না করতে পারে, তাহলে ওর সময় খুব দ্রুত ফুরিয়ে আসবে। এখনই ওর তিরিশের ওপর বয়স। খুব সম্ভবত পরের বিশ্বকাপে আর খেলবে না। এখন খেলবে না তো আর কবে খেলবে?
মহম্মদ আমিরের স্পেল
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে অসাধারণ বোলিং করেছিলেন মহম্মদ আমির। ভারতের বিরুদ্ধে প্রথম স্পেলেই উনি ম্যাচের পাসওয়ার্ড ছিনিয়ে নিয়েছিলেন। বলাই বাহুল্য, ভাল সুইং খেলতে হলে সবসময় সেকেন্ড লাইনে খেলা উচিত। আমার মতে, মহম্মদ আমিরের প্রথম স্পেলে যদি রান না-ও আসে, তাহলেও উইকেট টিকিয়ে রাখাটা অত্যন্ত জরুরি। এই জন্য প্রথম পাওয়ার প্লে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভারতীয় ব্যাটিংয়ের পক্ষে। ভুলে গেলে চলবে না, খেলা হবে ম্যাঞ্চেস্টারের ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে। যেখানে ম্যাচটা বৃষ্টি বিঘ্নিত হতে পারে। সেক্ষেত্রে সুইং ও সিম মুভমেন্ট দুটোই দেখা যেতে পারে। আরেকটা বিষয় দেখতে হবে, ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের কিউরেটর পিচে কতটা ঘাস ছেড়ে রাখছেন।
জসপ্রীত বুমরা বনাম মহম্মদ আমির
বুমরা বনাম মহম্মদ আমির ম্যাচের অন্যতম সেরা আকর্ষণ। বর্তমানে ওয়ান ডে-তে বিশ্বের এক নম্বর বোলার বুমরা। পাশাপাশি ফর্মে থাকা আমির। এটা দৃষ্টিনন্দন দ্বৈরথ হতে চলেছে। যদিও আমির এখনও একশো শতাংশ ফিট বা সেরা ফর্মে নেই, কারণ ওর পেস অনেকটাই কম। সেক্ষেত্রে বুমরা কিছুটা হলেও এগিয়ে। তবে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ৫ উইকেট নেওয়ার পরে আমির ধীরে ধীরে ছন্দে ফিরছে। দর্শকরা মুখিয়ে থাকবেন বুমরা ও আমেরের দ্বৈরথ দেখার জন্য।
বিরাট কোহলি বনাম মহম্মদ আমির
যে বোলার উইকেটের বাইরে ও ভিতরে সুইং করাতে পারে, সে সবসময়েই একটা থ্রেট। পিচের চরিত্র এখনও জানা যায়নি। তবে পিচে যদি ঘাস থাকে, তাহলে তো অবশ্যই বড়সড় আতঙ্ক হয়ে দেখা দিতে পারে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে তো আমির একাই শেষ করে দিয়েছিল ভারতীয় দলকে। সেই পারফরম্যান্স কিন্তু ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের মাথায় থাকবে। তাই আমিরের প্রথম স্পেলটা খুব সতর্কভাবে খেলতে হবে। শচীন আমিরের বিরুদ্ধে ভারতকে আগ্রাসী ক্রিকেট খেলতে বলেছেন। তবে ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা আমিরকে কতটা ফ্রি'লি খেলবে, সেটাই দেখার!
শামিকে খেলানো হোক
এই ম্যাচে মহম্মদ শামিকে প্রথম একাদশে খেলানো উচিত। কুলদীপ যদিও খুব একটা বেশি রান দেয়নি, মাত্র ৫৮ রান খরচ করেছে। তবে উইকেট নিতে পারছে না। যখন বল করছিল, কখনও মনে হয়নি কুলদীপ উইকেট নিতে পারবে। কুলদীপের বলে সেই থ্রেটটাই উধাও। পাশাপাশি, পাকিস্তান যেহেতু খুব ভাল স্পিন খেলে, শুধু চাহালকে খেলিয়ে পঞ্চম বোলার হিসেবে হার্দিক পাণ্ডিয়ার সঙ্গে কেদার যাদবকেও খেলানো যেতে পারে। সেক্ষেত্রে কেদার যাদবকে একটু বেশি দায়িত্ব নিতে হবে। বিরাট কোহলি যদি মাঝে এসে দু-এক ওভার বল করে দিতে পারে, তাহলে চাপ অনেকটাই কমবে।
বাবর আজম পাক ব্যাটিংয়ের নিউক্লিয়াস
পাকিস্তানি ব্যাটিংয়ে বাবর আজমের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। এবং সবাইকে চমকে দিতে পারেন বর্ষীয়ান মহম্মদ হাফিজ। ওঁর অগাধ অভিজ্ঞতা পাকিস্তানের প্লাস পয়েন্ট। তাছাড়াও পাকিস্তানের হয়ে ভয়ঙ্কর হতে পারে ফখর জামান। এখনও পর্যন্ত রান পায়নি। তবে সবথেকে বড় ফ্যাক্টর সম্ভবত বাবর আজম। কারণ ও ঠাণ্ডা মাথায় ব্যাটিংটা করে। পুরো পঞ্চাশ ওভার খেলার চেষ্টা করে। পাকিস্তানের ব্যাটিং অর্ডারের প্রথম তিনজন - ফখর জামান, বাবর আজম এবং ইমাম উল হক - এদের উপরে নির্ভর করছে পাকিস্তান কত রান তুলতে পারবে।
এরপর আসবে মহম্মদ হাফিজ। আর পাকিস্তান শোয়েব মালিককে বাইরে রাখতে পারে। কারণ ব্যাটে একদমই রান পাচ্ছে না ও। পরিবর্তে একজন পেস বোলারকে আনতে পারে। ইমাদ ওয়াসিমের মতো স্পিনারকে পরিবর্ত হিসেবে খেলাবে না। কারণ পিচ কতটা স্পিন করবে, তা জানা নেই। ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের পিচ অদ্ভূত প্রকৃতির। যদি স্যাতস্যাতে থাকে তাহলে সুইং করে। আবার শুকনো থাকলে স্পিন হয়। স্যাতস্যাতে আবহাওয়া থাকলে অবশ্যই পেস বোলার, যার ব্যাটের হাতও কিছুটা আছে, এমন কাউকে খেলাতে পারে। একমাত্র স্পিনার হিসেবে পাকিস্তানের দলে থাকবে শাদাব খান। অন্যদিকে, হাফিজ বোলিং করবে। ও বল হাতে ফর্মেও রয়েছে।