/indian-express-bangla/media/media_files/2025/09/17/mohun-bagan-super-giant-11-2025-09-17-10-49-09.jpg)
ঘরের মাঠে লজ্জার হার মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের
Mohun Bagan Super Giant: তুর্কমেনিস্তানের ফুটবল ক্লাব আহাল এফকে-র (Ahal FK) বিরুদ্ধে ১-০ গোলে হেরে গেল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) কলকাতার যুবভারতী স্টেডিয়ামে এই ম্য়াচের আয়োজন করা হয়েছিল। গতবারের আইএসএল চ্যাম্পিয়ন একেবারে শেষবেলার গোলে পরাস্ত হয়েছে। দুটো দলই এএফসি চ্য়াম্পিয়ন্স লিগ ২ (AFC Champions League 2) অভিযানটা জয় দিয়ে শুরু করতে চেয়েছিল। কিন্তু, শেষপর্যন্ত মেরিনার্সরা আশাহত হয়েই বাড়ি ফিরলেন।
মঙ্গলবার খেলতে নামার আগে হোসে মলিনার দলকে যথেষ্টই আত্মবিশ্বাসী লাগছিল। প্রাক-মরশুম প্রস্তুতির জন্য তারা হাতে যথেষ্ট সময় পেয়েছিল। পাশাপাশি, ভারতীয় এবং বিদেশি মিলিয়ে বেশ কয়েকজন নতুন ফুটবলারকেও তারা সই করায়। কিন্তু, ম্য়াচের ৮২ মিনিটে এনোয়ার অ্যানায়েভের গোল যাবতীয় হিসেব গোলমাল করে দিল। একটা অ্যাওয়ে ম্যাচ থেকে এই টার্কমেন ক্লাবটি তিনটে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ছিনিয়ে নিয়ে চলে যায়। এই হার মোহনবাগানকে যে একটা বড়সড় ধাক্কা দেবে, তা বলা যেতেই পারে।
Mohun Bagan Super Giant: মোহনবাগানের হারে হতাশ সংগ্রাম, জানালেন মনের দুঃখের কথা
মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের এই পরাজয় বিশ্লেষণ করতে গেলে, মোটামুটিভাবে তিনটে কারণ চোখে পড়ছে। আসুন, সেই কারণগুলো নিয়ে আলোচনা করা যাক।
সুযোগ হাতছাড়া জেমির
ম্যাচের ৫৭ মিনিটে জোড়া পরিবর্তন করেন মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট দলের হেড কোচ হোসে মলিনা। অনিরুদ্ধ থাপা এবং জেমি ম্য়াকলারেনকে মাঠে নামান তিনি। এই দুটো পরিবর্তন বাগানের আক্রমণভাগকে কিছুটা হলেও ঝাঁঝাল করেছিল। মাঠে নামতে না নামতেই গোল করার একটি সুযোগ পেয়েছিলেন ম্যাকলারেন। মাঝমাঠে আহালের সামান্য ভুলে বলটা পেয়ে গিয়েছিল বাগানের এই অজি ফরোয়ার্ড। প্রথম টাচেই তিনি গোলমুখী শটও মারেন। কিন্তু, পরে সেটা অফসাইড বলে ঘোষণা করা হয়।
গোলের সুবর্ণ সুযোগ মিস মোহনবাগানের
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে গোল করার সুবর্ণ সুযোগটা এসেছিল সেই ম্য়াকলারেনের কাছেই। ৬৮ মিনিটে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট গোলের দরজা প্রায় খুলেই ফেলেছিল। অনিরুদ্ধ থাপার একটি নিখুঁত পাস আহালের রক্ষণকে চুরমার করে দেয়। বলটা প্রথমে যায় কামিংসের কাছে। জেসন কামিংস একটি মাটি কামড়ানো শটে বলটা বাড়িয়ে দেন ম্যাকলারেনের কাছে।
মেলবোর্ন সিটি এফসি-র প্রাক্তন ফুটবলার সেই বল পেয়ে একটি গোলমুখী শটও মারেন। কিন্তু, শটটা এতটাই কোনাকুনি হয়ে যায় যে শেষপর্যন্ত আর তেকাঠির মধ্যে ঢুকতে পারেনি। আর এই সুযোগ মিস হওয়ার পরই মলিনা মাঠে নামান বাগানের নয়া ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার রবসন রবিনহোকে। লক্ষ্য ছিল, যাতে আরও বেশি সুযোগ তৈরি করা যায়।
নজর কাড়লেও দলকে জেতাতে ব্যর্থ রবিনহো
মাঠে নামতে না নামতেই রবিনহোর খেলা সকলের নজর কেড়েছিল। ৮১ মিনিটে তিনি একটি ডায়গোনাল পাস সাহাল আবদুল সামাদের দিকে বাড়িয়েছিলেন। কেরালার এই মিডফিল্ডার বলটা রিসিভও করেন। প্রথম টাচেই তিনি মোহনবাগানের হয়ে সমতা ফেরাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু, তাঁর শট অনেকটাই বাইরে দিয়ে বেরিয়ে যায়। সেইসঙ্গে হাঁফ ছেড়ে বাঁচে আহাল এফকেও।
সবমিলিয়ে গত মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের পারফরম্য়ান্স যে একেবারেই নিষ্প্রভ ছিল তা বলা যেতে পারে। মোহনবাগানের সঙ্গে এই গ্রুপ সি'তেই রয়েছে ইরানের ফুটবল ক্লাব সেপাহান এসসি। আগামী ২১ অক্টোবর তাদের বিরুদ্ধে খেলতে নামবে মেরিনার্সরা। একে তো প্রথম ম্য়াচে হার, তার উপরে দ্বিতীয়টা আবার অ্যাওয়ে ম্যাচ। এই কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা কীভাবে মোহনবাগান করতে পারে, সেটাই আপাতত দেখার।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us