/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/26/vladimir-mestvirishvili-2026-01-26-11-06-08.jpg)
ভ্লাদিমির মেস্তভিরিশভিলি
Vladimir Mestvirishvili: ভারতীয় কুস্তি (Indian Wrestling) ইতিহাসে ভ্লাদিমির মেস্তভিরিশভিলির নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। জর্জিয়ার বাসিন্দা এই কিংবদন্তী কোচ ২০০৩ সালে ভারতীয় পুরুষ কুস্তি দলের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। সেই সময় ম্য়াট কুস্তিতে পদক জয় ভারতীয় দলের কাছে কার্যত স্বপ্ন ছিল। সবাই তাঁকে ভালবেসে 'লাডো' নামে ডাকতেন। আর এই 'লাডো' ভারতীয় কুস্তির এমন এক স্তম্ভ ছিলেন, যিনি আখাড়ার মাটিতে বেড়ে ওঠা দেশের কিংবদন্তী রেসলারদের অলিম্পিক টুর্নামেন্টে পদক জিতিয়েছিলেন।
আরও পড়ুন:
Asian Wrestling Championship 2025: এশিয়ান কুস্তি চ্যাম্পিয়নশিপে মনীষার সোনা, ব্রোঞ্জ অ্যান্টিমের
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) কেন্দ্রীয় সরকার ঘোষণা করেছে, চলতি বছর দেশের কোন কোন অ্যাথলিট পদ্ম পুরস্কার (Padma Award) পেতে চলেছেন। সেই তালিকায় নাম রয়েছে ভ্লাদিমির মেস্তভিরিশভিলিরও। তাঁকে মরণোত্তর পদ্ম শ্রী পুরস্কার দেওয়া হবে। ২০২৫ সালের ২৪ জুন তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগেছিলেন ভ্লাদিমির। অবশেষে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে তাঁর শিক্ষার সঠিক মূল্যায়ণ করা হল।
আরও পড়ুন:
অনেকের মনেই হয়ত প্রশ্ন জাগতে পারে, কোচ এমন কী আলাদা কাজ করেছিলেন, যাতে ভারত সরকার তাঁকে পদ্ম পুরস্কারে সম্মানিত করতে চলেছে? সেক্ষেত্রে জানিয়ে রাখা ভাল, ভারতীয় কুস্তিগীরদের টেকনিক শুধরে দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের মধ্যে লড়াই করার মানসিকতা আরও দৃঢ় করে দিয়েছিলেন। পাশাপাশি দেশের কুস্তিগীরদের মধ্যে নিয়ে এসেছিলেন এক অনন্য শৃঙ্খলা। তাঁর হাত ধরেই ভারতীয় কুস্তিতে এক নবজাগরণ এসেছিল।
ভারতীয় কুস্তির 'জনক' - বজরং পুনিয়া
২০২০ সালে টোকিও অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ পদকজয়ী ভারতীয় কুস্তিগীর বজরং পুনিয়া (Bajrang Punia) তাঁকে ভারতীয় কুস্তির 'জনক' বলে উল্লেখ করেন। অন্যদিকে, ২০১২ সালে লন্ডন অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ পদকজয়ী যোগেশ্বর দত্ত আবার অকপটে স্বীকার করেছেন, মেস্তভিরিশভিলির অভিভাবকত্ব ছাড়া ভারতীয় রেসলাররা কোনওদিন অলিম্পিকে পদক জিততে পারতেন না।
রবিবার ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বজরং পুনিয়া বললেন, 'যখনই সুশীল, যোগেশ্বর এবং আমার নাম ভারতীয় কুস্তি ইতিহাসে উচ্চারিত হবে, তখনই ওঁর নাম উঠে আসবে। অলিম্পিক টুর্নামেন্টে ভারতীয় কুস্তিগীরদের পদক জয়ের পিছনে মেস্তভিরিশভিলির অনেক বড় অবদান রয়েছে।'
আরও পড়ুন:
প্রসঙ্গত, ২০০৩ সাল থেকে প্রায় ২ দশক হরিয়ানা এবং দিল্লির বিভিন্ন কুস্তি শিবিরে কাজ করেছেন ভ্লাদিমির মেস্তভিরিশভিলি। প্রথম কয়েকটা বছর হরিয়ানার নীদানি এবং পরবর্তীকালে সোনিপতে আয়োজিত জাতীয় শিবিরে তিনিই একমাত্র পরিচিত মুখ ছিলেন। ভারতীয় কুস্তিতে একাধিক বিদেশি এবং ভারতীয় কোচের আনাগোনা থাকলেও, ভ্লাদিমির যেন চিরস্থায়ী ছিলেন। তাঁর কোচিংয়ে ভারত ছ'টার মধ্যে পাঁচটি পুরুষ অলিম্পিক খেতাব জয় করেছে। সুশীল কুমার (বেজিং এবং লন্ডন), যোগেশ্বর দত্ত (লন্ডন), বজরং পুনিয়া (টোকিও) এবং রবি দাহিয়া (টোকিও)। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ পদকজয়ী দীপক পুনিয়াও বেশ কয়েকবছর তাঁর কাছে শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন।
আরও পড়ুন:
১৫ বছর কোচিং নিয়েছিলেন যোগেশ্বর
প্রসঙ্গত, ভারতীয় কুস্তিগীর যোগেশ্বর দত্ত প্রায় ১৫ বছর মেস্তভিরিশভিলির কাছে শিক্ষাগ্রহণ করেছেন। তিনি মনে করেন, ভারতীয় কুস্তির টেকনিক উন্নতিতে ভ্লাদিমিরের অবদান অনস্বীকার্য। যোগেশ্বরের কথায়, 'উনি ভারতে আসার পর যাবতীয় টেকনিক্যাল সমস্যার সমাধান হয়ে গিয়েছিল। আমাদের কী করতে হবে, সেই লক্ষ্যটা একেবারে পরিষ্কার ছিল। আর সেটাকে অনুসরণ করেই আমরা এগিয়ে গিয়েছি।' তিনি আরও যোগ করেন, 'আমার মনে হয়, উনি বেঁচে থাকাকালীন দ্রোণাচার্য পুরস্কার পাওয়ার যোগ্যতম দাবিদার ছিলেন। তবে আমি ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানাতে চাই যে মৃত্যুর পরও ওঁর অবদান স্বীকৃত হচ্ছে এবং পদ্ম শ্রী পুরস্কারে সম্মানিত করা হচ্ছে।'


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us