/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/21/suchitra-das-bengal-weightlifter-2026-01-21-11-59-23.jpg)
বাংলার ওয়েট লিফটার সুচিত্রা দাস
Suchitra Das: বাংলায় এমন অনেক অ্যাথলিট রয়েছেন, যাঁরা শুধুমাত্র অর্থ এবং প্রচারের অভাবে কোনও পরিচিতি লাভ করতে পারেননি। দু'বেলার অন্ন সংস্থানের জন্য কিছু না কিছু কাজ করে তাঁদের দিন চালাতে হয়। এমনই একজন অ্যাথলিট হলেন সুচিত্রা দাস। আপনাদের অনেকের কাছেই হয়ত এই নামটা অজানা হতে পারে। রাজ্যস্তরের ভারোত্তলন (Weightlifting) প্রতিযোগিতায় 'ইতিহাস' গড়েও বাংলার এই অ্যাথলিটকে আজ টোটো (E Toto) চালিয়ে অর্থ উপার্জন করতে হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
কে এই সুচিত্রা দাস?
সুচিত্রা দাস। একেবারে হতদরিদ্র পরিবার থেকে উঠে আসা বাংলার এক 'অনামী' অ্যাথলিট। ছোটবেলায় হারিয়েছেন বাবাকে। মা গৃহপরিচারিকার কাজ করে কোনওরকমে টিকিয়ে রেখেছিলেন সংসার। আর্থিক অনটনের কারণে পড়াশোনা কোনওদিনই হয়নি সুচিত্রার। ছোটবেলা থেকে অভাবই ছিল তাঁর নিত্যদিনের সঙ্গী।
আরও পড়ুন:
সূত্র মারফৎ জানা গিয়েছে, প্রতিবেশীর পরামর্শে তিনি ছোটবেলায় স্থানীয় একজন ভারোত্তলকের কাছে প্রশিক্ষণের জন্য গিয়েছিলেন। আর সেখান থেকেই তাঁর জীবন এক নতুন পথে চলতে শুরু করে। টানা ৫ বছর ধরে চলে অক্লান্ত অনুশীলন। অবশেষে ২০০১ সালে স্থানীয় একটি ভারোত্তলন প্রতিযোগিতায় সুচিত্রা প্রথম স্থান অর্জন করেছিলেন।
সাফল্যের খতিয়ান
অনেকেই আশা করেছিলেন, এই সাফল্য হয়ত তাঁর আগামী ভবিষ্যতের পাথেয় হতে চলেছে। ২০০৪ সালে বেঙ্গল স্টেট ওয়েট লিফটিং চ্যাম্পিয়নশিপে তিনি তৃতীয় স্থান অর্জন করেছিলেন। সেকারণে পুলিশের চাকরিতে যোগ দেওয়ার একটি সুযোগও তাঁর কাছে এসেছেন। কিন্তু, ভাগ্য বিধাতার এক নির্মম পরিহাসের শিকার হলেন তিনি। পুলিশের ওই চাকরির জন্য ন্যুনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল উচ্চমাধ্যমিক পাশ। আর এখানে আর্থিক সুরাহার যাবতীয় স্বপ্ন জলাঞ্জলি দিয়েছিলেন সুচিত্রা।
আরও পড়ুন:
Aarini Lahoty Chess: বয়স মাত্র ৫ বছর! দাবায় 'কিস্তিমাত' করল দিল্লির খুদে
এখন কীভাবে দিন কাটে সুচিত্রার?
তারপর কেটেছে দিন, কেটেছে কাল। মিলেছে একাধিক প্রতিশ্রুতির আশ্বাস। কিন্তু, সুচিত্রার দিনযাপনের গল্পটা একই রয়ে গিয়েছে। নুন আনতে পান্তা ফুরোনোর সংসারে করেছেন অনেকগুলো ছোটখাট কাজ। অবশেষে গত ৬ বছর ধরে টোটো চালাচ্ছেন তিনি। প্রতিদিন ভোর সাড়ে ৩টে থেকে টোটো চালানো শুরু করেন। বেলা ১০টার মধ্যে ফিরে আসেন বাড়িতে। এরপর ঘরের নিত্যনৈমিত্তিক কাজকর্ম সেরে ফের বিকেল ৪টে নাগাদ টোটো নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। সকলের জীবনে হয়ত গোলাপ বিছানো পথ তৈরি করা থাকে না। কিছু পথ কাঁটায় ভরা থাকে। কিন্তু, নিজের মতো করে জীবনে চলাই হচ্ছে বেঁচে থাকার আসল অক্সিজেন।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us