অলিম্পিকে নিষিদ্ধ রাশিয়া, তবু টোকিওয় জয়জয়কার রাশিয়ান প্রতিযোগীদেরই, কারণ জানুন

২০১৪ সালে আসল ঘটনা প্রকাশ্যে এনেছিলেন ৮০০ মিটারের রানার ইউলিয়া স্টেপানোভা এবং তাঁর স্বামী ভিতালি। ভিতালি ছিলেন রাশিয়ান ডোপিং বিরোধী সংস্থা RUSADA-র প্রাক্তন কর্মচারী।

অলিম্পিক ইতিহাসে অন্যতম পদক শ্রেষ্ঠ দেশ রাশিয়া। তবে চলতি অলিম্পিকে নেই রাশিয়া। তা সত্ত্বেও একের পর এক রাশিয়ান প্রতিযোগী পদক জিতে চলেছেন টোকিওয়। অলিম্পিকে অংশ নিতে ৩৩৫ জন প্রতিযোগীকেও পাঠিয়েছে পুতিনের দেশ। কীভাবে সম্ভব?

আসলে রাশিয়াকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সেই অলিম্পিকে রাশিয়ার পতাকা, লোগোও ব্যবহার নিষিদ্ধের তালিকায় ফেলা হয়েছে। সেই কারণেই রাশিয়ান এথলিটরা এবার রাশিয়ান অলিম্পিক কমিটি বা সংক্ষেপে ROC নামে টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করেছে।

আরো পড়ুন: ঐতিহাসিক রুপো জয়েই লক্ষ লক্ষ টাকার পুরস্কার! চানুর সঙ্গেই টাকায় ভাসবেন কোচও

২০১৯ সালে রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত ডোপিংয়ের অভিযোগে ওয়াডার তরফে চার বছর ব্যান করা হয় রাশিয়াকে। সেই কারণেই কোনো রকম আন্তর্জাতিক ইভেন্ট, টোকিও অলিম্পিক, ২০২২ ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপে অংশ নিতে পারবে না রাশিয়া।

তবে এথলিটদের কথা ভেবেই যোগ্যতাঅর্জন কারী রাশিয়ানদের অংশগ্রহণ করতে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে। যদিও রাশিয়ার কোনো পতাকা, জাতীয় প্রতীক, জাতীয় সঙ্গীত অলিম্পিকে ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা বহাল থেকেছে। এই কারণেই ROC-এর পুরো নামও উচ্চারণ করে যাবেনা। এমনকি পদক জয়ের পর অলিম্পিকের মঞ্চে রাশিয়ান কম্পোজার চাইকোভস্কির মিউজিক বাজানো হচ্ছে ব্যাকগ্রাউন্ডে। কিন্তু রাশিয়ান জাতীয় সঙ্গীত, নৈব নৈব চ! যদিও রাশিয়া থেকে আগত প্রতিযোগীরা জাতীয় রং নীল, সাদা, লাল পোশাক পরছেন।

আরো পড়ুন: কানের দুলের জোরেই নাকি অলিম্পিকে রুপো! কীর্তি গড়তেই ফাঁস চানুর রিং-রহস্য

২০১৪ সালে আসল ঘটনা প্রকাশ্যে এনেছিলেন ৮০০ মিটারের রানার ইউলিয়া স্টেপানোভা এবং তাঁর স্বামী ভিতালি। ভিতালি ছিলেন রাশিয়ান ডোপিং বিরোধী সংস্থা RUSADA-র প্রাক্তন কর্মচারী। তাঁরাই জার্মান এক ডকুমেন্টারিতে ফাঁস করে দেন কীভাবে রাষ্ট্র পদক জয়ের জন্য ডোপিং করাচ্ছে দেশের প্রতিযোগীদের।

তারপরে একই তথ্য প্রকাশ করেন RUSADA-র প্রাক্তন প্রধান গ্রিগরি রডচেনকোভ। তিনি বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ করে জানান, ২০১৪-য় সোচিতে শীতকালীন অলিম্পিকের সময় দেশের গোয়েন্দা সংস্থার সহযোগীতায় রাশিয়ান প্রতিযোগীদের মূত্রের নমুনা ল্যাবের দেওয়াল দিয়ে অদল বদল করে দিত রাশিয়া। যাতে ডোপিং করা এথলিটরা ধরা না পড়েন। সেই ল্যাবের সুরক্ষার দায়িত্বে ছিল রাশিয়ারই জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা।

এরকম একের পর এক অভিযোগ আসার পর ২০১৫-য় রাশিয়ার ডোপিং বিরোধী ল্যাব বন্ধ করে দেওয়া হয়। তারপর আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি ১০০ জন রাশিয়ান এথলিটকে সমস্ত ধরনের অলিম্পিক স্পোর্টস থেকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। তারপরেই ওয়াডার পূর্ণাঙ্গ শাস্তির খাড়া নেমে আসে রাশিয়ার ওপরে।

রাশিয়া না থাকলেও টোকিওয় জয়জয়কার রাশিয়ান এথলিটদেরই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং জাপানের পরেই রয়েছে ROC। ৫ সোনা, ৭ রুপো এবং ৪ ব্রোঞ্জ সহ মোট ১৬টি পদক তাঁদের ঝুলিতে।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলা এখন টেলিগ্রামে, পড়তে থাকুন

Get the latest Bengali news and Sports news here. You can also read all the Sports news by following us on Twitter, Facebook and Telegram.

Web Title: Tokyo olympics 2020 russian athletes are everywhere even if russia is banned explained

Next Story
আজ জিতলেই সিরিজ জিতবে ভারত! জোড়া অভিষেকে চমকে দিতে পারেন দ্রাবিড়
The moderation of comments is automated and not cleared manually by bengali.indianexpress.com