/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/16/icc-2026-01-16-11-22-45.jpg)
U-19 World Cup: আমেরিকার জার্সি গায়ে খেলছেন যারা, তাদের প্রায় সবারই পূর্বপুরুষের ভিটে ভারত বা দক্ষিণ এশিয়ায়। ছবি: আইসিসি থেকে প্রাপ্ত।
U-19 World Cup: বৃহস্পতিবার অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ভারত ও আমেরিকা। মাঠের লড়াই শুরুর আগে যখন ভারতের জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণমন’ বেজে উঠল, দেখা গেল গ্যালারিতে মার্কিন পতাকা জড়িয়ে থাকা দর্শকদের বড় অংশই সুর মিলিয়েছেন সেই গানে। মাঠের ভেতরেও ছিল একই দৃশ্য, আমেরিকার জার্সি গায়ে খেলছেন যারা, তাদের প্রায় সবারই পূর্বপুরুষের ভিটে ভারত বা দক্ষিণ এশিয়ায়।
জিম্বাবোয়ে ও নামিবিয়ায় আয়োজিত এবারের বিশ্বকাপে এক অদ্ভুত পরিসংখ্যান সামনে এসেছে। দেখা যাচ্ছে, টুর্নামেন্টের প্রতি তিন জন ক্রিকেটারের মধ্যে এক জনেরই যোগসূত্র রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ায়। ২৪০ জন প্রতিযোগীর মধ্যে ৬০ জন সরাসরি ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ দলের হয়ে খেলছেন। কিন্তু এর বাইরেও অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ড ও আমেরিকার মতো দলগুলোতে অন্তত ৩২ জন ক্রিকেটার রয়েছেন যারা বংশগতভাবে দক্ষিণ এশীয়।
কোলনাইজারের খেলায় ‘কোলনাইজড’-দের দাপট
একসময় ব্রিটিশদের হাত ধরে দক্ষিণ এশিয়ায় ক্রিকেট এসেছিল। আজ ছবিটা উল্টো। শুধু আমেরিকা নয়, ক্রিকেটের কুলীন দেশ হিসেবে পরিচিত অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের দলেও এখন দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূতদের জয়জয়কার। অস্ট্রেলিয়া দলে রয়েছেন কেরালা বংশোদ্ভূত জন জেমস এবং আরিয়ান শর্মা। জেমসের বাবা-মা খড়গপুর থেকে সিডনিতে পাড়ি জমিয়েছিলেন। জেমস জানান, "বাড়িতে মালয়ালম ভাষায় কথা বললেও, আমি মনে-প্রাণে একজন অস্ট্রেলীয়। তবে আমার ক্রিকেটার হওয়ার পেছনে বাবা-মায়ের হাড়ভাঙা খাটুনি ও ত্যাগের কথা ভুলব না।"
বদলাচ্ছে মানসিকতা ও সংস্কৃতি
একটা সময় ছিল যখন উসমান খোয়াজার মতো ক্রিকেটারদের অস্ট্রেলীয় ড্রেসিংরুমে বর্ণবৈষম্য বা সাংস্কৃতিক পার্থক্যের শিকার হতে হতো। কিন্তু এখন দিন বদলেছে। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সাম্প্রতিক রিপোর্ট বলছে, গত পাঁচ বছরে দেশটিতে দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূতদের ক্রিকেটে অংশগ্রহণ দ্বিগুণ হয়েছে। নিউজিল্যান্ড দলেও এবার চারজন এমন ক্রিকেটার রয়েছেন যাদের পূর্বপুরুষ ভারতীয় বা শ্রীলঙ্কান। কিউয়ি অলরাউন্ডার স্নেহিথ রেড্ডি যেমন অন্ধ্রপ্রদেশের বিরিয়ানি আর জুনিয়র এনটিআর-এর সিনেমার ভক্ত, তেমনই মাঠের লড়াইয়ে তিনি নিউজিল্যান্ডের কট্টর সৈনিক।
আরও পড়ুন-Indian Cricket Team: ভারত হারতেই রেগে আগুন, ভরা বাজারে বোমা ফাটালেন গাভাসকার
নেপথ্যে অ্যাকাডেমি ও পারিবারিক লড়াই
ইংল্যান্ড দলেও ফারহান আহমেদ ও আলি ফারুকের মতো প্রতিভারা উঠে আসছেন। ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ECB) এখন বিশেষ প্রকল্পের মাধ্যমে দক্ষিণ এশীয় জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ক্রিকেটের প্রসার ঘটাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই টুর্নামেন্ট প্রমাণ করে দিচ্ছে যে ক্রিকেট এখন আর নির্দিষ্ট কোনো ভূখণ্ডে সীমাবদ্ধ নেই। মাঠের সীমানা ছাড়িয়ে এটি এখন দক্ষিণ এশীয় সংস্কৃতির এক বিশ্বজনীন মেলবন্ধনে পরিণত হয়েছে। আমেরিকা হোক বা নিউজিল্যান্ড, ব্যাটে-বলে দাপট দেখাচ্ছে সেই চিরচেনা দক্ষিণ এশীয় রক্তই।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us