/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/15/evm-2025-11-15-12-20-06.jpg)
EVM: ইভিএম।
Electronic voting machine: ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থা বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত শুধু আকারের জন্য নয়, প্রযুক্তিগত দক্ষতার জন্যও। সেই প্রযুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম (EVM)। এই মেশিনের মাধ্যমে দেশজুড়ে কোটি কোটি ভোট দ্রুত, স্বচ্ছ ও নির্ভুলভাবে রেকর্ড করা যায়। কিন্তু এই ইভিএম আসলে কী? কীভাবে কাজ করে? ভোটার কীভাবে ভোট দেন? এসব প্রশ্ন অনেকের মনেই থাকে।
ইভিএম কীভাবে কাজ করে, ভোটদানের পুরো প্রক্রিয়াটা কী?
ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (EVM) হল একটি ছোট, ব্যাটারিচালিত ইলেকট্রনিক ডিভাইস যা ভোট রেকর্ড করার জন্য ব্যবহার করা হয়। এটি ভারতীয় নির্বাচনে ১৯৮২ সালে প্রথমে ট্রায়াল হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং পরবর্তী সময়ে সারাদেশে ব্যবহৃত হচ্ছে। ইভিএম তৈরি করেছে— বেল (BEL, Bharat Electronics Limited) এবং ইসিআইএল (ECIL, Electronics Corporation of India)। Limited)। ইভিএমের লক্ষ্য দ্রুত ভোটদান, অবৈধ ভোট বন্ধ, দ্রুত ভোট গণনা, কোনও পেপার ব্যালট ছাড়াই নির্ভুল রেকর্ড রাখা। ইভিএমে ভুল ভোট দেওয়া বা একজন ভোটারের একাধিক ভোট দেওয়ার কোনও সুযোগ নেই। ফলে এতে নির্বাচন আরও নিরাপদ এবং স্বচ্ছ হয়।
আরও পড়ুন- কেন প্রতিটি ভারতীয় নম্বর +91 দিয়ে শুরু হয়? জানেন না ৯৯% মানুষই
ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন দুটি অংশে বিভক্ত— ব্যালটিং ইউনিট (Balloting Unit, BU) এবং কন্ট্রোল ইউনিট (Control Unit, CU)। ব্যালটিং ইউনিটে ভোটার বোতাম টিপে ভোট দেন। এটি ভোটকেন্দ্রের ভেতরে রাখা হয়। এতে থাকে— প্রার্থীর নাম, দলীয় প্রতীক, নীল রঙের ভোট বোতাম। কন্ট্রোল ইউনিট পরিচালনা করেন নির্বাচন কর্তা। এটি ব্যালটিং ইউনিটের সঙ্গে ৫ মিটার তার দিয়ে যুক্ত থাকে। এতে থাকে— ব্যালট (BALLOT) বোতাম, ভোট সংখ্যা, রেজাল্ট দেখানোর ব্যবস্থা। ইভিএম চলে ৬ ভোল্টের ব্যাটারি দিয়ে। অর্থাৎ বিদ্যুৎ না থাকলেও নির্বাচন চালানো যায়।
ইভিএম মেশিনের ভিতরে থাকে মাইক্রোকন্ট্রোলার, যা প্রতিটি ভোট নিরাপদভাবে মেমোরিতে রেকর্ড করে। বাইরে থেকে ইভিএমে কোনও নেটওয়ার্ক, ব্লুটুথ বা ইন্টারনেট সংযোগ থাকে না। ফলে হ্যাকিংয়ের সম্ভাবনা কার্যত নেই। ইভিএম এমনভাবে প্রোগ্রাম করা আছে, যাতে একজন ভোটার মাত্র একটি বোতাম টিপতে পারেন। একবার ভোট দিলে ব্যালটিং ইউনিট লক হয়ে যায়। ভোটগুলি বহু বছর ধরে সুরক্ষিতভাবে কন্ট্রোল ইউনিটে সংরক্ষিত থাকে। বিশেষ প্রয়োজনে এগুলো পর্যালোচনা করা যায়।
আরও পড়ুন- সেভিংস অ্যাকাউন্টে পান ৩ গুণ বেশি সুদ, এই ছোট্ট কাজটি এখনই করুন
ভোটার ভোট কক্ষের সামনে এলে পোলিং অফিসার মূল কন্ট্রোল ইউনিটে থাকা ব্যালট বোতামটি চাপেন। এর ফলে ব্যালটিং ইউনিট সক্রিয় হয়। ভোটার নিজের পছন্দের প্রার্থীর নাম ও প্রতীকের সামনে থাকা নীল বোতামটি চাপেন। বোতাম চাপার পর, সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর সামনে লাল বাতি জ্বলে ওঠে। একটি দীর্ঘ 'বিপ' শব্দ শোনা যায়। এটি বুঝিয়ে দেয় যে, ভোটটি সফলভাবে রেকর্ড হয়েছে।
আরও পড়ুন- ১৬ টাকা বেশি খরচে পান ২৪২ জিবি ডেটা, তোলপাড় ফেলল সস্তার এই প্ল্যান
এখন ইভিএমের সঙ্গে ভিভিপ্যাট (VVPAT, Voter Verifiable Paper Audit Trail) মেশিন যুক্ত থাকে। বোতাম টেপার পর ৭ সেকেন্ডের জন্য একটি কাগজের স্লিপ দেখা যায়। যেখানে দেখা যায়, কোন প্রার্থীর জন্য ভোট রেকর্ড হয়েছে। এই স্লিপ একটি সিল করা বাক্সে জমা হয়ে যায়, যা প্রয়োজনে নির্বাচনে পুনঃপরীক্ষায় কাজে লাগে।
ইভিএম ওয়াই-ফাই (Wi-Fi) / ব্লুটুথ (Bluetooth) / ইন্টারনেট (Internet) সংযুক্ত নয়। এর প্রোগ্রাম বার্ন (burn) করা থাকে। তাই পরিবর্তন সম্ভব নয়। সিল করা কেসে ইভিএম রাখা হয়। প্রতিটি ধাপ সিসিটিভি (CCTV) বা পর্যবেক্ষকের উপস্থিতিতে হয়। ব়্যান্ডমাইজেশন (Randomisation) প্রক্রিয়ায় প্রতিটি ইভিএম বিভিন্ন বুথে পাঠানো হয়। পরবর্তী সময়ে ভিভিপ্যাট (VVPAT) স্লিপ মিলিয়ে ফলাফল যাচাই করা যায়।
ইভিএম ব্যবহারের ফলে দ্রুতগতিতে ভোটগ্রহণ সম্ভব হয়। ভোটের লাইনে ভিড় কম হয়। কাগজের অপচয় কমে। দ্রুত গণনা সম্ভব হয়। ভুল ভোট বা ব্যালট দখলের সম্ভাবনা কমে যায়। হ্যাকিং প্রায় অসম্ভব হয়ে যায়। ব্যাপারটা রীতিমতো পরিবেশবান্ধব এবং সাশ্রয়ী। ইভিএম ভারতীয় গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী ও স্বচ্ছ করেছে। আজ দেশের কোটি কোটি মানুষ মাত্র এক বোতাম চেপেই নিজের মূল্যবান ভোটটি সুরক্ষিতভাবে দিতে পারছেন। প্রযুক্তির এই ব্যবহারে ভোটদান হয়েছে আরও দ্রুত, সুবিধাজনক এবং পুরোপুরি নির্ভুল।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us