/indian-express-bangla/media/media_files/2026/02/04/nasa-moon-nuclear-reactor-electricity-artemis-mission-2026-02-04-16-46-52.jpg)
নিরবচ্ছিন্ন ও স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
চাঁদে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে যুগান্তকারী পরিকল্পনার কথা জানাল মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা। প্রথমবারের মতো চাঁদে একটি পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে সংস্থা। এই প্রকল্পে নাসার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে ইউ এস ডিপার্টমেন্ট অফ এনার্জি। আর্টেমিস কর্মসূচির অধীনে দীর্ঘমেয়াদি চন্দ্র অভিযান এবং ভবিষ্যতে মঙ্গলগ্রহে মানব মিশনকে শক্তিশালী করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
নাসা সূত্রে জানা গিয়েছে, পারমাণবিক চুল্লির মাধ্যমে চাঁদে নিরবচ্ছিন্ন ও স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে এই ব্যবস্থা কার্যকর করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। একবার চালু হলে এই চুল্লি বহু বছর ধরে নিরাপদে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবে এবং ঘন ঘন জ্বালানি ভরার প্রয়োজন হবে না। নাসার তরফে এই উদ্যোগকে মহাকাশ অভিযানের ক্ষেত্রে “একটি স্বর্ণযুগের সূচনা” বলে উল্লেখ করেছেন।
পারমাণবিক চুল্লি এমন একটি প্রযুক্তি, যেখানে পারমাণবিক বিভাজনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। ইউরেনিয়াম-২৩৫ বা প্লুটোনিয়াম-২৩৯-এর নিউক্লিয়াস বিভাজিত হলে প্রচুর তাপ শক্তি নির্গত হয়, যা টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। চাঁদে এই ধরনের চুল্লি স্থাপিত হলে গবেষণা ও পরীক্ষানিরীক্ষার ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ ঘাটতির সমস্যা অনেকটাই দূর হবে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।
চাঁদে পারমাণবিক শক্তির প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। চাঁদের এক একটি রাত প্রায় দুই সপ্তাহ স্থায়ী হয়, সেই সময় সূর্যালোকের অভাবে সৌর প্যানেল কার্যত অচল হয়ে পড়ে। এই দীর্ঘ অন্ধকারে পারমাণবিক চুল্লিই একমাত্র নির্ভরযোগ্য উৎস, যা সময় বা পরিবেশ নির্বিশেষে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম।
NUCLEAR IN OUTER SPACE 🪐: @ENERGY is working with @NASA to develop new technologies like space reactors to provide reliable power on the Moon, Mars, and beyond. pic.twitter.com/v7AWZzLizV
— Office of Nuclear Energy | US Department of Energy (@GovNuclear) February 2, 2026
নাসার নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই চুল্লি থেকে প্রায় ৪০ কিলোওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে, যা পৃথিবীতে প্রায় ৩০টি বাড়ির বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানোর জন্য যথেষ্ট। চুল্লিটিকে অন্তত ১০ বছর ধরে চাঁদের কঠোর পরিবেশে কার্যকর থাকতে হবে। পাশাপাশি এটি হালকা, নিরাপদ এবং রোবট বা মহাকাশচারীদের মাধ্যমে সহজে স্থাপনযোগ্য হতে হবে।
এই প্রকল্প সফল হলে চাঁদে দীর্ঘমেয়াদি মানব উপস্থিতি নিশ্চিত করা অনেকটাই সহজ হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি মঙ্গলগ্রহে ভবিষ্যৎ অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি পরীক্ষাও চাঁদেই করা সম্ভব হবে। মহাকাশ অভিযানে বিদ্যুৎ সরবরাহের সীমাবদ্ধতা দূর হওয়ায় গবেষণার গতি বহুগুণে বাড়বে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পারমাণবিক চুল্লির অন্যতম বড় সুবিধা হল অল্প পরিমাণ ইউরেনিয়াম ব্যবহার করেই বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়। এটি কয়লা বা তেলের তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত না করায় পরিবেশবান্ধবও। সৌর বা বায়ুশক্তির মতো আবহাওয়ার উপর নির্ভরতা না থাকায় মহাকাশে স্থায়ী বিদ্যুৎ উৎস হিসেবে পারমাণবিক শক্তি ভবিষ্যতে বড় ভূমিকা নিতে চলেছে বলে মত বিজ্ঞানীদের।
আরও পড়ুন- সোশ্যাল মিডিয়া থেকে আয় কোটি কোটি টাকা, তালিকায় শীর্ষে এই ৫ ভারতীয় তারকা
আরও পড়ুন-গিজার ফেটে মর্মান্তিক মৃত্যু, তোলপাড় দেশজুড়ে, কীভাবে সুরক্ষিত থাকবেন?
আরও পড়ুন-হাজার হাজার টাকা সাশ্রয়ে নিন আইফোন ১৭, ৮০০ টাকায় কিনুন রুম হিটার, বছরের শুরুতেই বিরাট ধামাকা
আরও পড়ুন- ইউটিউবে ১ বিলিয়ন ভিউ? জানেন কত আয়? জানলে মাথা ঘুরে যাবে
আরও পড়ুন-২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে AIRTEL-এর রিচার্জ প্ল্যানের দাম, আজই ফায়দা নিন, এক বছর থাকুন টেনশন ফ্রি!
আরও পড়ুন-এ কীভাবে মিলবে Golden Button? মাসে আয় শুনলে মাথা ঘুরে যাবে
আরও পড়ুন- আইফোনে এবার ধামাকা অফার, একাধিক প্রিমিয়াম মডেলে বিরাট ছাড়ের বড় সুযোগ


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us