/indian-express-bangla/media/post_attachments/wp-content/uploads/2021/10/Apple_iPhone12_1.jpg)
আইফোনের ওপর ফ্লিপকার্ট-অ্যামাজন দিচ্ছে বড় ছাড়
ভারতে ক্রশমই ব্যবসা বাড়াচ্ছে অ্যাপল। জনপ্রিয়তার নিরিখে এবার রেডমিকে ছুঁতে চলেছে এই টেকজায়ান্ট। গত বছরের থেকে এই বছর অ্যাপলের পন্যের চাহিদাও বেড়েছে বহুগুনে। গত শুক্রবার সংস্থার কর্ণধার টম কুক এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, চলতি আর্থিক বছরে প্রায় দ্বিগুণ ব্যবসা করেছে অ্যাপল। তিনি আরও বলেন, ২০২১ –র আর্থিক বছরে উদীয়মান ব্যবসা থেকে প্রায় এক তৃতীয়াংশ রাজস্ব অর্জন করেছে। যদিও ভারতে অ্যাপলের চাহিদা ক্রমবর্ধমান তবে কোভিড পরিস্থিতির জন্য সরবরাহে বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা জারি থাকায় আশানুরূপ সাফল্য পায়নি। অ্যাপেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চতুর্থ ত্রৈমাসিক সময়কালে প্রায় ৮৩.৪ বিলিয়ন ডলার যা ভারতীয় মুদ্রার অঙ্কে ৬,২৩,৮০০ কোটি লাভ করেছে।
অ্যাপেল কর্ণধার টম কুক জানিয়েছেন, ভারতে যেভাবে অ্যাপলের জনপ্রিয়তা বাড়ছে তাতে ভবিষ্যতে কীভাবে এই চাহিদাকে আরও বাড়ানো যায় সেদিকে নজর দেবে সংস্থা। করোনা পরিস্থিতির কারণে বিশ্বব্যাপী চিপসেটের ঘাটতির কারণে মার খেয়েছে ব্যবসা। তার মাঝে এই সাফল্যকে পাখির চোখ করতে চাইছে টম কুক। কোম্পানির সাফল্য নিয়ে এটাই টম কুকের প্রথম বিবৃতি নয়, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসেও ২০২০-র সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকে ভারতে অ্যাপল ব্যবসা দ্বিগুণ হওয়ার কথা প্রকাশ্যে এনেছিলেন তিনি। শুধু তাই নয়, গত অক্টোবর মাসেও ভারতীয় মার্কের্টে ত্রৈমাসিক লাভের রেকর্ডের কথা সামনে এনেছিলেন টম কুক। তবে এই ব্যবসা বৃদ্ধির পিছনের অজানা কাহিনীকে সামনে আনেননি তিনি।
চলতি বছরের উৎসবের মরশুমের ঠিক আগেই ভারতীয় বাজারে লঞ্চ হয়েছে i-Phone13 সিরিজ যা iPhone 12 মডেলের জায়গা নিয়েছে। আর তার ফলে পুরনো মডেলগুলোর দামও কিছুটা কমেছে। তবে কিছু মার্কেট বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শুধুমাত্র উন্নতমানের আপডেটই ভারতে অ্যাপলের এই আকাশছোঁয়া সাফল্যের প্রাথমিক কারণ নয়। TechArc কোম্পানির আবিষ্কৃতা ও প্রধান বিশেষজ্ঞ ফয়সল কাউসারের মতে, যে কোনও ধরনের বিলাসবহুল সেগমেন্টের অন্তর্গত প্রোডাক্টসের সাফল্য আসবেই। আর সেই প্রসঙ্গ টেনেই তিনি উদাহরণ স্বরূপ বলেন, 'ভারতে স্মার্টফোনের বাজারেও ঠিক একই ঘটনা ঘটে'।
তিনি বলেছেন যদি ৫০ হাজার বা তার বেশি দামের স্মার্টফোনের চাহিদা একবছরে দ্বিগুণ হয়ে যায় স্বাভাবিকভাবেই সাফল্যের নিরিখে বেড়ে যায় লাভের অঙ্কটাও। অ্যাপলের সাফল্য প্রসঙ্গে বলেন, গত বছরে ভারতে iPhone-র বিক্রি ৩ মিলিয়ন ছাড়িয়ে গিয়েছিল আর চলতি বছরে তা ৪ মিলিয়ন অতিক্রম করার লক্ষে এগোচ্ছে।
প্রথমসারির এক ইংরাজি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে CMR-র প্রধান প্রভু রাম বলেন, ভারতের মার্কেটে আগামি দিনেও অ্যাপলের ব্যবসা অতুলনীয় সাফল্য লাভ করবে। i-Phone 11 র থেকেও iPhone 12,-র ব্যবসা গত ত্রৈমাসিক সাফল্যের পিছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। CMR-র রিপোর্ট অনুযায়ী, একবছরে iPhone শিপমেন্টের গ্রোথ ২৮ শতাংশ। এই সংস্থার তরফে অনুমান করা হচ্ছে, মার্কেট শেয়ারও বাড়বে ৩.৫ শতাংশ। সেই সঙ্গে iPhone সরবরাহ পৌঁছবে ৫ মিলিয়নে যা নিঃসন্দেহে ভারতীয় মার্কেটে একটি নতুন মাইলস্টোন গড়বে iPhone কোম্পানি।
তবে শুধু আইফোন নয় এর সঙ্গেই এই বৃহত্তম টেকজায়ান্ট একের পর একে নতুন প্রোডাক্ট সামনে নিয়ে এসেছে। যার মধ্যে রয়েছে অ্যাপল ম্যাকবুক, অ্যাপল ইয়ারপড, অ্যাপল স্মার্টওয়াচ। সব ক্ষেত্রেই নজরকাড়া সাফল্য মিলেছে বলে জানিয়েছেন সংস্থার প্রধান টম কুক। এই সকল প্রোডাক্ট লঞ্চের সঙ্গে উন্নত গুণমান নজর কেড়েছে ক্রেতাদের। এখন ভারতের মতো দেশকে পাখির চোখ করতে চাইছে সব বড় সংস্থাই। অ্যাপলের সামনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী রেডমি, স্যামসাং। তাদের টেক্কা দিয়ে আগামিতে কতটা লড়াই জিইয়ে রাখতে পারবে অ্যাপল এখন সেটাই দেখার।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলা এখন টেলিগ্রামে, পড়তে থাকুন