/indian-express-bangla/media/media_files/2026/02/21/bus-2026-02-21-14-00-16.jpg)
Agartala-Dhaka-Kolkata bus service: আবার চালু হলো আগরতলা-ঢাকা-কলকাতা মৈত্রী বাস পরিষেবা।
India-Bangladesh bus service: প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে ২০২৪ সালের আগস্টে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রায় দেড় বছর কেটে গেছে।
অর্থনীতিবিদ ড. ইউনূসের উপদেষ্টামণ্ডলীর অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের শাসনে ভারতবিরোধী মন্তব্যের উত্তেজনা এবং নভেম্বর, ২০২৪ এ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় ত্রিপুরা থেকে কলকাতাগামী শ্যামলী পরিবহনের মৈত্রী বসে আক্রমণ হবার পর থেকে আন্তর্জাতিক যাত্রীবাস পরিষেবা বন্ধ চিক।
সম্প্রতি সেদেশে নির্বাচনের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াপুত্র তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হবার পর থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হতে দেখা গেছে। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক পুনরায় গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতির মাঝে আজ ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে আবার চালু হল আগরতলা-ঢাকা-কলকাতা মৈত্রী বাস পরিষেবা।
আজ থেকে এই আন্তর্জাতিক বাস পরিষেবার কাজ পুনরায় শুরু হলেও দু-তিন দিন ট্রায়াল রান হিসেবে চলবে এই পরিষেবা। চলতি মাসের ২৮ তারিখ থেকে পুরোপুরি ভাবে এই আগরতলা ঢাকা কলকাতা বাস পরিষেবা চালু হয়ে যাবে
আগরতলায় ত্রিপুরা সড়ক পরিবহন নিগম অথবা টিআরটিসির আন্তর্জাতিক বাস টার্মিনাসে ভারত বাংলাদেশ সৌহার্দ্য যাত্রার পুন: সূচনা করে নিগমের ভাইস চেয়ারম্যান সমর রায় বলেছেন, "বাংলাদেশের অস্থিরতার কারণে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে বন্ধ ছিল।বাংলাদেশে অস্থির পরিস্থিতির কারণে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে এই পরিষেবাটি বন্ধ রাখা হয়েছিল।
বাংলাদেশে তারেক রহমানের নেতৃত্বে স্থিতিশীল সরকার গঠন হওয়ার ভারতবর্ষে এবং বাংলাদেশে ভিসা সরলীকরণ করা হয়েছে। ফলে আজ থেকে শুরু হয়েছে মৈত্রী বাস পরিষেবার আগরতলা থেকে ঢাকা পর্যন্ত ট্রায়াল রান। আগামী ২৮ তারিখ থেকে যাত্রী নিয়ে পুনরায় শুরু হবে এই পরিষেবা ।আজ পায়েল রানের যাত্রাকালীন সময় একথা জানায় ত্রিপুরা সড়ক পরিবহন নিগমের ভাইস চেয়ারম্যান সমর রায়"।
আরও পড়ুন-SIR-এ এবার নজিরবিহীন মোড়, কবে প্রকাশিত হবে চূড়ান্ত তালিকা, বিরাট নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ত্রিপুরার নিবিড় সম্পর্ক ছিল। ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের সময় বিশাল সংখ্যক উদ্বাস্তু সাবেক পূর্ব পাকিস্তান থেকে এসে আশ্রয় নিয়েছিল ত্রিপুরায়। তৎকালীন সময়ে মাত্র ১৫ লক্ষ লোকের বসবাস ছিল ত্রিপুরায়, কিন্তু আশ্রয় মিলেছিল ১৬ লক্ষ উদ্বাস্তু শরণার্থীর।
যুদ্ধের শেষভাগে বাস্তবত: পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশী মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধের অস্থায়ী কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল আগরতলা শহর। মেলাঘর, সিমনা সহ বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছিল মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ শিবির; আগরতলার গোবিন্দ বল্লভ পন্থ হাসপাতাল হয়ে উঠেছিল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্যে একমাত্র গুরুতর চিকিৎসাকেন্দ্র। এছাড়াও বিভিন্ন ফিল্ড হাসপাতালে মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসায় নিয়োজিত ছিলেন ত্রিপুরার কৃতী সন্তান পদ্মশ্রী স্বর্গীয় ড. রথীন দত্তসহ আরো অনেকে।
আরও পড়ুন-যন্ত্রের ডগায় ইতিহাস! মজাপুকুরের অন্ধকারে লুকিয়ে ছিলেন একাদশ শতকের বিষ্ণুমূর্তি
ত্রিপুরার সাথে বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকে আত্মিক টান থাকলেও গতবছর আগষ্ট মাসে শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে সীমান্তের দুদিকে সম্পর্কে চিড় ধরে।
বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন মুখ্য উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস এর মুখ থেকে সেভেন সিস্টার্সের ল্যান্ডলকড হওয়া এবং দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার এই অঞ্চলে বাংলাদেশকেই একমাত্র সমুদ্রের অভিভাবক হিসেবে চিহ্নিত করার মধ্যে হুমকির শুরু শোনা গেছে।
সেদেশের নেতা উসমান হাদির মুখে উত্তরপূর্ব রাজ্যগুলিকে দখল করে নেবার হুমকি থেকে শুরু করে বাংলাদেশের এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ এর কন্ঠে উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলির উগ্রপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলিকে বাংলাদেশ আশ্রয় এবং সাহায্য দেবার কথা শোনা গেছে।
এসবের প্রতিবাদে ভারতে, বিশেষ করে ত্রিপুরায়, বিশাল অংশের মানুষের মধ্যে প্রচণ্ড বিক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়াও দেখা গেছে। উন্নতিশীল পরিস্থিতির মাঝে আগামী দিনে দুদেশের সম্পর্কে নতুন দিক দেখা যাবে বলে আজ আশা প্রকাশ করেছেন রাজ্য সড়ক পরিবহন নিগমের কর্মকর্তারা।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us