/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/19/cats-2025-12-19-20-57-36.jpg)
রাজ্যজুড়ে তোলপাড়
অনলাইন পার্সেল ডেলিভারিকে কেন্দ্র করে অপমানের জেরে ডেলিভারি বয়ের আত্মহত্যার ঘটনায় অবশেষে বড়সড় অগ্রগতি হল তদন্তে। তিনদিন আগে উত্তর ত্রিপুরার ধর্মনগর শহরে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় অভিযুক্ত তিনজনকে পার্শ্ববর্তী রাজ্য অসম থেকে গ্রেপ্তার করেছে রাজ্য পুলিশ। ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে ডেলিভারি এক্সিকিউটিভকে প্রকাশ্যে কানে ধরে ওঠবস করাতে দেখা যাওয়ার পরই ওই যুবকের আত্মহত্যা রাজ্যজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়।
উত্তর ত্রিপুরা জেলা আদালতের সহকারী সরকারি কৌঁসুলি বিশ্বজিৎ দাস শুক্রবার সন্ধ্যায় জানান, ১৪ ডিসেম্বর দায়ের করা এফআইআরের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার চারটি ধারায় তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়। অসমের শ্রীভূমি জেলা থেকে গ্রেপ্তার করে অভিযুক্ত সংগীতা ভট্টাচার্য, সুস্মিতা ভট্টাচার্য ও সৌরভ ভট্টাচার্যকে চুরাইবাড়ি সীমান্ত দিয়ে রাজ্যে আনা হয় এবং আদালতে পেশ করা হয়।
স্থানীয় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দেবলীনা কিলিকদার অভিযুক্তদের জামিনের আবেদন খারিজ করে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তদন্তের স্বার্থে জেল হেফাজতেই তাদের জেরা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে পুলিশকে। মামলার শুনানির সময় আদালত চত্বরে বিক্ষুব্ধ জনতার ভিড় জমে ওঠে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনার সঙ্গে আরও দু’জন জড়িত থাকলেও তারা এখনও পলাতক। তাদের খোঁজে তল্লাশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে। উত্তর ত্রিপুরা জেলার পুলিশ সুপার অবিনাশ রাই জানান, “মূল তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পেশ করা হয়েছে। নৃত ব্যক্তির বিচারের দাবিতে যে আন্দোলন চলছে, পুলিশ তার সঙ্গে সহানুভূতিশীল। তবে অসৎ উদ্দেশ্যে কেউ যেন এই আন্দোলনে উসকানি না দেয়, সে বিষয়ে সকলকে সতর্ক থাকতে হবে।”
উল্লেখ্য, শনিবার রাতে আত্মহত্যা করেন ২৪ বছর বয়সি ব্লুডার্ট এক্সপ্রেস কুরিয়ার সংস্থার ডেলিভারি কর্মী প্রসেনজিৎ সরকার। রবিবার ভোরে তাঁর বাড়ি থেকে মাত্র ৫০ মিটার দূরে একটি গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের অভিযোগ, সামাজিক মাধ্যমে অপমানজনক ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে তিনি চরম সিদ্ধান্ত নেন। এই ঘটনায় তাঁর বাবা নেপাল সরকার তিন মহিলা ও দুই পুরুষের বিরুদ্ধে খুন ও খুনে প্ররোচনার অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের করেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একটি পার্সেল ডেলিভারির ফোন কল সংক্রান্ত ভুল বোঝাবুঝি থেকেই ঘটনার সূত্রপাত। অভিযোগ, ক্ষমা চাইলেও তাকে মারধর করা হয় এবং আইনি হুমকিও দেওয়া হয়। পরে সেই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার পর ধর্মনগরসহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ব্যাপক প্রতিবাদ শুরু হয়। রাস্তায় নেমে নাগরিক সমাজ ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্লোগান তোলে। ধর্মনগর শ্রমিক মনিটরিং সেল ও অনলাইন হোম ডেলিভারি কর্মী অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকেও বিক্ষোভ ও মোমবাতি মিছিল করা হয়। আগরতলায় রাজ্য পুলিশের সদর দফতরের সামনে ডিরেক্টর জেনারেল অব পুলিশ অনুরাগ ধ্যানকরের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়ে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে রাজ্য সরকারের শীর্ষ মহল থেকেও কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহা সামাজিক মাধ্যমে বিবৃতিতে জানান, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পুলিশকে। প্রবল প্রতিবাদের মুখে মূল অভিযুক্ত মহিলা, যিনি ধর্মনগরের একটি বেসরকারি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ছিলেন, তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুন- নৈরাজ্যের বাংলাদেশে ফের হিন্দু-বিদ্বেষ, মেরে পুড়িয়ে দেওয়া হল হিন্দু যুবকের দেহ
আরও পড়ুন- Sourav Ganguly: ‘চিটিংবাজ’ মন্তব্যে রেগে আগুন দাদা! মেসি ভক্তের বিরুদ্ধে এফআইআর সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের
আরও পড়ুন- Deucha Pachami: শিল্প সম্মেলনের আগে বরাত বাতিল, দেওচা–পাঁচামি নিয়ে ভাঁওতাবাজির অভিযোগ
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us