/indian-express-bangla/media/media_files/14yTWobZSzzZ4pyZDaTK.jpg)
প্রতীকী ছবি।
পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার হেজামারা এলাকায় গতকাল রাতে বিজেপি কার্যালয় তৈরিকে কেন্দ্র করে শাসকদলীয় জোট শরিক তিপ্রা মথা দলের কর্মীরা আক্রমণ করেছে বলে অভিযোগ, অভিযোগ এও রয়েছে যে দুজন পার্টি কর্মী এই আক্রমণে গুরুতর আহত হয়েছেন, এবং তাদের মধ্যে একজনকে পরবর্তী সময়ে আগরতলায় শীর্ষ রেফারেল হাসপাতাল - গোবিন্দ বল্লভ পন্থ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। ঘটনায় ভাঙচুর করা হয়েছিল একটি গাড়িও।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ জানিয়ে স্থানীয় একজন বিজেপি নেতা বলেছেন, "আমরা একটি জোত জায়গার ওপর নিজেদের পার্টি অফিস তৈরি করছিলাম। অজ্ঞাত কারণে তিপ্রা মথা দলের পক্ষে আমাদের এই অফিস তৈরির কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়। স্বাভাবিকভাবেই আমরা তাদের কথা মানিনি এবং ভবিষ্যতেও আমরা এই অফিস আবার তৈরি করব। কিন্তু গতকাল রাত আটটা নাগাদ এক দল তিপ্রা মথা কর্মী আমাদের কর্মী সমর্থকদের উপর এই এলাকায় আক্রমণ চালায়, একটি গাড়ি ভেঙে দেয় এবং দুজনকে গুরুতর আহত করে। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই"।
স্থানীয় থানায় এ নিয়ে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তদন্ত চালু রয়েছে বলে জানিয়েছেন এলাকার পুলিশকর্তারা। হেজামার এলাকায় সিমনা অঞ্চলে বিজেপির মন্ডল অফিস নির্মাণ নিয়েই ঘটনার সূত্রপাত এবং ঘটনা গুরুতর হতে শুরু করল এলাকায় ছুটে যান পুলিশকর্মীরা; দমকল বাহিনীর একটি গাড়ি আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে একটি স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরবর্তী সময়ে আগরতলায় নিয়ে যান।
আজ সকালে আগরতলায় গোবিন্দ বল্লভ পন্থ হাসপাতালে আহতদের দেখতে ছুটে যান মন্ত্রী টিঙ্কু রায়, বিজেপি জনজাতি নেতা বিপিন দেববর্মা সহ অন্যান্যরা। "দলীয় কাজ সেরে যখন বসে ছিলেন, তখন কিছু সমাজদ্রোহী এবং তিপ্রা মথা দলের নামধারী কিছু লোক তাদের অপর আক্রমণ করে, লোহার হাতুড়ি দিয়ে তাঁকে যখন করা হয়েছে। তাঁর মাথায় প্রায় সাতটি সেলাই লেগেছে, হাসপাতালে সিটিস্ক্যান চলছে। আমরা পুলিশে অভিযোগও করেছি। প্রায়ই এইসব ঘটনা চলছে। আমরা বারবার নিন্দা জানিয়েছি। একটি রাজনৈতিক দল প্রতিনিয়ত সন্ত্রাস করবে, এটিও ঠিক নয়, এসব কাম্য নয়। আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এসব নিয়ে ভাববেন," হাসপাতালে আহত দলীয় কর্মীদের সাথে দেখা করে বাইরে এসে বলেন মন্ত্রী টিংকু রায়।
আরও পড়ুন-মোদীই হোন বা মমতা! কেন I-PAC-কে এত ভরসা? জানুন সংস্থার রহস্যে ভরা কর্মযজ্ঞ!
আজ সকালে মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, "তাদের (তিপ্রা মথা) সুপ্রিমো আজ সকালেই আমায় জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। আমি একবারের জন্যেও তাঁকে এই বিষয়ে কিছু বলিনি। আইন আইনের পথে চলবে। আমি কাল রাতেই পুলিশকে বলেছি, কাউকে যেন না ছাড়া হয়। যেখানেই এইসব ঘটনা ঘটছে, পুলিশ কিন্তু দোষীদের গ্রেপ্তার করছে, তাদের সাজা হচ্ছে বহু জায়গায়। কিন্তু আমরা কমজোর হয়ে কাউকে বলবো, কেন এসব হচ্ছে, এটি আমি বলছি না। আমায় শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, ভালো, আমিও সময়ে শুভেচ্ছা জানাবো। আমাদের বোঝা উচিত, এইসব রাজ ইতি মানুষ আর পছন্দ করছেন না, এগুলি বন্ধ করা উচিত"।
কারও নাম উল্লেখ না করে তিপ্রা মথা দলের প্রধান প্রদ্যুৎ কিশোর মানিক্য দেববর্মার প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী আজ বলেছেন, "তিনি একদিকে বলছেন যে যারা এসব (হিংসাত্মক কাজকর্ম) করছে, তাদের কোন জাতপাত, ধর্ম, রাজনীতি নেই, আবার ছদ্মবেশে এসব ঘটনা করা হচ্ছে। তাই এসব রাজনীতি যে না করা উচিত, এই কথা সকলের বোঝা উচিত। আসলে তাঁরা সবসময় এইভাবেই রাজনীতি করে এসেছেন; সামনে একরকম বলেন, পেছনে আরেক রকম বলেন। মানুষ এসব আর পছন্দ করছেন না"।
আরও পড়ুন-IPAC raid Kolkata: আইপ্যাক তল্লাশিতে 'বাধা', ফাইল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, আদালতের দ্বারস্থ ED
সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে নাম না করে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে প্রদ্যুৎ কিশোরের কিছু কটাক্ষ ও প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী আজ বলেছেন, "তাঁরা তো আমায় বলেছেন, আমি নাকি অজ্ঞ, এখানকার ইতিহাস জানি না। আমাদের দলের সামাজিক মাধ্যম থেকে তাঁদের সমস্ত প্রশ্নের জবাব তো দেয়া হয়েছে। আসলে আমি সম্প্রতি ছামনুতে একটি জনসভায় তাদের আসল কথা ফাঁস করে দিয়েছি। সত্য কথা তাদের হজম হয় না। তাই আবার গোয়েবলসীয় কায়দায় প্রচার করছে, আমি অজ্ঞ। আমি সবকটা প্রশ্নের উত্তর তাঁকে আমি দেব"।
বিকেলে আগরতলায় তিপ্রা মথা দলের মুখপাত্র রাজেশ্বর দেববর্মা হেজমারা ঘটনার সমালোচনা জানিয়ে বলেছেন, "ঘটনাটি একান্তই অনাকাঙ্ক্ষিত। আমরা হিংসার বিরোধী, হিংসায় আমরা বিশ্বাস করিনা। আমাদের দলের প্রধান বারবারই সকলকে হিংসার বিরুদ্ধে আবেদন করে থাকেন। গতকালের হেজামারার হিংসাত্মক ঘটনার সম্পূর্ণভাবে আমরা নিন্দা করি। রাজ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাবার লক্ষ্যে আমাদের চিন্তাভাবনা করা দরকার। যারা সেখানে ঘটনা সংগঠিত করার জন্যে উস্কানি দিয়েছে, তাদের প্রতিও আমাদের অনুরোধ থাকবে, এইসকল উস্কানি রাজনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব আনে। রাজ্য সরকারের অংশীদার যারা রয়েছেন, তাঁদের আরো বেশি দায়দায়িত্ব রয়েছে। গ্রামে গিয়ে হিংসা চিরাবার জন্যে উস্কানি যেন না ছড়ানো হয়, এবিষয়ে লক্ষ্য রাখা দরকার"।
আরও পড়ুন-IPAC raid Kolkata: আইপ্যাক তল্লাশিতে 'বাধা', ফাইল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, আদালতের দ্বারস্থ ED
তিনি আরো বলেছেন, গতকালের ঘটনায় যতদূর জানা গেছে, হেজামারায় একটি রাজনৈতিক দলের অফিস স্থাপনের লক্ষ্যে কাজ চলছিল, কিন্তু রাত নয়টার দিকে নেশায় বুঁদ কিছু লোকজন এইরকম হিংসার পরিবেশ তৈরি জন্যেই সেখানে জড়ো হয়েছিল।
"এই শীতকালে রাত ৯-১০ টার সময় অফিস তৈরি জন্যে কেউ থাকেনা। এইরকম নেশাখোর লোকজন, তারা যে দলেরই হোক, এদের কাছ থেকে সকলের দূরে থাকা দরকার। শান্তির পক্ষে থেকে সরকারের সাথে কাজ করার জন্যে আমরা বদ্ধপরিকর। গতকালের ঘটনার উন্নয়নের পরিপন্থী। সরকার, বিরোধীদল সকলে মিলে শান্তি এবং সম্প্রীতির জন্যে কাজ করা দরকার," বলেন তিনি।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us