/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/13/manik-2025-12-13-15-56-11.jpg)
Tripura Kalyanpur genocide: উচ্চ আদালতে যাবে সরকার।
ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে এবং অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার জন্যে ১৯৯৬ সালের কল্যাণপুর বাজার কলোনি গণহত্যা মামলা পুনরায় খোলার অনুমতি চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করবে রাজ্য সরকার, শুক্রবার খোয়াই জেলার কল্যাণপুরে একথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহা।
কল্যাণপুর গণহত্যার ২৯ বছর পার উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে একথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। কল্যাণপুর বিজেপি মন্ডল কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় আলোচনা করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, "যারা শহীদ হয়েছেন আমি তাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছি এবং তাদের কাছে দোয়া চাইছি যেন আমাকে ন্যায় বিচারের জন্য লড়াই করার শক্তি দেয়"।
২৯ বছর আগে ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর রাতে শিশু, বৃদ্ধ, নারী, পুরুষ সহ প্রায় ২৬ জন নিরীহ মানুষকে হত্যা করে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। নিষিদ্ধ জঙ্গিগোষ্ঠী অল ত্রিপুরা টাইগার ফোর্স অথবা এটিটিএফ এর জঙ্গিরা সে রাতে কল্যাণপুর মোটরস্ট্যান্ড এলাকায় হত্যাকাণ্ড চালিয়েছিল। এটিটিফ এর তৎকালীন সুপ্রিমো রঞ্জিত দেববর্মা ও অন্যান্যদের নাম সেই ঘটনায় উঠে এসেছিল।
সারাদেশেই সেই ঘটনা তখন চমকে দিয়েছিল সবাইকে; কিছুদিন পরই কল্যাণপুর পরিদর্শনে এসেছিলেন তৎকালীন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লালকৃষ্ণ আডবাণী। সমগ্র ঘটনাটি স্মরণ করে মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা আজ বলেছেন, "এর জন্যে কারা দায়ী, তা সবাই জানে। আমি চিন্তা করতে চাই যে কমিউনিস্টদের কি নাম দেওয়া উচিত। কমিউনিস্ট মানে খুনি, ধর্ষক, সন্ত্রাসী, মানুষকে দমনকারী এগুলো সবই কমিউনিস্টদের প্রতিশব্দ। আমার খুব অবাক লাগে যে বিধানসভায় সিপিএমের ১০ জন বিধায়ক রয়েছেন। তারা যেভাবে নির্বাচিত হলেন, তাতে আমি হতবাক। তারা কখনই জনগণের কথা বলে না তারা শুধু তাদের ক্যাডারদের কথা বলে"।
সিপিএম এবং গণমুক্তি পরিষদের ক্যাডাররা স্থানীয় দলগুলিতে যোগ দিয়েছে এবং অশান্তি তৈরি করছে, যেখানে মেলারমাঠের লালবাড়িতে কন্ট্রোল রুম রয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। হিংসাত্মক ঘটনার সাথে জড়িত সকলের নামের একটি তালিকা তৈরি করা হচ্ছে এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডা প্রমুখরা গোটা বিষয়টির উপর নজর রাখছেন বলে মুখ্যমন্ত্রী আজ কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, কাউকে রেহাই দেওয়া হবে না।
এটিটিএফ সুপ্রিমো রঞ্জিত দেববর্মাসহ অনেক আত্মসমর্পণকারী জঙ্গিরাই পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে যোগ দিয়েছে। রঞ্জিত দেববর্মা নিজে এখন বিজেপির জোটশরিক তিপ্রা মথা দলের বিধায়ক এবং বরিষ্ঠ নেতা।
যদিও মুখ্যমন্ত্রী আজ গোটা বক্তব্যেই বিরোধী সিপিআইএম দলের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দেখিয়েছেন, তিপ্রা মথা দলের বিরুদ্ধে তাঁকে কোন কিছু বলতে শোনা যায়নি। "দক্ষিণ জেলায় সিপিএম-এর সময়ে প্রায় ৬৯ জন খুন হয়েছিলেন। এটিটিএফ এখানে গণহত্যা চালায়। সন্ত্রাসবাদীদের মূলধারায় আনতে এবং উত্তর-পূর্বে শান্তি ফিরিয়ে আনতে প্রায় ১২টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। যে সন্ত্রাসবাদীরা মানুষ হত্যা, ধর্ষণ, সহিংসতা সৃষ্টি করেছে তাদের রেহাই দেওয়া হবে না। এখনও কিছু সন্ত্রাসী, মুখোশ পরে, মানুষের জন্য কাজ করার ভান করে, কিন্তু ঈশ্বর সব দেখছেন। আমাদের সরকার তাদের শাস্তি দেওয়ার চেষ্টা করে যাবে," বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
"কমিউনিস্টরা রাজ্যে জঙ্গলরাজ তৈরি করেছিল", একথা বলে তিনি আরও জানান কংগ্রেস একসময় কমিউনিস্টদের কড়া বিরোধী ছিল ত্রিপুরায়, তারাও এখন তাদের সঙ্গে একসঙ্গে নির্বাচনে লড়েছে এবং সেজন্যেই বিজেপি একের পর এক নির্বাচনে জয়লাভ করছে। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, "সাম্প্রতিককালে ত্রিপুরাজুড়ে জাতি ও জনজাতি সম্প্রদায়ের সার্বিক উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে চলেছে সরকার।"
"আমরা বন্দুক ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে রাজনীতি করতে দেব না। আমরা নতুন ত্রিপুরা গড়ব। কল্যাণপুরে নিহতদের প্রতি কমিউনিস্টরা কখনো শ্রদ্ধা জানায়নি। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে এবং অপরাধীদের শাস্তি দেওয়ার জন্য এই মামলাগুলি নতুনভাবে পুনরায় খোলার অনুমতি দেওয়ার জন্য আমি হাইকোর্টে আবেদন করব," বলেছেন তিনি।
স্মরণসভায় উপস্থিত ছিলেন রাজ্য বিধানসভার মুখ্যসচেতক কল্যানী সাহা রায়, বিধায়ক পিনাকী দাস, খোয়াই জেলার সভাপতি বিনয় দেববর্মা, বিএসি চেয়ারম্যান ইন্দ্রানী দেববর্মা, কল্যাণপুর মন্ডল সভাপতি নিতাই বল সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us