/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/26/tripura-assembly-speaker-biswabandhu-sen-passes-away-2025-12-26-16-22-02.jpg)
ত্রিপুরা বিধানসভার অধ্যক্ষ বিশ্ববন্ধু সেনের প্রয়াণ, রাজ্যজুড়ে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা
প্রায় পাঁচ মাসের দীর্ঘ অসুস্থতার পর শুক্রবার সকালে কর্নাটকের বেঙ্গালুরুতে একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন ত্রিপুরা বিধানসভার অধ্যক্ষ ও বর্ষীয়ান বিধায়ক বিশ্ববন্ধু সেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭২ বছর।
চলতি বছরের ৮ আগস্ট আগরতলার বাধারঘাট রেলস্টেশন থেকে নিজের বিধানসভা এলাকা উত্তর ত্রিপুরা জেলার ধর্মনগরের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার ঠিক আগে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। রেলস্টেশন চত্বরে অচৈতন্য হয়ে পড়লে তাঁকে দ্রুত আগরতলার উপকণ্ঠে অবস্থিত হাঁপানিয়ার ত্রিপুরা মেডিক্যাল কলেজ ও ডা. বি আর আম্বেদকর টিচিং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকেরা জানান, তিনি মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বা ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন। দ্রুত অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হওয়ায় পরে তাঁকে আগরতলার একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। অবস্থার বিশেষ উন্নতি না হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে বেঙ্গালুরুতে নিয়ে যাওয়া হয়।
প্রায় পাঁচ মাস ধরে চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার সকালে বেঙ্গালুরুর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। বিশ্ববন্ধু সেনের প্রয়াণে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে দলমত নির্বিশেষে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক মাধ্যমে শোকবার্তা জানিয়ে বলেন, ত্রিপুরার অগ্রগতি ও বিভিন্ন সামাজিক বিষয়ে বিশ্ববন্ধু সেনের অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি প্রয়াত অধ্যক্ষের পরিবারবর্গের প্রতিও গভীর সমবেদনা জানান। লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লাও শোকপ্রকাশ করে বলেন, রাজ্যের মানুষের জন্য তাঁর নিঃস্বার্থ কাজ সর্বদা মানুষের মনে থাকবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানান, জনসেবায় বিশ্ববন্ধু সেনের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন রাজ্যের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।
ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহা শোকবার্তায় বলেন, “ত্রিপুরা বিধানসভার মাননীয় অধ্যক্ষ বিশ্ববন্ধু সেন মহোদয়ের প্রয়াণে আমি গভীরভাবে শোকাহত। তাঁর অকালপ্রয়াণ রাজ্যবাসীর জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা।”
প্রয়াত অধ্যক্ষের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাঁর মরদেহ শনিবার বেঙ্গালুরু থেকে আগরতলায় আনা হবে এবং রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হবে। তাঁর প্রয়াণে রাজ্য সরকার ২৬ থেকে ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। এই সময়ে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে এবং শুক্রবার রাজ্যের সমস্ত সরকারি দপ্তর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ জারি করা হয়েছে।
ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও লোকসভার সাংসদ বিপ্লব কুমার দেবও শোকপ্রকাশ করে প্রয়াত নেতার আত্মার সদ্গতি কামনা করেছেন। বিরোধী দল সিপিআইএম-এর পক্ষ থেকেও গভীর শোক জানানো হয়েছে। বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী বলেন, মতাদর্শগত ভিন্নতা থাকলেও ব্যক্তিগতভাবে বিশ্ববন্ধু সেনের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ছিল এবং বিধানসভার ভিতরে শাসক ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষায় তিনি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছেন।
চারবারের বিধায়ক বিশ্ববন্ধু সেন দীর্ঘদিন কংগ্রেস রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার পর ২০১৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপিতে যোগ দেন। রাজ্যে প্রথম বিজেপি সরকার গঠনের পর তিনি উপাধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০২৩ সালের মার্চ মাস থেকে বিধানসভার অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। ১৯৫৩ সালের ২৩ মে উত্তর ত্রিপুরা জেলার ধর্মনগরে জন্মগ্রহণ করা বিশ্ববন্ধু সেন আগরতলার মহারাজা বীর বিক্রম কলেজ থেকে ১৯৭৫ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
বর্ষীয়ান এই নেতার প্রয়াণে ত্রিপুরার রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনে এক শূন্যতা সৃষ্টি হলো বলে মত রাজনৈতিক মহলের।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us