/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/20/tripura-2025-12-20-15-59-41.jpg)
Tripura protest Bangladesh threat: বাংলাদেশের হুমকির প্রতিবাদ জানিয়ে ত্রিপুরায় যুবকদের পাল্টা মিছিল।
উত্তর পূর্ব ভারত দখল করা, এই অঞ্চলের জঙ্গী সংগঠনগুলিকে বাংলাদেশে নিরাপদ আশ্রয় ও সাহায্য দেওয়াসহ ভারতের মূল ভূখণ্ডের সাথে উত্তরপূর্ব রাজ্যগুলির মূল সংযোগস্থল শিলিগুড়ি 'চিকেন নেক' কে নিশানা করার জবাবে ত্রিপুরার বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদের ঝড় বয়ে গেছে।
আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হয় কমিশন কার্যালয়ের সামনে এবং তার সন্নিকটে আগরতলা সার্কিট হাউস এলাকায় আজ পথ অবরোধ, বিক্ষোভ প্রদর্শন করলো রাজ্যের শাসকজোট শরিক তিপ্রা মথা দলের যুব সংগঠন ওয়াইটিএফ।
"ভারতের ঐক্যের সঙ্গে আপোষ নয়", "আমরা ঐক্যবদ্ধ এক উত্তরপূর্বাঞ্চল" সহ উত্তরপূর্ব ভারতের নিরাপত্তা এবং ঐক্যের ওপর আঘাত করার জন্যে বাংলাদেশের নেতৃত্বের ধিক্কার জানিয়েছেন হাজারো যুবক যুবতীরা।
আরও পড়ুন- Dipu Chandra Das: কে ছিলেন দীপু চন্দ্র দাস, যাকে বাংলাদেশে পিটিয়ে মেরে গায়ে আগুন ধরানো হয়...
প্রতিবাদ কর্মসূচির মধ্যে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে গিয়ে ওয়াইটিএফ সভাপতি সুরজ দেব্বর্মা জানিয়েছেন, "গত কিছুদিনে বাংলাদেশে ভারতীয় হাই কমিশনের সামনে হৈচৈ করে উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলিকে বাংলাদেশ দখল করে নেবে বলে হুমকি দিয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস স্বাক্ষী, ১৩ দিনের যুদ্ধের পর স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র অপহার দিয়েছিল ভারতীয় সেনাবাহিনী। অথচ দুর্ভাগ্যবশত, বাংলাদেশের কিছু লোক প্রতিদিন ভারতের বিরুদ্ধে, বিশেষ করে উত্তরপূর্ব ভারতের রাজ্যগুলির বিরুদ্ধে বিষোদগার করে চলেছে। যদি বাংলাদেশের লোক ভাবেন উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলিকে বাংলাদেশের ভেতর দখল করে নেবেন, তাহলে আমরাও বাংলাদেশের কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত পর্যন্ত গ্রেটার তিপ্রাল্যান্ড এর অংশ করবো। তাদের এইসকল অশান্তিমূলক কথাবার্তা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে, নয়তো আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে"।
তিনি আরো বলেন বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম ঐতিহাসিকভাবে ভারতবর্ষের সাথে যুক্ত হতে চেয়েছেন এবং অতীতে রাজন্য ত্রিপুরার অন্তর্গত ছিল।এদিকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল এনসিপির নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ এর মন্তব্যের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে করে মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহা আজ বলেছেন, "বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেখানে থেকে বাধ্য হয়ে চলে এসেছেন, তখন থেকেই আমরা জানি কি হতে চলেছে। সেখানকার সকল অপরাধী, উগ্রপন্থীদের জেল থেকে তালা খুলে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। যেহেতু এই বিষয়টি আন্তর্জাতিক বিষয়, আমরা সকল রিপোর্ট দিল্লিতে জানিয়েছি। যেকোন পরিস্থিতির জন্যে আমরা তৈরি আছি"।
তিনি আরো বলেন সীমান্ত সুরক্ষা এবং নিরাপত্তার দিকে থেকে ত্রিপুরা শক্তিশালী অবস্থায় রয়েছে এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রতিদিন সকল ঘটনাবলীর দিকে নজর রাখছেন।
"যা যা দরকার, সব করা হবে। সময়ই কথা বলবে। তাছাড়া, এখন প্রযুক্তির যুগ। সশরীরে সব জায়গায় থাকার প্রয়োজন হয়না। ড্রোনের মাধ্যমে, আমাদের এস ৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ইত্যাদি ব্যবহার করে ঘিরে বসেই প্রচুর ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। আমরা সবদিক থেকেই সমার্ন তৈরি", তিনি বলেন।
চারদিন আগে পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি অথবা এনসিপির দক্ষিণাংশের মূল সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ সেদেশের রাজধানী ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ইনকিলাব মঞ্চের এক বিক্ষোভ সভায় হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, ভারত যদি বাংলাদেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করার চেষ্টা করে, তবে উত্তরপূর্ব ভারতের সেভেন সিস্টার্স অথবা সত্যি রাজ্যকে নিশানা বানাবে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে উত্তরপূর্বাঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদী, উগ্রপন্থী সংগঠনগুলিকে বাংলাদেশ থেকে সাহায্য করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছিল।
আরও পড়ুন-Khaleda Zia: খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে বড় আপডেট, কী জানালেন ব্যক্তিগত চিকিৎসক?
হাসনাত আব্দুল্লাহ এর হুমকি কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; চলতি বছরের ১২ ডিসেম্বর উগ্র বাংলাদেশী নেতা শরীফ উসমান হাদি 'গ্রেটার বাংলাদেশ' তৈরি করার জন্যে ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চল দখল করে নেবার জন্যে সওয়াল করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে অবশ্যই অজ্ঞাত আততায়ীরা ঢাকা শহরেই গুলি করে; তার এক সপ্তাহ পর মারা যান হাদি।
৩১ মার্চ একই কায়দায় বাংলাদেশের বর্তমান মুখ্য উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস চীন সফরকালে ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলকে ল্যান্ডলকড অর্থাৎ চারদিক থেকে ভূমি দিয়ে ঘেরা বলে মন্তব্য করে বলেছিলেন, গোটা অঞ্চলে বাংলাদেশই একমাত্র সমুদ্রের রক্ষাকর্তা। বাংলাদেশে চিনা পুঁজি বিনিয়োগ করার জন্যে সেদেশের সরকার ও ব্যবসায়ীদের আহবান জানিয়েছিলেন। অক্টোবর মাসেই পাকিস্তানের শীর্ষ সেনানায়কদের একটি বই উপহার দিয়েছিলেন ইউনূস; সেই বইতে উত্তর পূর্ব ভারতের বেশ কিছু অংশকে বাংলাদেশী ভূখণ্ডের অংশ বলে একটি মানচিত্রে দেখানো হয়েছিল।
২৯ এপ্রিল বাংলাদেশের সাবেক সেনা ও সাবেক বাংলাদেশ রাইফেলস প্রধান মেজর জেনারেল এএলএম ফজলুর রহমান একটি বিতর্কিত মন্তব্য বলেছিলেন, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারত কোন সেনা অভিযান করলে ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলিকে দখল করে নেওয়া উচিত বাংলাদেশের।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us