/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/12/manik-saha-2025-12-12-18-33-13.jpg)
CM Manik Saha: ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা।
ত্রিপুরার সিপাহীজলা জেলার সুতার মুড়া অঞ্চলে শাসকদল বিজেপি এবং শাসক জোট শরিক তিপ্রা মথা দলের মধ্যে সংঘর্ষ দুদিনের মধ্যেই বিরোধী সিপিআইএম এবং প্রছন্নভাবে তিপ্রা মথা দলের প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহা বলেছেন সিপিএম-এর সমর্থনপুষ্ট কিছু মানুষ স্থানীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে সমস্যা তৈরি করছে।
ত্রিপুরার গোটা পরিস্থিতির দিকে প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং দলীয় প্রধান জেপি নাড্ডা নজর রাখছেন বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। আজ ভারতীয় জনতা পার্টির চড়িলাম মন্ডলের উদ্যোগে সুতারমুড়া বাজারে আয়োজিত একটি দলীয় যোগদান সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হুশিয়ারির সঙ্গে বলেছেন যে ত্রিপুরার সুনাম নষ্ট করার জন্য একটা অংশ অশান্তি সৃষ্টির জন্য কাজ করছে।
মূলত, বিরোধী দল সিপিআইএমের দিকে ইঙ্গিত করেই তিনি বলেন, তারা ধীরে ধীরে পায়ের নিচে তাদের জমি হারিয়ে ফেলছে। সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষ উশৃঙ্খলতা, গুন্ডামি মেনে নেবে না। মানুষ ত্রিপুরায় শান্তি চায় এবং রাজ্য সরকারও শান্তির পক্ষে, বলেন তিনি। "ভারতবর্ষে ত্রিপুরা একটি শান্তিপূর্ণ রাজ্য হিসেবে পরিচিত। কিন্তু কিছু লোক অশান্তি সৃষ্টি করে ত্রিপুরার নাম বদনাম করার জন্য তৎপর রয়েছে। ত্রিপুরার আইন শৃঙ্খলা কিভাবে বিনষ্ট করা যায় সেই চেষ্টা করছে তারা। তারা ধীরে ধীরে পায়ের নিচে তাদের জমি হারাচ্ছে," তিনি বলেন।
এদিকে শাসক জোট শরিক তিপ্রা মথা দলের নাম না করে আজ তিনি বলেছেন, "কিছু লোক বলছে ২০২৩ নির্বাচনে যদি আমরা বিভিন্ন জায়গায় আমাদের পার্টি থেকে লোক না দিতাম তবে এই সরকার হতো না। তাই আমি তাদের মনে করিয়ে দিতে চাই ২০১৮ নির্বাচনে আপনারা কোথায় ছিলেন? তখন তো আপনাদের দেখা যায় নি! তখন কি করে ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার ত্রিপুরায় গঠিত হয়েছে? প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আশীর্বাদে সেটা সম্ভব হয়েছে।"
প্রসঙ্গত, সোমবার চড়িলাম বিধানসভা অন্তর্গত সুতারমুড়া বাজারে বিজেপি সভাকে কেন্দ্র করে তিপরা মথা সমর্থক এসে ভাঙচুর চালায় বলে বিজেপি দলের পক্ষে ইতিপূর্বে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেন বিজেপি সাধারণ সম্পাদক বিপিন দেববর্মা বলেছেন "মথার এই গুন্ডাগিরি ২৬শে শেষ হয়ে যাবে। তারা জানে, ২০২৬ এ মথা আর সরকার থাকছে না। এটি ১০০ শতাংশ ঠিক হয়ে গেছে এবং সাধারণ মানুষ নিশ্চিত করে নিয়েছেন যে বিজেপি সরকার পুনরায় ক্ষমতায় বসতে চলেছে। মথার পায়ের নিচে জমি দ্রুত সরে যাচ্ছে। তাই হতাশা থেকে তারা এইসব করছে। জানুয়ারি পর্যন্তই জোট চলছে। তারপর এই ডিল (জোট) শেষ হয়ে যাবে।"
এর কিছুক্ষণ পরেই এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিপ্রা মথা দলের পক্ষে দাবি করা হয়েছে, তিপ্রা মথা ছাড়া কেউ সরকার গড়তে পারবে না ত্রিপুরায়। ২০২৩ রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে বিভিন্ন আসনে তিপ্রা মথা দল প্রার্থী দেওয়াতেই বিজেপি পুনরায় সরকার গড়তে পেরেছে বলেও দাবি করেছিলেন তিপ্রা মথা নেতৃত্ব। মূলত, বিজেপি-বিরোধী ভোট ভাগ করেই গেরুয়া দলকে ফেরত রাজ্যে মসনদে বসার সুযোগ করে দিয়েছে তিপ্রা মথা দল - এই অভিযোগটি অবশ্য বিরোধী সিপিআইএম দল বেশ কিছুদিন ধরেই করে আসছিল।
এই প্রসঙ্গে আজ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "মোদী আছেন বলে সবকিছু সম্ভব। মোদী এবং বিজেপির জাতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডাও সবকিছু দেখছেন। অপরাধীদের একটি তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং আমি তাদের সতর্ক করতে চাই। মানুষের অধিকার ক্ষুন্ন করার চেষ্টা করবেন না"। সাধারণ মানুষকে বিজেপিতে যোগদানের আহ্বান জানিয়ে তিনি এও বলেছেন যে কিছু মানুষ ভুল দিশায় যাচ্ছে এবং কিছু স্বার্থান্বেষী অংশের জন্য জনজাতি অংশের মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছে।
আরও পড়ুন- Mangherjung: উত্তরবঙ্গের গোপন স্বর্গ! প্রচারের আলোয় আসার আগেই ভাইরাল মাঙ্গেরজং
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বিজেপির জাতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা রাজ্যের ঘটনাবলীকে সূক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং সকল অপ্রীতিকর ঘটনার সাথে যুক্ত অপরাধীদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহা। উপজাতি কল্যাণে বিজেপি শাসিত কেন্দ্রীয় সরকারই বিভিন্ন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে বলে মন্তব্য করে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর আমলে, জনজাতিদের জন্য একটি পৃথক দপ্তর খোলা হয়েছিল এবং এখন প্রধানমন্ত্রী মোদি জনজাতি কল্যাণে (রাজ্যে বিজেপি সরকার আসার পর উপজাতীয় সম্প্রদায়ের লোকেদের সরকারিভাবে জনজাতি বলে সম্বোধন করা হচ্ছে) জন্য কাজ করছেন।
"আমরাও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্দেশ অনুসরণ করে কাজ করছি। আমরা অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছি এবং জনজাতিদের জন্য তহবিল সরবরাহ করছি। বিজেপি সব জায়গায় যাবে, কেউ আমাদের আটকাতে পারবে না। সিপিএম-এর সমর্থনপুষ্ট কিছু মানুষ স্থানীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে সমস্যা তৈরি করছে। ২০২১ সালের এডিসি নির্বাচনের সময়, বিজেপি কার্যকর্তাগণ আক্রমণের মুখে পড়েছিল। কিন্তু এখন আর সেরকম সুযোগ নেই। আমরা আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেব। আমরা এই ধরনের রাজনীতিকে সমর্থন করি না," তিনি বলেছেন।
নাম না করে মুখ্যমন্ত্রী আজ স্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলিকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে সিপিএম সমর্থিত দুষ্কৃতিরা স্থানীয় পার্টিতে যোগদান করে অশান্তি সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে কাজ করছে। "আমরা জোটের নিয়ম বজায় রাখছি। আমরা এডিসির জন্য প্রচুর পরিমাণে তহবিল দিচ্ছি। সাম্প্রদায়িক সুড়সুড়ি দিয়ে কেউ ঐক্য তৈরি করতে পারে না। কিংবা পেশীশক্তি দিয়ে সবকিছু অর্জন করতে পারে না। তাই যে শক্তির প্রয়োজনই হোক না কেন, আমরা শান্তি বজায় রাখার জন্য সেটা ব্যবহার করবো," তিপ্রা মথা দলের দিকে প্রায় স্পষ্ট বার্তা দিয়েই বলেছেন তিনি।
সভায় উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় জনতা পার্টির প্রদেশ সাধারণ সম্পাদক বিপিন দেববর্মা, প্রদেশ সম্পাদক ডেভিড দেববর্মা, যুব মোর্চার প্রদেশ নেতা নবাদল বণিক, সিপাহীজলা জেলার জেলাধিপতি সুপ্রিয়া দাস দত্ত, সিপাহীজলা জেলা উত্তরের সভাপতি বিপ্লব চক্রবর্তী, মন্ডল সভাপতি তাপস দাস, জনজাতি মোর্চার জেলা সভাপতিসহ অন্যান্য নেতৃত্ব।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us