/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/09/tripura-crime-rate-declines-2025-dgp-anurag-dhankar-press-conference-2026-01-09-21-13-12.jpg)
সুনামির বেগে কমছে অপরাধের সংখ্যা
পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশ, জঙ্গি কার্যকলাপ, খুন, ডাকাতি, নারীঘটিত অপরাধসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ দমনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে ত্রিপুরা। ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে রাজ্যে সামগ্রিক অপরাধের হার ৮.৩ শতাংশ কমেছে বলে জানিয়েছেন রাজ্য পুলিশের ডিজিপি অনুরাগ ধ্যানকর। শুক্রবার আগরতলায় রাজ্য পুলিশের মুখ্য কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন।
ডিজিপি অনুরাগ ধ্যানকর জানান, “২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে ত্রিপুরায় মোট অপরাধ ৮.৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ডাকাতি, চুরি, খুন, নারীঘটিত অপরাধ, উগ্রপন্থী কার্যকলাপ, সম্পত্তি সংক্রান্ত অপরাধ এবং ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের মতো সব ধরনের অপরাধই কমেছে। গত ২০ বছরের মধ্যে এ বছরই রাজ্যে অপরাধের হার সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে।”
পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, ডাকাতি ও চুরির মতো অপরাধ ১৬.০৪ শতাংশ কমেছে। সম্পত্তি সংক্রান্ত অপরাধের সংখ্যা ২০২৪ সালের ৩৪৯ থেকে কমে ২০২৫ সালে ২৯৩-এ দাঁড়িয়েছে। খুন ও অন্যান্য জঘন্য অপরাধের হার কমেছে ১৮.১০ শতাংশ। পাশাপাশি, হিংসাত্মক আক্রমণে জখম হওয়ার ঘটনা ১৪.২৩ শতাংশ কমেছে এবং মারধর ও দাঙ্গার মতো পরিস্থিতির হার প্রায় ২৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
মহিলা ঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রেও স্বস্তির ছবি মিলেছে। ২০২৪ সালে যেখানে নারীঘটিত অপরাধের ৫৭৮টি মামলা নথিভুক্ত হয়েছিল, সেখানে ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৫২০টিতে। অর্থাৎ এই ধরনের অপরাধে ৮.১৪ শতাংশ হ্রাস লক্ষ্য করা গেছে।
পথ দুর্ঘটনার ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য উন্নতির কথা জানিয়েছেন পুলিশ প্রধান। ২০২৫ সালে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা ৮.১৪ শতাংশ কমেছে। দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর হার কমেছে ১৪.৫৫ শতাংশ। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৮ থেকে ৪৫ বছর বয়সি মোটরচালকরাই সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনার কবলে পড়ছেন। ২০২৪ সালে দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ২২৬, যা ২০২৫ সালে কমে দাঁড়িয়েছে ১৯৭-এ। দুর্ঘটনায় আহত ও মৃত্যুহীন দুর্ঘটনার সংখ্যাও যথাক্রমে ২.৬ শতাংশ এবং ৫.৪৭ শতাংশ কমেছে।
জাতীয় গড়ের তুলনায় ত্রিপুরার সড়ক দুর্ঘটনার হার অনেকটাই কম বলে দাবি করেছেন ডিজিপি। ২০২০ থেকে ২০২৩ সালের সর্বশেষ জাতীয় পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে জনসংখ্যার প্রতি লক্ষে সড়ক দুর্ঘটনার হার ছিল ৩৪.৬। সেখানে ২০২৩ সালে ত্রিপুরায় এই হার ছিল ১৩.৯ এবং ২০২৫ সালে তা আরও কমে ১২.৫-এ নেমেছে। একই সময়ে রাজ্যে যানবাহনের সংখ্যা ৮.৮২ শতাংশ বেড়েছে। তবুও জাতীয় গড়ের তুলনায় সড়ক দুর্ঘটনার হার প্রায় এক তৃতীয়াংশে নামিয়ে আনা পুলিশের একটি বড় সাফল্য বলে দাবি করেন তিনি।
অবৈধ মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে ‘নেশামুক্ত ত্রিপুরা’ অভিযানের অংশ হিসেবে ২০২৫ সালে এনডিপিএস আইনে মামলা নথিভুক্তের হার ১১ শতাংশ বেড়েছে। নেশাবিরোধী অভিযানে গত বছরে ১৪ শতাংশ বেশি গাঁজা, ১৪৫ শতাংশ বেশি অবৈধ কফ সিরাপ এবং ২৬.৩৭ শতাংশ বেশি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে মাদকদ্রব্য উদ্ধার ও ধ্বংসের ক্ষেত্রে ২০২৫ সালে ৯২.৭ শতাংশ বেশি সাফল্য এসেছে বলে জানিয়েছেন ডিজিপি।
তিনি আরও জানান, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার অধীনে নতুন দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইন চালু হওয়ার পর পুলিশ, বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা এবং এনজিওগুলির যৌথ উদ্যোগেই এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে। একসময় ত্রিপুরায় সক্রিয় উগ্রপন্থী সংগঠন এনএফটি ও এটিটিএফ-এর বিপুল সংখ্যক সদস্য ২০২৪ সালে আত্মসমর্পণ করার পর রাজ্যে উগ্রপন্থী কার্যকলাপ কার্যত নেই বললেই চলে।
ডিজিপি জানান, গত বছরের আগস্ট মাসে উত্তর ত্রিপুরা জেলায় কিছু উগ্রপন্থী কার্যকলাপ চালানোর চেষ্টা হয়েছিল। তবে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর তৎপরতায় বিস্ফোরক, ডেটোনেটর উদ্ধার করা হয় এবং ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে সেই অপচেষ্টা ব্যর্থ করা সম্ভব হয়েছে।
রাজ্যে বর্তমানে বিভিন্ন মামলায় আদালতে দণ্ডাদেশের হার প্রায় ৩১ শতাংশ। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মধ্যে এই ক্ষেত্রে ত্রিপুরা সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে বলে দাবি করেন পুলিশ প্রধান। তিনি জানান, তুলনামূলকভাবে আসামে এই হার প্রায় ২৬ শতাংশ।
ত্রিপুরার ৮৫৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তে প্রথম সুরক্ষা বলয়ে রয়েছে বিএসএফ এবং দ্বিতীয় সুরক্ষা বলয়ে ত্রিপুরা পুলিশ ও ত্রিপুরা স্টেট রাইফেলস। বিভিন্ন এলাকায় সীমান্তে যৌথ প্রহরার ব্যবস্থাও চালু রয়েছে। গত বছর অবৈধ অনুপ্রবেশ সংক্রান্ত ২০২টি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে এবং মোট ৫৭৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৩৯৩ জন বাংলাদেশি নাগরিক, ১২ জন রোহিঙ্গা, ৬৮ জন অন্যান্য বিদেশি নাগরিক এবং ১২০ জন ভারতীয় দালাল রয়েছে, যারা অবৈধ অনুপ্রবেশ ও মানব পাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত।
যে সব সীমান্ত এলাকায় অনুপ্রবেশের ঘটনা বেশি ঘটছিল, সেগুলি চিহ্নিত করে সেখানে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিজিপি। পাশাপাশি, প্রতিবেশী বাংলাদেশ থেকে সাম্প্রতিক ভারতবিরোধী মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বিএসএফের সঙ্গে যৌথভাবে সমস্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
IPAC raid Kolkata: আইপ্যাক তল্লাশিতে 'বাধা', ফাইল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, আদালতের দ্বারস্থ ED
পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য বড় ঘোষণা! হেল্পলাইন চালু করলেন অভিষেক
শুরুতেই অঘটন, গঙ্গাসাগর মেলায় ভয়ঙ্কর অগ্নিকান্ড, পুড়ে ছাই একাধিক অস্থায়ী তাঁবু
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us