/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/07/kalna-ganja-seizure-police-chase-arrest-83kg-2025-12-07-08-21-52.jpg)
প্রতীকী ছবি
পশ্চিম ত্রিপুরা থেকে এক সক্রিয় জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করেছে ত্রিপুরা পুলিশ, আসাম পুলিশ ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার যৌথ বাহিনী। মঙ্গলবার ভোরে চালানো এই যৌথ অভিযানে জামাতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (JMB)-এর সহকারী জঙ্গি সংগঠন 'ইমাম মাহমুদের কাফেলা'-র সঙ্গে যুক্ত এক সক্রিয় সদস্যকে আটক করা হয়। ধৃতের নাম জাগির মিয়া (৩৩)।
রাজ্য পুলিশের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানান, স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্সের (STF) একটি মামলার সূত্র ধরেই জাগির মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চলতি মাসের ২৮ তারিখে নথিভুক্ত ওই মামলায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৪৩, ১৪৭, ১৪৮, ১৪৯, ১৫০, ১৫২, ১১৩(৫) ধারা এবং বেআইনি কার্যকলাপ (নিবারণ) আইন বা ইউএপিএ-র ১০, ১৩, ১৬, ৩৮, ৩৯ ও ৪০ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
তদন্তে উঠে এসেছে, ধৃত জাগির মিয়া দীর্ঘদিন ধরেই জামাতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের সহকারী জঙ্গি সংগঠনের সক্রিয় সদস্য হিসেবে কাজ করছিল। পুলিশের দাবি, সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে তার জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল এবং সেই সংক্রান্ত একাধিক প্রমাণ তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। আপাতত আইনি প্রক্রিয়া ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ত্রিপুরা বরাবরই নিরাপত্তার দিক থেকে সংবেদনশীল একটি রাজ্য। তিন দিক থেকে বাংলাদেশে ঘেরা এই রাজ্যটি একমাত্র অসম ও মিজোরামের মধ্য দিয়ে ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। ত্রিপুরার সঙ্গে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সীমান্তের দৈর্ঘ্য প্রায় ৮৫৬ কিলোমিটার। অধিকাংশ অংশে কাঁটাতারের বেড়া থাকলেও কিছু এলাকায় স্থানীয় সমস্যার কারণে এখনও সম্পূর্ণভাবে ফেন্সিং দেওয়া সম্ভব হয়নি।
ঐতিহাসিকভাবেও ত্রিপুরার সঙ্গে বাংলাদেশের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের সময় বিপুল সংখ্যক উদ্বাস্তু তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান থেকে ত্রিপুরায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। তখন রাজ্যের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ১৫ লক্ষ, অথচ আশ্রয় পেয়েছিল প্রায় ১৬ লক্ষ শরণার্থী। সেই সময় আগরতলা শহর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের লড়াইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অস্থায়ী কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল।
গত বছরের অগস্টে শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে সীমান্তের দু’পারের সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসের বক্তব্যে ‘সেভেন সিস্টার্স’-এর ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বাংলাদেশের ভূমিকাকে কেন্দ্র করে হুমকির সুর শোনা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়াও বাংলাদেশের কয়েকজন নেতার বক্তব্য ঘিরে উত্তর-পূর্ব ভারতের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। উসমান হাদির মুখে উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলি দখলের হুমকি থেকে শুরু করে এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহর বক্তব্যে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলিকে বাংলাদেশ আশ্রয় ও সাহায্য এমন মন্তব্য সামনে এসেছে। এই প্রেক্ষাপটে ত্রিপুরায় বাংলাদেশি জঙ্গি গ্রেপ্তারির ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছে নিরাপত্তা মহল।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us