/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/12/manik-saha-2025-12-12-18-33-13.jpg)
CM Manik Saha: ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা।
ত্রিপুরার উনকোটি জেলার কৈলাশহরে দুদিন আগে ঘটে যাওয়া অশান্তি এবং হিংসাত্মক সংঘর্ষের প্রসঙ্গে জড়িত সকলকে সাবধান করে মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহা বলেছেন, এইধরনের ঘটনার সাথে জড়িত কাউকে ছাড়া হবে না।
পিডব্লুডি দপ্তরের টেন্ডার জমা করা নিয়ে ২৩ জানুয়ারি ত্রিপুরার উনকোটি জেলার কৈলাশহরে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের মাঝে পাথর ছোড়া ভাংচুর ও অগ্নি সংযোগসহ বেশ কিছু লোকের আহত হবার ঘটনা ঘটে।
ঘটনাটি বিকেল নাগাদ শুরু হয় এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই টেন্ডার জমা করা দুই বিরোধী গোষ্ঠীর মধ্যে কথা কাটাকাটি, হাতাহাতি থেকে গড়িয়ে সন্ধ্যা নাগাদ মারামারি, আশেপাশের দোকান ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, পাথর ছোড়াছুড়ি ইত্যাদিতে পৌঁছয়।
ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় পরবর্তী সময় ভারতীয় জনতা পার্টির কৈলাশহর মন্ডল এলাকার সভাপতি প্রীতম ঘোষকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। স্থানীয় বিজেপি যুব মোর্চা নেতা অরুপ ধরের বাড়িতে ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ হয়েছিল এবং কিছু অস্থায়ী যুব মোর্চা কার্যালয়েও ভাঙচুর করা হয়েছে।
আরও পড়ুন- রাজীবের পর এবার কে? পরবর্তী ডিজি নিয়োগে নয়া জট, ক্যাটের নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে আদালতে UPSC
ঘটনা নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাবার অবস্থা হলে পুলিশ লাঠি চার্জ করে হিংস্র জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সঙ্গে কয়েক রাউন্ড গুলিও ছুঁড়তে বাধ্য হয় পুলিশ। এ'প্রসঙ্গে সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে জানতে চাওয়া হলে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, "আমার কাছে সমস্ত তথ্য এসেছে। আমিও তদন্ত করে দেখেছি। ভেতরের খবরও আমার কাছে এসেছে। যারা এই ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের কাউকেই ছেড়ে দেওয়া হবে না।
আরও পড়ুন- চিনের ঘুম হারাম! ইউরোপের সঙ্গে হাত মেলাল ভারত, নয়া চুক্তিতে এমন কী আছে যা বিশ্বকে তাক লাগাচ্ছে?
তিনি আরও বলেন, ত্রিপুরায় হিংসার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে পার হয়ে না কিছু লোক এবং এই অভ্যেস থেকেই পরশুর ঘটনা ঘটেছে বলেও ইঙ্গিত করেছেন তিনি। প্রসঙ্গত, সম্প্রতি বেশ কিছু হিংসার ঘটনায় বিরোধীদল সিপিআইএম এর দিকে আঙুল তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, বাম জমানায় রাজ্যে হিংসার সংস্কৃতির আমদানি করা হয়েছিল।
বিভিন্ন বিজেপি নেতারাও ইদানিং দাবি করেছিলেন, বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে বিভিন্ন গোষ্ঠীর রাজনৈতিক সংঘর্ষের পেছনেও বামপন্থীদের হাত রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর আজকে মন্তব্যকেও বামেদের প্রতি প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত বলে ভাবছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
আরও পড়ুন- Akhilesh Yadav: “ইডি পারেনি, বিজেপিও পারবে না! বাংলায় ফের দিদিই ফিরছেন”, ভবিষ্যদ্বাণী অখিলেশের
গতকাল রাজ্য কংগ্রেস বিধায়ক দলের নেতা বিরজিৎ সিনহা ঘটনাটি নিয়ে প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে বলেছিলেন, এই ঘটনার জন্যে একমাত্র দায়ী শাসকদল। তিনি জানিয়েছেন, এক অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীর খালি কোয়ার্টার দখল করে কিছু বিজেপি কর্মী বেশ কিছুদিন ধরে এলাকায় সমস্যা সৃষ্টি করে আসছিল। প্রশাসনকে জানানো হলেও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
কংগ্রেস বিধায়ক বীরজিৎ সিনহা আরও দাবি করেছিলেন, এই বিজেপি কর্মীরা আজকে নিজেদের দলেরই ওপর একটি গোষ্ঠীর সমর্থকদের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে সরস্বতী পুজোর দিনকে ম্লান করে দিয়েছে, এলাকায় উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
এ'প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন, "তাঁরা তো রাজনৈতিকভাবে এই মন্তব্য করছেন। আমি রাজনৈতিকভাবে বলছি না। আমি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বলছি। এখানে রাজনীতিকে না জড়ানোই ভালো। একটি ঘটনা ঘটে গেছে। এতে যারা জড়িত ছিল, তাদের জন্যে আইনের আওয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশক অনুরাগ ধ্যাণকর জানিয়েছেন, ২৩ তারিখে উনকোটি জেলার কৈলাশহরে ঘটনার সূত্রপাত হলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশকর্মীরা তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নিয়েছিলেন। লাঠি চার্জ করে ক্ষিপ্র জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। ঘটনায় ইতিমধ্যে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করা হয়েছে এবং যেকোন দোষীর বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us