Tripura News: ত্রিপুরায় শাসক জোটে ফাটল? ককবরক লিপি নিয়ে বিজেপি-মথা সম্মুখসমরে, গ্রেপ্তার ২৫!

Kokborok Language: ত্রিপুরায় ককবরক দিবসে রোমান লিপির দাবিতে উত্তাল আগরতলা। মিছিলে পুলিশের ধরপাকড়, গ্রেপ্তার ২৫। লিপি বিতর্কে বিজেপি ও তিপ্রা মথার রাজনৈতিক সংঘাত এবং প্রদ্যুৎ কিশোরের কড়া বার্তা নিয়ে বিস্তারিত পড়ুন।

Kokborok Language: ত্রিপুরায় ককবরক দিবসে রোমান লিপির দাবিতে উত্তাল আগরতলা। মিছিলে পুলিশের ধরপাকড়, গ্রেপ্তার ২৫। লিপি বিতর্কে বিজেপি ও তিপ্রা মথার রাজনৈতিক সংঘাত এবং প্রদ্যুৎ কিশোরের কড়া বার্তা নিয়ে বিস্তারিত পড়ুন।

author-image
Debraj Deb
New Update
Tripura, Kokborok Language, Roman Script, Kokborok Day, TIPRA Motha, BJP Tripura, Pradyot Kishore Debbarma, TSF, TISF, Agartala Protest, Student Arrests, Language Politics, Rampada Jamatia, Tribal Identity, North East India,ত্রিপুরা, ককবরক ভাষা, রোমান লিপি, তিপ্রা মথা, বিজেপি, প্রদ্যুৎ কিশোর দেববর্মা, ককবরক দিবস, আগরতলা, ছাত্র বিক্ষোভ, টিএসএফ, রামপদ জমাতিয়া, উপজাতি রাজনীতি, পুলিশি গ্রেপ্তার, ভাষা আন্দোল

News in Bengal Live: গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট জানুন।

ত্রিপুরার উপজাতি জনগণের অধিকাংশের মুখের ভাষা ককবরক এর লিপি নিয়ে শাসকদল বিজেপি এবং শাসক জোট শরিক তিপ্রা মথার মধ্যে জোর বিতর্কের মাঝে সোমবার তিপ্রা স্টুডেন্টস ফেডারেশন এবং তিপ্রা মথা দলের ছাত্র সংগঠন তিপ্রা ইন্ডিজেনাস স্টুডেন্টস ফেডারেশন অথবা টিআইএসএফ এর ব্যানারে সোমবার আগরতলা শহরে রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনের সামনে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থার একটি বর্ণাঢ্য মিছিল আটকে ককবরক ভাষার জন্যে রোমান লিপির দাবিতে প্রতিবাদ করে স্লোগান দিতে থাকলে অন্তত, ২৫ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় পুলিশ। 

Advertisment

রাজধানী শহরের উপকণ্ঠে অরুন্ধতীনগর পুলিশ লাইনে তাদের সাময়িকভাবে আটক করে রাখা হয় এবং পরবর্তী সময়ে বিকেলবেলা তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। রাজ্য সরকারের ককবরক ও অন্যান্য সংখ্যালঘু ভাষা উন্নয়ন অধিকর্তা দপ্তরের উদ্যোগে আজ রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে উদযাপনের একটি আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানটি উপলক্ষে রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনের সামনে থেকে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও সাংস্কৃতির সংস্থার উদ্যোগে বর্ণাঢ্য মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন- West Bengal News Live: রাজনীতি নাকি নিছকই সেবা? ভোটের মুখে আজ 'সেবাশ্রয়' পরিদর্শনে অভিষেক

ককবরক ভাষাকে সরকারিভাবে স্বীকৃতি দেবার ৪৮ তম বছর উদযাপনের মিছিল বের হতে না হতেই নর্থ ইস্ট স্টুডেন্ট অর্গানাইজেশন অথবা নেসো এর শরিক ছাত্র সংগঠন টিএসএফ এবং শাসক জোট শরিক তিপ্রা মথা দলের ছাত্র সংগঠন তিপ্রা ইন্ডিজেনাস স্টুডেন্টস ফেডারেশন অথবা টিআইএসএফ এর কিছু সমর্থক ঘটনাস্থলে জড় হয় বিক্ষোভ জানাতে থাকে এবং ককবরক ভাষার জন্যে রোমান লিপি চালু করার দাবি জানাতে আয়োজকরা শোভাযাত্রা চালু করার অনুরোধ করলেও কোন কাজ হয়নি, এবং অবশেষে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ২৫ জনকে মূল মিছিল প্রায় ১ কিমি পথ অতিক্রম করে গেলে পোস্ট অফিস চৌমুহনি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে তুলে নিয়ে যায়।

আরও পড়ুন-সৌদি-পাকিস্তানের দহরম-মহরমের মাঝেই ভারতের বড় চাল! আরব আমিরশাহির সঙ্গে কী চুক্তি করলেন মোদী?

রাজ্য পুলিশ মুখ্য কার্যালয়ে থেকে একজন আধিকারিক আজ সন্ধ্যায় জানিয়েছেন, মিছিল বারবার বাধা দিয়ে কর্মসূচিতে সমস্যা সৃষ্টি করায় ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে গিয়ে একজন বিক্ষোভকারী পরবর্তী সময়ে বলেছেন, "বহু বছর ধরে ককবরক ভাষাভাষী মানুষেরা এই ভাষার জন্যে রোমান লিপির দাবি করে আসছে। আমরা কোন লিপির বিরুদ্ধে নই। কিন্তু আমাদের দাবি আজ অব্দি পূরণ হয়নি, এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। তাই, রাজ্য ও কেন্দ্র - উভয় সরকারকে আমরা একটি বার্তা দিতে চাই যে (উপজাতি) ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যত নিয়ে ছিনিমিনি খেলা বন্ধ করা উচিত"।

বিজেপি বিধায়ক, ককবরক ভাষা উন্নয়ন উপদেষ্টা কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান রামপদ জমাতিয়া ককবরক ভাষার জন্যে রোমান লিপি চালুর করার দাবিকে বিদেশী চক্রান্ত বলে আখ্যা দিয়ে বলেন এমন কোনো ধরনের চক্রান্তের সাথে থাকবে না বিজেপি দল। সংবিধানের অষ্টম তফসিলে ককবরক ভাষাকে অন্তর্ভুক্ত করে এই ভাষাকে গুরুত্ব এবং সম্মান দিতে চায় তাঁর দল, বলেছেন রামপদ জমাতিয়া।

আরও পড়ুন-বাবার রিক্সা, মায়ের সেলাই, দারিদ্র্যকে হারিয়ে জাতীয় মঞ্চে ব্রোঞ্জ জয় বাংলার চন্দনের!

বিজেপি এবং তিপ্রা মথা দলের মধ্যে যে শীতল যুদ্ধ চলছিল বেশ কিছু মাস ধরে, এখন তাকে গোপন করতে কোন পক্ষই আর চেষ্টা করছে না। ইদানিং বেশ কয়েক মাস ধরে দুই দলের মধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে, বিশেষ করে পাহাড়ি অঞ্চলে রাজনৈতিক জমি দখল নিয়ে বেশ কিছু সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে গেছে। চলতি বছরের ০৮ জানুয়ারি ০৮ পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার হেজামারা এলাকায় গতকাল রাতে ভারতের জনতা পার্টির একটি স্থানীয় অফিস নির্মাণকে কেন্দ্র করে শাসকদলীয় জোট শরিক তিপ্রা মথা দলের কর্মীরা আক্রমণ করে দুজন বিজেপি কর্মীকে আক্রমণে গুরুতর আহত করে এবং একটি গাড়ি ভাঙচুর করে বলেও অভিযোগ করেছিল বিজেপি।

গত বছরের আগস্ট মাসে খোয়াই জেলার আশারামবাড়ী অঞ্চলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মন কি বাত অনুষ্ঠান চলাকালীন সেই অনুষ্ঠান শুনতে সমবেত হওয়া একদল বিজেপি সমর্থকের উপর হামলা চালায় একদল দুষ্কৃতী। আরও কিছুদিন পরই দক্ষিণ ত্রিপুরা, পশ্চিম ত্রিপুরা, সিপাহীজলা, গোমতী ইত্যাদি বিভিন্ন জেলাতে দুই সঠিক দলের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা সামনে আসতে থাকে। উপজাতি স্বশাসিত জেলা পরিষদের মুখ্য কার্যালয়ক্ষেত্র খুমুলুঙ অঞ্চলে পেটো বোমা বিস্ফোরণ, অগ্নিসংযোগ, দুই দলের কর্মীদের মধ্যে আক্রমণ ও প্রতি আক্রমণের ঘটনা ঘটে।

আরও পড়ুন-West Bengal Weather: বাসন্তী শাড়ি নাকি সোয়েটার? সরস্বতী পুজোয় কেমন থাকবে আবহাওয়া? জানুন এখনই

মুখ্যমন্ত্রী শরিক তিপ্রা মথা দলের দিকে হিংসার অভিযোগ করলেও পাল্টা অভিযোগ তুলে মথার পক্ষ থেকে জানানো হয়, আক্রান্ত হয়েছিলেন খোদ তিপ্রা মথা দলের কর্মীরাই। বরং স্বরাষ্ট্র দপ্তরের দায়িত্ব পালন করতে মুখ্যমন্ত্রী ব্যর্থ হয়েছেন, এমন ইঙ্গিত করে তাঁকে স্বরাষ্ট্র দপ্তর থেকে পদত্যাগ করে সেটি তিপ্রা মথা দলের হাতে তুলে দেবার পরামর্শও দিয়েছে উপজাতিভিত্তিক দলটি।

গত বছরের শেষদিকেও পরিস্থিতির কোন পরিবর্তন ঘটেনি। ০৯ ডিসেম্বর পশ্চিম ত্রিপুরার চড়িলাম বিধানসভা এলাকা অন্তর্গত সুতারমুড়া বাজারে বিজেপি সভাকে কেন্দ্র করে তিপ্রা মথা সমর্থকেরা ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ করেছিল গেরুয়া দল। একদিকে প্রদ্যুৎ কিশোর মানিক্য দেববর্মা যেমন রাজ্যের উপজাতি স্বশাসিত জেলা পরিষদ নির্বাচনে তাঁর দল এক লড়বে বলে রীতিমতো ঘোষণা দিয়ে দিয়েছেন এবং রাজ্য বিজেপির কিছু নেতাকে নাম না করে উপজাতি স্বার্থ বিরোধী বলে আখ্যা দিয়ে প্রচারের মাঠ গরম করছেন, তেমনি অপরদিকে মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহা হিংসাত্মক ঘটনার পরোক্ষে তিপ্রা মথাকেই দায়ী করে একাধিকবার সতর্ক করে বলেছেন, সকল হিংসাত্মক ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ নিয়ে চলেছে তাঁর সরকার।

ককবরক দিবসে প্রতিবাদ করার ঘটনাকে বিজেপির পক্ষ থেকে যেমন বিদেশী চক্রান্ত ও গণতান্ত্রিক দাবিকে দমন করার চেষ্টা বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে তেমনি অপরপক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভাষাগত দাবিতে একপাও পেছু হটবে না তিপ্রা মথা দল। ঘটনার সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিপ্রা মথা প্রধান তথা ত্রিপুরার সাবেক রাজপরিবারের বর্তমান প্রধান প্রদ্যুৎ কিশোর মানিক্য দেববর্মা বলেছেন, "আজকে ককবরক দিবস উদযাপনীক্তি বিষয় দেখে আমার খুব খারাপ লেগে আর যে সমস্ত প্ল্যাকার্ডগুলো বাংলায় লেখা ছিল। আমরা চাই না আমাদের ককবরক ভাষা অন্য কোন লিপিতে লেখা হোক। এটি রীতিমতো অপমানকর। তের চাইতেও বড়ো কথা হলো, আমাদের ছেলেমেয়েরা যখন প্রতিবাদ করার চেষ্টা করে, তাদের পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। খুব খারাপ লাগছে যে আজকের দিনে স্মাগলার, গুন্ডারা খোলা ঘুরে বেড়ায় কিন্তু ছাত্রছাত্রীরা তাদের ন্যায্য দাবি নিয়ে কথা বলতে গেলে তাদের পুলিশ তুলে নিয়ে যাচ্ছে"।

আরও পড়ুন- মাত্র ৩৫-এ নিভল জীবন প্রদীপ, চোখে স্বপ্ন নিয়ে ভিনরাজ্যে কাজে গিয়েই সব শেষ...! পরিযায়ী ইস্যুতে গর্জে উঠল তৃণমূল

প্রদ্যুৎ আরও বলেন, "ত্রিপুরায় বাংলা, মগ, চাকমা, মিজো, হালাম, ব্রু অথবা ককবরক সকল ভাষাই উন্নত হোক। কিন্তু পরীক্ষার খাতায় যদি আমাদের নিজেদের পছন্দ ছাড়া অন্য কোন লিপিতে লিখতে বাধ্য করা হয়, তাহলে এই সমস্যার একদিন না একদিন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যত নিয়ে কোন বহিরাগত আমাদের চাপ দিতে পারে না"।

প্রদ্যুৎ কিশোরের " বহিরাগত " মন্তব্যে রাজ্য রাজনীতি সরগরম হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের অভিমত, জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে করা তাঁর রাজনীতি রাজ্যে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে সূক্ষ্ম ও স্থূল উভয় ধরনের চাপ বাড়িয়ে চলেছে। প্রসঙ্গত, পার্শ্ববর্তী রাজ্য অসমে এনআরসি সংশোধনী প্রক্রিয়া চালু হবার পরেই ত্রিপুরায় একই ভাবে এনআরসি সংশোধন করার জন্যে শীর্ষ আদালতে একটি মামলা করেছিলেন প্রদ্যুৎ কিশোর। সেই মামলাটির এখনও শুনানি চলছে।

ত্রিপুরায় ককবরক ভাষাকে প্রথম সরকারি স্বীকৃতি মিলেছিল ১৯৭৯ সালে। এখন রাজ্যের ২২টি ডিগ্রি কলেজে এবং ত্রিপুরা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখানো হচ্ছে ককবরক ভাষা। ত্রিপুরায় কংগ্রেস এবং বামফ্রন্ট মিলিয়ে ককবরক ভাষার লিপি নির্ধারণের জন্যে তিনটি ভাষা কমিশন তৈরি করা হয়েছিল। ১৯৯০ সালে প্রাক্তন মন্ত্রী প্রয়াত শ্যামাচরণ ত্রিপুরার নেতৃত্বে একটি ভাষা কমিশন ২০০৪ সালে ভাষাবিদ পবিত্র সরকারের নেতৃত্বে এবং তারপর প্রয়াত ককবরক ভাষা বিশেষজ্ঞ ড. কুমুদ কুন্ডু চৌধুরীর নেতৃত্বে তৃতীয় ভাষা কমিটির গঠন করেছিল রাজ্য সরকার। বাম আমলে বাংলা এবং রোমান, উভয় লিপিতে ককবরক ভাষা লেখার প্রথা চালু রাখা হয়েছিল। তবে তখন সরকারিভাবে কোন লিপি চালু করা হয়নি।

bjp tripura agartala Tipra Motha BJP clash