উত্তর পূর্ব ভারতের তথ্য প্রযুক্তি-ডেটা সেন্টার এবার কোথায়? বিরাট খবরের ব্রেকিং আপডেট

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উন্নত ডেটা সেন্টার স্থাপনের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই পরিস্থিতিতে ত্রিপুরায় নতুন ডেটা সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উন্নত ডেটা সেন্টার স্থাপনের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই পরিস্থিতিতে ত্রিপুরায় নতুন ডেটা সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত।

author-image
IE Bangla Web Desk
New Update
Tripura data center, Agartala data center, North East largest data center, Airtel data center Tripura, NxtGen Airtel data center, Manik Saha, Tripura IT hub, Digital Tripura, Tripura technology hub, data center investment Tripura, Airtel Nxtra, Tripura internet gateway, Tripura IT infrastructure, employment in Tripura IT sector, Tripura digital ecosystem

প্রতীকী ছবি

উত্তর-পূর্ব ভারতের সর্ববৃহৎ বেসরকারি ডেটা সেন্টারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হল আগরতলায়। বুধবার পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার আগরতলা শহরের উপকণ্ঠে চানমারি এলাকায় এই প্রকল্পের শিলান্যাস করেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহা। এই উপলক্ষে তিনি জানান, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির মধ্যে ত্রিপুরাকে তথ্যপ্রযুক্তি কেন্দ্র বা টেকনোলজি হাব হিসেবে গড়ে তুলতে রাজ্য সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে।

এয়ারটেল টেলিকম সংস্থার উদ্যোগে নির্মিত হতে চলা এই ডেটা সেন্টার প্রকল্পে প্রায় ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্য সরকারের ‘ডিজিটাল ত্রিপুরা’ ভিশন বাস্তবায়নে এই ডেটা সেন্টার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে ত্রিপুরাকে অগ্রণী রাজ্যের তালিকায় নিয়ে যাবে।

তিনি আরও জানান, এর আগে ২০২৪ সালে আগরতলায় সরকারি উদ্যোগে রাজ্যের প্রথম ডেটা সেন্টারটি ইন্টিগ্রেটেড কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টারে গড়ে তোলা হয়েছিল। পাশাপাশি ২০২১ সালে প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশের কক্সবাজারে সাবমেরিন কেবলের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে মুম্বই ও চেন্নাইয়ের পর ত্রিপুরা ভারতের তৃতীয় ইন্টারনেট গেটওয়ে হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

এয়ারটেলের এনএক্সট্রা বাই এয়ারটেল উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই নতুন ডেটা সেন্টারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে ত্রিপুরার ইন্টারনেট ও ডিজিটাল পরিকাঠামো আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল বলে মন্তব্য করেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের প্রগতিশীল নীতি, ভৌগোলিক সুবিধা, উচ্চগতির ইন্টারনেট পরিষেবা, উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা, দক্ষ মানবসম্পদ এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ আগামী দিনে ত্রিপুরাকে উত্তর-পূর্ব ভারতের ডেটা সেন্টার হাবে পরিণত করবে।

ড. সাহা আরও জানান, তথ্যপ্রযুক্তি, ডেটা সেন্টার পরিষেবা এবং অন্যান্য প্রযুক্তি নির্ভর একাধিক প্রকল্প নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সংস্থা রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনায় রয়েছে। এই ধরনের উদ্যোগের ফলে শুধু ডিজিটাল পরিকাঠামোর উন্নয়নই নয়, রাজ্যের যুবক-যুবতীদের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

রাজ্যে তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর স্টার্টআপ গড়ে তুলতে এবং নাগরিকদের প্রযুক্তির মাধ্যমে ক্ষমতায়িত করতে ত্রিপুরা আইটি অ্যান্ড ডেটা ইকোসিস্টেম জোন বা ‘টিডিএজি’ গঠনের কাজ চলছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী ডেটা ব্যবহারের প্রায় ২০ শতাংশ ভারতে হলেও দেশের ডেটা স্টোরেজ ক্ষমতা গোটা বিশ্বের মাত্র ২ শতাংশ। বর্তমানে ভারতের ডেটা স্টোরেজ ক্ষমতা ১.৫ গিগাওয়াট হলেও ২০৩০ সালের মধ্যে তা ৮ গিগাওয়াটে উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উন্নত ডেটা সেন্টার স্থাপনের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই পরিস্থিতিতে ত্রিপুরায় নতুন ডেটা সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। অনুকূল আবহাওয়া, দূষণমুক্ত পরিবেশ, উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন, উচ্চগতির ইন্টারনেট পরিষেবা এবং বিমানযোগে যোগাযোগ ব্যবস্থার সুবিধা থাকায় ডেটা সেন্টার স্থাপনের জন্য ত্রিপুরা আদর্শ রাজ্য বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই প্রকল্পের জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এক একর জমি বরাদ্দ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায়। তিনি বলেন, নতুন ডেটা সেন্টারটি চালু হলে প্রায় ২০০ জনের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং রাজ্যের তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।

একতরফা নিয়োগ, কেন্দ্রের বিরুদ্ধে গর্জে উঠে এবার বিরাট আবেদন রাজ্যের

Advertisment
tripura