Nipah Virus: নিপা ভাইরাস নিয়ে হাই অ্যালার্ট ত্রিপুরায়! আতঙ্ক নয়, সতর্ক থাকার পরামর্শ স্বাস্থ্য আধিকারিকদের

Nipah Virus Symptoms: পশ্চিমবঙ্গে নিপা ভাইরাসের সংক্রমণের জেরে ত্রিপুরায় হাই অ্যালার্ট জারি। রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের বিশেষ রোডম্যাপ, আইসোলেশন বেড প্রস্তুত রাখা এবং কাঁচা খেজুরের রস ও ফল খাওয়া নিয়ে জরুরি নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

Nipah Virus Symptoms: পশ্চিমবঙ্গে নিপা ভাইরাসের সংক্রমণের জেরে ত্রিপুরায় হাই অ্যালার্ট জারি। রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের বিশেষ রোডম্যাপ, আইসোলেশন বেড প্রস্তুত রাখা এবং কাঁচা খেজুরের রস ও ফল খাওয়া নিয়ে জরুরি নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

author-image
Debraj Deb
New Update
Nipah Virus Tripura  ,Tripura Health Department Alert,  নিপা ভাইরাস ত্রিপুরা  ,West Bengal Nipah cases,  Nipah Virus Symptoms,Nipah Virus prevention tips, নিপা ভাইরাস প্রতিরোধ,Agartala Medical College Nipah update  ,Isolation beds for Nipah in Tripura,  Saju Vaheed NHM Tripura,  Raw Date Juice Warning, কাঁচা খেজুরের রস সতর্কতা

Nipah Virus: প্রতীকী ছবি।

Nipah Virus prevention tips: পশ্চিমবঙ্গে নিপা ভাইরাসের সংক্রমণের খবর আসতেই আগাম সতর্কতা এবং প্রতিরোধের রোডম্যাপ তৈরি করে ফেলেছে ত্রিপুরা। বৃহস্পতিবার বিকেলে আগরতলায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্য স্বাস্থ্য শিশু অধিকারী শীর্ষ আধিকারিকেরা রাজ্যবাসীকে সতর্কতা মেনে চলতে এবং রাজ্য সরকারের এবিষয়ে একগুচ্ছ নির্দেশিকা সম্পর্কে সহযোগিতা করতে আবেদন করেছেন। তবে একইসঙ্গে অযথা ভীত, বিভ্রান্ত হতে কিংবা গুজবে কান না দিতে বলেছেন স্বাস্থ্য আধিকারিকেরা।

Advertisment

আগরতলা সরকারি মেডিকেল কলেজে এবং গোবিন্দ বল্লভ পন্থ হাসপাতালের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রধান ড. তপন মজুমদার জানিয়েছেন, পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র পশ্চিমবঙ্গে দুজন নিপা ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসারত রয়েছেন এবং এর পরিপ্রেক্ষিতেই ত্রিপুরাতেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। 

তিনি জানিয়েছেন নিপা ভাইরাস কোন নতুন ব্যাধি নয়, বরং ২৮ বছর আগে - ১৯৯৮ সালেই মালয়েশিয়ায় এই ভাইরাস চিহ্নিত হয়েছিল। এরপর ২০০১ সালে পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে এবং ২০০৮ সালে আবারো পশ্চিমবঙ্গে এই ভাইরাসের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। 

আরও পড়ুন- Saraighat Express: সরাইঘাট এক্সপ্রেসে আগুন আতঙ্ক! চাকা থেকে গলগল করে ধোঁয়া, থমকে গেল ট্রেন পরিষেবা

বিগত কিছু বছর ধরে দক্ষিণ ভারতের কেরালায় নিপা ভাইরাসের সংক্রমণ বেশ কয়েকবার দেখা গেছে এবং পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশেও বেশ কিছু নিপা ভাইরাস সংক্রমণের ঘটনা বিগত বছর গুলিতে দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন তিনি। 

"পশ্চিমবঙ্গে দুজন এই ভাইরাস আক্রান্ত হয়েছেন। ত্রিপুরায় এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসের সংক্রমণের কোন খবর নেই। তবু আমরা আগাম সতর্কতা জারি করেছি। যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য আমরা সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত। আমাদের র‍্যাপিড অ্যাকশন এবং রেপিড রেসপন্স টিম সক্রিয় করে দেওয়া হয়েছে। ডিস্ট্রিক্ট সার্ভেলেন্স টিম এবং ডিস্ট্রিক্ট সার্ভিসের সক্রিয় থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং টেস্টিং কিট ও অন্যান্য যন্ত্রপাতির স্টক পর্যালোচনা করে দেখা হয়েছে। যে কোনো রকম ইমার্জেন্সির জন্য আমরা প্রস্তুত," জানিয়েছেন ন্যাশনাল হেলথ মিশনের রাজ্য প্রধান সাজু ওয়াহিদ এ।

আরও পড়ুন-Lingtam: বড় বড় ট্যুরিস্ট স্পট ফেল! সিল্ক রুটের 'লুকনো রত্ন'! সিকিমের এক টুকরো স্বর্গ লিংটাম

আগরতলা সরকারি মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগীয় প্রধান ডাক্তার তপন মজুমদার বলেছেন নিপা ভাইরাস মূলত সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায় এবং এই ভাইরাসের মৃত্যুর হার ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। কাঁচা খেজুরের রস কিংবা ফল মাদুর খেলে কিংবা বাদুড়ের লালা বা মূত্র লেগে থাকা দূষিত ফল থেকে নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে এই ভাইরাসের আক্রমণ হতে পারে। 

নিপা ভাইরাস আক্রান্ত হলে প্রধানত জ্বর, মাথা ব্যথা, শরীর ব্যথা, বমি, দুর্বলতা, শ্বাসকষ্ট কিংবা কাশি, খিচুরি অথবা অজ্ঞান হয়ে যাবার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এই সবের মধ্যে যে কোন উপসর্গ দেখা দিলেই চিকিৎসকের কাছে যাবার জন্য রাজ্যবাসীকে পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

কোনওরকম জ্বর কি অবহেলা করা যাবে না; আরটিপিসিআর পদ্ধতিতেই এই রোগ সনাক্তকরণ করা হয় এবং আগরতলার মাইক্রো বায়োলজি বিভাগে এই রোগ পরীক্ষা করার সুযোগ রয়েছে, জানিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন-Adhir Ranjan Chowdhury: ‘রাজ্য পুলিশ বনাম কেন্দ্রীয় বাহিনীর যুদ্ধ শুরু হবে!’ যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো নিয়ে বিস্ফোরক অধীর

এছাড়াও স্বাস্থ্য দপ্তরের অধিকর্তা ডঃ দেবশ্রী দেববর্মা জানিয়েছেন সবগুলি জেলা হাসপাতালে নিপা ভাইরাস সংক্রমণের সম্ভাবনা মাথায় রেখে আইসোলেশন বেড চিহ্নিত করে রাখা নির্দেশ দেওয়া হয়েছে গোবিন্দ বল্লভ পন্থ হাসপাতালেও একই রকম ভাবে আইসলেশন বেডের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এবং রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় রোগ সনাক্তকরণের প্রয়োজন এর কথা মাথায় রেখে সংশ্লিষ্ট ডায়াগনস্টিক পরিষেবা প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে।

নিপা ভাইরাসের আক্রমণ থেকে বাঁচার গুরুত্ব এবং সতর্কতা বিষয়ে ন্যাশনাল হেলথ মিশনের প্রধান সাজু ওয়াহিদ এ জানিয়েছেন কাঁচা খেজুরের রস খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত, ফল ভালোভাবে ধুয়ে ও খোসা ছাড়িয়ে খাওয়া উচিত, মাটিতে পড়ে থাকা ভাত খাওয়া ফল কুড়িয়ে খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত, নিয়মিতভাবে সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার রাখা, ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা এবং সরকারের বিভিন্ন নির্দেশিকা মেনে চলা সহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশিকাকে গুরুত্ব সহকারে পালন করা উচিত। 

তবে আধিকারিকেরা জানিয়েছেন, অহেতুক আতঙ্কিত হবার কোন কারণ নেই। গুজব থেকে দূরে থাকা এবং গুজবে কান না দেওয়ার জন্য জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। স্বাস্থ্য দপ্তরের অধিকর্তা ডঃ দেবশ্রী দেববর্মা বলেছেন রাজ্যের সমস্ত হাসপাতাল গুলিকে প্রস্তুত থাকার জন্য নির্দেশ জারি করা হয়েছে এবং সন্দেহভাজন উপসর্গযুক্ত লোকেদের দ্রুত চিহ্নিত করার উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। 

এছাড়াও নির্দিষ্ট ক্লিনিক্যাল গাইডলাইন এবং নিপা ভাইরাসের সম্ভাব্য সংক্রমণের সঙ্গে মোকাবেলা করার জন্য একটি স্বাস্থ্যপরিসেবার রোড ম্যাপ তৈরি করা হয়েছে। আগাম সতর্কতার অংশ হিসেবে অক্সিজেনের মজুদ স্বাভাবিক রাখতেই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

Nipah virus West Bengal Nipah virus suspected case nipah virus tripura