/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/04/atacl-2025-12-04-08-06-00.jpg)
Baul artist attack Bangladesh: বাংলাদেশেও প্রতিবাদের ঝড়!
সম্প্রতি বাংলাদেশে বাউল শিল্পীদের উপর আক্রমণের প্রতিবাদে বাংলা সংস্কৃতি বলয়ের আগরতলা সংসদ আগরতলায় রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনের রবীন্দ্রমূর্তির পাদদেশে সমবেত হয়ে প্রতিবাদ সভা সংগঠিত করে সেদেশের মৌলবাদীদের বাংলা সংস্কৃতি ধ্বংস করা থেকে বিরত থাকতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির উদ্দেশ্যে উপস্থিত প্রত্যেকে পোস্টকার্ডে খোলা চিঠি পাঠিয়েছে।
রবীন্দ্র মূর্তির পাদদেশেই অস্থায়ীভাবে বসানো ডাকঘরের অফিসিয়াল ডাকবাক্সে উপস্থিত প্রায় ৬০০ জন লেখক শিল্পী ও শিল্পানুরাগীরা প্রত্যেকে ব্যক্তিগতভাবে এই চিঠি পোস্ট করে সেদেশে সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া বাংলাদেশের বাউল শিল্পী আবুল সরকারের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন।
অভিনব এই প্রতিবাদের চিঠির প্রতিলিপি পাঠানো হয়েছে বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহাকেও। প্রতিবাদী অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তা বাংলা সংস্কৃতি বলয় সংগঠনের সভাপতি সেবক ভট্টাচার্য্য বলেছেন, "ইদানিং বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাউল শিল্পী, মরমি শিল্পী, লোকসংগীতশিল্পী, মঞ্চ ও যাত্রাশিল্পী এবং সংস্কৃতিকর্মীদের ওপর ধারাবাহিক হামলা ও নির্যাতনের ঘটনায় আমরা বাংলা সংস্কৃতি বলয় সংগঠনের পক্ষে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। সম্প্রতি ঢাকার কাছে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় বাউলশিল্পী আবুল সরকারকে তথাকথিত ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের উপস্থিতিতেই বাউলদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে"।
"গত বছর আগষ্ট মাসে বাংলাদেশের পূর্ববর্তী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে বিগত ১৫ মাসে রবীন্দ্র মূর্তি ভাঙা, রাহুল আনন্দ সহ বহু শিল্পীর উপর আক্রমণ থেকে শুরু করে অতি সম্প্রতি বাউল শিল্পীদের ওপর আক্রমণের ঘটনা বাংলা সংস্কৃতির বেদীমূলে আঘাত করার সামিল", বলেছেন সেবক ভট্টাচার্য্য।
আরও পড়ুন-'৯ লক্ষ ৬৮ হাজার চাকরিপ্রার্থী বঞ্চিত', আদালতের রায়ের পরই 'বোমা' ফাটালেন শুভেন্দু
তিনি আরও বলেছেন, "বাউল সংস্কৃতিকে বাংলার আত্মা বলা যায় কারণ এটি বাংলার লোকসাহিত্য, দর্শন, এবং আধ্যাত্মিক চেতনার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাউল গান ও দর্শন বাংলার সুফিবাদ এবং দেহতত্ত্বের মতো বিষয়গুলোকে তুলে ধরে, যা বাংলার গ্রামীণ মানুষের জীবন ও আধ্যাত্মিকতার গভীরে প্রোথিত। এই সংস্কৃতি বাংলার নিজস্ব পরিচয় বহন করে এবং এর মাধ্যমে আত্মা ও অস্তিত্বের গভীর অনুসন্ধান করা হয়, যা এটিকে বাংলার আত্মার প্রতীক করে তুলেছে। এই বাউল সংস্কৃতির ওপরে বেশি করে আক্রমণ হানা হচ্ছে আজকের বাংলাদেশে।"
প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত লেখক শিল্পী ও শিল্পানুরাগী জনতা ডাকবাক্সে যে চিঠি পোস্ট করেছেন সেই ডাকবাক্সটি ইতিমধ্যেই আগরতলা হেড পোস্ট অফিসের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির উদ্দেশ্যে পাঠানো চিঠিগুলো আগরতলা হেড পোস্ট অফিসের পক্ষ থেকে আগরতলার বাংলাদেশ অ্যাসিস্ট্যান্ট হাই কমিশনার অফিসে (ভিসা অফিসে) ডাক মারফত তুলে দেওয়া হবে। এই প্রতিবাদস্বরূপ গণচিঠি প্রদান কর্মসূচিটিকে ঘিরে আগরতলার লেখক শিল্পীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া মিলেছে।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us