/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/12/manik-saha-2025-12-12-18-33-13.jpg)
CM Manik Saha: ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা।
রাজ্য পর্যটনের প্রচার এবং বৃহত্তর জনমানসের কাছে তুলে ধরার জন্য দু'বছর ধরে পর্যটনের প্রোমো ফেস্ট আয়োজন করছে ত্রিপুরা সরকার।
গত বছর ট্যুরিজম প্রোমো ফেস্টের অংশ হিসেবে ত্রিপুরায় লাইভ কনসার্টে সংগীত পরিবেশন করেছিলেন বিখ্যাত কণ্ঠশিল্পী শ্রেয়া ঘোষাল।
এবছর দক্ষিণ ত্রিপুরার বিলোনিয়া, গোমতি জেলার উদয়পুর, নারিকেলকুঞ্জ এবং পশ্চিম ত্রিপুরা জেলায় রাজধানী শহর আগরতলায় বলিউড সঙ্গীত শিল্পী জুবিন নটিয়াল, পলক মুচ্ছল, পাপন, দেবজিত সাহা প্রমুখদের নিয়ে পৃথক পৃথক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে রাজ্য সরকারের পর্যটন নিগম।
রাজ্য পর্যটনের দূত এবং এবং প্রচারের মুখ প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেট অধ্যক্ষ ও সাবেক বিসিসিআই সচিব সৌরভ গাঙ্গুলী সহ অনেকেই এই প্রোমো ফেস্টে এ যোগ দিতে গতকাল আগরতলায় এসেছেন।
আগরতলার মহারাজা বীর বিক্রম বিমানবন্দরে অবতরণ করার পর ক্রিকেটের ' মহারাজা ' সৌরভ জানিয়েছেন ছবিমুড়া, ত্রিপুরা সুন্দরী মন্দির সহ বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র নিয়ে প্রচারে গেছেন তিনি। আগামীদিনে রাজ্য পর্যটনের প্রচার ও প্রসারে তিনি আরো অগ্রণী ভূমিকা নেবেন বলেও জানিয়েছেন।
আগরতলা স্বামী বিবেকানন্দ ময়দানে অনুষ্ঠিত সেই বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহা বলেছেন ইউনিটি প্রমোফেস্টের নামে রাজ্য পর্যটনের প্রচার করা হচ্ছে।
রাজ্য সরকারের জোট শরিক দল তিপ্রা মথার রাজনৈতিক স্লোগান ' থানসা ' অথবা ঐক্যকে বাগিয়ে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুক্রবার রাতে প্রোমো ফেস্টে বলেছেন, ইউনিটির মানে হচ্ছে থানসা। অর্থাৎ জাতীয় উপজাতি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলে মিলে প্রোমো ফেস্টে যোগ দিক, উদযাপিত হোক একতা, এই বার্তাই দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
প্রোমো ফেস্টের মাঠে প্রবেশ করার জন্য সাধারণ, ভিআইপি এবং ভিভিআইপি পাশের ব্যবস্থা করেছিল পর্যটন নিগম। পাশ বিলি নিয়ে অনুষ্ঠানের আগের রাত পর্যন্ত নিগমের কার্যালয়ের সামনে বিশাল লম্বা লাইন ছিল; অনেকের অভিযোগ ছিল দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার পরেও পাস পাওয়া যায়নি।
এদিকে গতকাল রাতে অনুষ্ঠান মঞ্চের সামনে মাঠে প্রবেশ করতে গিয়ে এন্ট্রি গেটের সামনে আটকে দেয়া হয় বহু মানুষকে।
হাতে পাস কিন্তু ভেতরে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না নিরাপত্তা রক্ষীরা - এই পরিস্থিতিতে সন্ধ্যে সাড়ে ছটা নাগাদ ভিআইপি পাস ওয়ালাদের জন্যে নির্দিষ্ট দু'নম্বর গেট বন্ধ করে দেন নিরাপত্তা রক্ষীরা।
মঞ্চে তখন জুবিন নটিয়াল, মাইকে উচ্চস্বরে গান চলছে আর মাঠের বাইরে চলছে পাঁচ হাতের নিরাপত্তা রক্ষীদের সঙ্গে দর্শক শ্রোতাদের বাকবিতণ্ডা।
সন্ধ্যা বাড়তি পরিস্থিতি সামাল দিতে ভিড়ের উপর লাঠিচার্জ করতে বাধ্য হয় ঘটনাস্থলে উপস্থিত নিরাপত্তা রক্ষীরা। লাঠি চার্জে আহত হয়েছেন বহু দর্শক - শ্রোতারা, আহত হয়েছেন কিছু সাংবাদিকও। ভিড়ের মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন কিছু পুলিশকর্মীও।
একজন মহিলা পুলিশ কর্মী অজ্ঞান হয়ে পড়ে যাওয়ার পর একটা সময় মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহা খোদ মাঠে নেমে এসে তার চিকিৎসায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন। সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মীটি কিছুক্ষণ পরই সংজ্ঞা ফিরে পান।
এদিকে আগরতলা প্রেসক্লাবের সভাপতি বরিষ্ঠ সাংবাদিক প্রণব সরকার গভীর রাতে আহত সাংবাদিককে নিয়ে পশ্চিম আগরতলা থানায় হাজির হয়েছেন, দায়ের করা হয়েছে একটি মামলা। সাংবাদিকদের পক্ষে প্রশ্ন উঠেছে পেশাগত পরিচয় দেবার পরও কেন লাঠিচার্জ করা হলো সাংবাদিকদের উপর।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us