/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/07/kalna-ganja-seizure-police-chase-arrest-83kg-2025-12-07-08-21-52.jpg)
প্রতীকী ছবি
ত্রিপুরার উনকোটি জেলার ফটিকরায় এলাকায় স্থানীয় পুজোর চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনার জেরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে শনিবার রাত থেকেই এলাকায় কার্ফু জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত অন্তত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ইডির অভিযান নিয়ে মমতার প্রতিবাদের পরই তড়িঘড়ি বিবৃতি সংস্থার, কী জানালো IPAC?
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বটুক ভৈরব পুজো ও সংশ্লিষ্ট মন্দিরের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আগামী ২৪ জানুয়ারি একটি সংহতি মেলার আয়োজন করা হয়েছিল। সেই মেলার জন্য শনিবার সকালে চাঁদা তুলতে গিয়ে এক গাড়িচালক ও দোকানদারের সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবকদের বচসা শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন আশপাশের কয়েকটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়, তিনটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয় এবং এলাকায় স্তুপ করে রাখা পশুখাদ্যেও আগুন লাগানো হয় বলে অভিযোগ।
খবর পেয়ে কুমারঘাট মহকুমা পুলিশ আধিকারিক উৎপলেন্দু দেবনাথের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও ত্রিপুরা স্টেট রাইফেলসের জওয়ানরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন। মৃদু লাঠিচার্জ করে উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করা হয়। কুমারঘাট ও কাঞ্চনবাড়ি দমকল কেন্দ্র থেকে তিনটি অগ্নিনির্বাপক গাড়ি এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
পরিস্থিতি যাতে আরও খারাপ দিকে না যায়, সে জন্য এলাকায় রাজ্য পুলিশ, ত্রিপুরা স্টেট রাইফেলস, আসাম রাইফেলস ও সিআরপিএফের বিশাল বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি গুজব রুখতে কুমারঘাট মহকুমায় ৪৮ ঘণ্টার জন্য ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
IPAC কাণ্ডে মমতাকে তুলোধোনা, সুর চড়ালেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী
উনকোটি জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সামাজিক মাধ্যমে জানানো হয়েছে, ১০ জানুয়ারি সকাল ৯টা ৩০ মিনিট নাগাদ ফটিকরায় থানার সাইদারপাড়া এলাকায় এই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত পদক্ষেপ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কুমারঘাট মহকুমাশাসক বিএনএসএস-এর ১৬৩ ধারা জারি করেছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি পুলিশের।
সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, সংঘর্ষে অন্তত ছ’জন আহত হয়েছেন। তবে কোনও মৃত্যুর খবর নেই। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ এবং এখনও পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জেলা পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সামাজিক মাধ্যমে কেউ যেন উস্কানিমূলক বা বিভ্রান্তিকর তথ্য না ছড়ান, সে বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।
এদিকে, ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ত্রিপুরার বিরোধী দলনেতা ও সিপিআইএম পলিটব্যুরো সদস্য জিতেন্দ্র চৌধুরী। তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যে একের পর এক হিংসাত্মক ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন তা রুখতে ব্যর্থ। মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহাকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ঘটনার কাছেই রোড শো করলেও ফটিকরায়ে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেননি মুখ্যমন্ত্রী। বিজেপির পক্ষ থেকে যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি এবার শুভেন্দুর, মমতার বিরুদ্ধে ফের বিস্ফোরক অভিযোগ বিরোধী দলনেতার
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us