Abhijeet Sawant: ইন্ডিয়ান আইডলের অভিজিতের কথা মনে আছে? কলকাতায় তাঁর সঙ্গে কী হয়েছিল জানেন?

তবে শেষ পর্যন্ত সবকিছুই তাঁর পক্ষে যায়। শো জেতার পর জীবন কীভাবে বদলে গিয়েছিল, সে কথাও বলেন অভিজিৎ। তাঁর কথায়, "জয়ের পর সবকিছু পাল্টে যায়। আমি বাড়ি ফিরতে পারতাম না..."

তবে শেষ পর্যন্ত সবকিছুই তাঁর পক্ষে যায়। শো জেতার পর জীবন কীভাবে বদলে গিয়েছিল, সে কথাও বলেন অভিজিৎ। তাঁর কথায়, "জয়ের পর সবকিছু পাল্টে যায়। আমি বাড়ি ফিরতে পারতাম না..."

author-image
IE Bangla Entertainment Desk
New Update
abhijeet-sawant-1

কী হয়েছিল তাঁর সঙ্গে?

২০০৪ সালে, ইন্ডিয়ান আইডল সিজন ১ জিতে শুধু ট্রফিই নয়, রাতারাতি দেশের কোটি দর্শকের ভালোবাসাও কুড়িয়েছিলেন অভিজিৎ সাওয়ান্ত। সেই শো তাঁর জীবনকে সম্পূর্ণভাবে বদলে দিয়েছিল। এ কথা বহুবারই বলেছেন তিনি। ওই সিজনের রানার-আপ অমিত সানা ও রাহুল বৈদ্যও তখন দারুণ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিজিৎ সেই সময়ের অজানা ভয়, অনিশ্চয়তা এবং ভক্তদের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা খোলাখুলি ভাগ করে নিয়েছেন।

Advertisment

একটি সাক্ষাৎকারে অভিজিৎ, ইন্ডিয়ান আইডলের ফাইনালের আগের দিনগুলোর নানা কথা শোনান। তিনি বলেন, "২০ বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে, তবে যতটা মনে পড়ে, শো জেতা নিয়ে আমার আত্মবিশ্বাস ছিল। কিন্তু ভবিষ্যৎ নিয়ে ভয়ও কাজ করছিল। এটা বিগ বসের মতো ছিল না, যেখানে বাইরে কী হচ্ছে তা জানা যায় না। আমি নিজের চোখেই দেখেছি মানুষ পাগল হয়ে যাচ্ছে, মেয়েরা অজ্ঞান হয়ে পড়ছে। মাত্র ছয় মাস আগেও আমি এক কোণে বসে চা খেতাম, আর হঠাৎ করে গোটা দেশ আমার দিকে তাকিয়ে।”

Tu Meri Main Tera Main Tera Tu Meri movie review: নব্বইয়ের ফর্মুলায় আধুনিক প্রেম- হোঁচট খেল ‘তু মেরি ম্যায় তেরা’, পড়ুন রিভিউ

সেই সময় তাঁর সবচেয়ে বড় ভয় ছিল শো-পরবর্তী চুক্তি নিয়ে। অভিজিৎ জানান, "আমরা জানতাম না শোয়ের পর আমাদের হাতে ঠিক কী আসবে। আজকের প্রজন্ম অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী, কিন্তু আমরা তখন বড় বড় অর্থ বিনিয়োগ করা লোকজনের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দিহান ছিলাম। মনে হতো, কেউ হয়তো প্রতারণা করতে পারে। এমনকি জয়ের আগেই যখন চুক্তির কথা উঠছিল, তখন পরিবারের অনেকেই বলেছিলেন- কোনও অ্যালবাম বা দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে যেন সই না করি। আমার ভয় ছিল, তারা হয়তো এমন চুক্তি বানাবে যেখানে আমি আটকে যাব, আমার সেরা বছরগুলো নষ্ট হয়ে যাবে।" 

তবে শেষ পর্যন্ত সবকিছুই তাঁর পক্ষে যায়। শো জেতার পর জীবন কীভাবে বদলে গিয়েছিল, সে কথাও বলেন অভিজিৎ। তাঁর কথায়, "জয়ের পর সবকিছু পাল্টে যায়। আমি বাড়ি ফিরতে পারতাম না- সব সময় বাড়ির বাইরে ভিড় লেগে থাকত। বন্ধুরা বলত, তারা জীবনে এমন উন্মাদনা খুব কমই দেখেছে। আমি ভাবতাম, হয়তো আমাকে ৫-১০ বছরের চুক্তিতে আটকে ফেলা হবে, তারপর ফেলে দেওয়া হবে। কিন্তু তা হয়নি। আমি প্রায় ৫-৬ বছর সনির সঙ্গে কাজ করেছি। ভালো সম্পর্ক থাকলে প্রযোজনা সংস্থাগুলো আপনাকে আরও বড় জায়গায় নিয়ে যেতে পারে।"

Tollywood Christmas: সান্টা ক্লজের সঙ্গে দেখা মিমির, বড়দিনে সন্তানদের নিয়ে নায়িকারা? দেখুন ছবি  

ভক্তদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার একটি মজার ঘটনাও শোনান তিনি। তিনি বলেন, তখন আমাদের তিনজনের—আমি, রাহুল আর অমিত—উন্মাদনা ছিল অন্য স্তরের। ফাইনালের আগে একবার প্রচারের জন্য কলকাতায় গিয়েছিলাম। অমিত তখন সেখানে ছিল না। চারদিক থেকে মানুষ আমাকে ঘিরে ধরেছিল। হঠাৎ আমি এক ভক্তের সঙ্গে করমর্দন করতে গেলে তিনি হাত সরিয়ে নিয়ে বললেন, ‘আমি অমিত সানার ভক্ত।’ সোশ্যাল মিডিয়া না থাকলেও তখন ভক্তদের মধ্যে দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল। সেটা একেবারেই অন্য যুগ ছিল।”

অভিজিৎ সাওয়ান্ত আজও পরিচিত তাঁর একাধিক জনপ্রিয় গানের জন্য। এর মধ্যে রয়েছে ‘মোহাব্বতে লুটাউঙ্গা’, ‘মর জাওয়ান মিত জাওয়ান’ (আশিক বনায়া আপনে), ‘হ্যাপি এন্ডিং’ (তিস মার খান) সহ আরও অনেক হিট গান।

kolkata Indian Idol Entertainment News Today