/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/29/sir-2025-12-29-13-29-17.jpg)
SIR hearing: প্রতীকী ছবি।
এসআইআর আবহে উত্তাল হয়ে উঠেছে গোটা বাংলা। এসআইআর (SIR)-কে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় শুরু হয়েছে ব্যাপক বিক্ষোভ। এই পরিস্থিতিতে কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) আইনজীবী শামীম আহমেদ গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য সামনে এনেছেন। তাঁর কথায়, এসআইআর ঘিরে এমন একটি সংকট তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে গোটা রাজ্যের মানুষের উপর। বিশেষ করে প্রান্তিক মানুষদের ক্ষেত্রে এই প্রভাব সবচেয়ে বেশি, যাঁদের সংখ্যা প্রায় ৯০ শতাংশ। তাঁদের জীবন ও জীবিকা আজ চরম অনিশ্চয়তার মুখে।
শামীম আহমেদ (Advocate Shamim Ahmed) বলেন, 'সোমবার সুপ্রিম কোর্টে এই বিষয়টি ওঠে এবং আদালত কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা দেয়। মূলত “লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি” বা তথ্যগত গরমিলের নাম করে যে নোটিসগুলো রাজ্যজুড়ে পাঠানো হয়েছে, সেগুলোর ব্যাপ্তি ও ধরন অত্যন্ত উদ্বেগজনক। যাদের বাড়িতে ছয়টি সন্তান আছে, তাঁদের বাড়িতে নোটিস যাচ্ছে, ২০০২ সালের নথির সঙ্গে সামান্য গরমিল পাওয়া গেলেই নোটিস যাচ্ছে। এমনকি কারও নামের বানান ভুল থাকলেও সেই কারণেই নোটিস পাঠানো হয়েছে। অর্থাৎ, খুব সামান্য ও প্রশাসনিক ত্রুটির ভিত্তিতে ব্যাপকভাবে মানুষকে নোটিসের আওতায় আনা হচ্ছে।'
আইনজীবী বলেন, ''সোমবার আদালতে কতগুলো বিষয় উঠে আসে। বলা হয়, লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির কারণগুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। এই বিষয়ে নোটিস জারি করতে হবে। বিভিন্ন সরকারি দফতরে নোটিস টাঙিয়ে দিতে হবে, যেখানে লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির ধরন ও ব্যাখ্যা পরিষ্কারভাবে লেখা থাকবে। যাঁদের কাছে নোটিস যাবে, তাঁদের নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট জমা দিতে হবে। ডকুমেন্ট জমা দিতে কোনো ব্যক্তি নিজে না গিয়েও তাঁর কোনও প্রতিনিধি পাঠাতে পারবেন।''
তিনি আরও বলেন, "যে বিষয়টি নিয়ে কেউই প্রায় কথা বলছে না, এমনকি দুর্ভাগ্যবশত সুপ্রিম কোর্টও নয়, সেটি হল এসআইআর-এর আইনি ভিত্তি ও তার প্রকৃত প্রয়োগ। আমাদের আইনে এসআইআর-এর উল্লেখ আছে সেকশন ২১-এর মধ্যে। এই সেকশন অনুযায়ী, প্রতিটি নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনের অধিকার আছে প্রতিটি কনস্টিটিউয়েন্সিতে ভোটার লিস্টের রিভিশন করার। আমরা জানি, এবং নিজেদের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকেই দেখেছি, নির্বাচনের আগে এই রিভিশন হয়। কারণ অনেক ভোটারের মৃত্যু হয়, আবার নতুন ভোটার যুক্ত হন। ফলে ভোটার লিস্ট আপডেট করা বাধ্যতামূলক।এই বিষয়ে কারও কোনও দ্বিমত নেই যে নির্বাচন প্রক্রিয়ার আগে ভোটার লিস্ট সংশোধন করা দরকার। সেকশন ২১-এর ক্লজ (সি)-তে “স্পেশাল রিভিশন”-এরও অনুমতি দেওয়া আছে। কিন্তু এই স্পেশাল রিভিশনের ক্ষেত্রে কয়েকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে।''
আইনজীবী জানান, প্রথমত, শেষ যে ইলেক্টোরাল রোল বা ভোটার লিস্ট বৈধ হিসেবে ছিল, তাকে ভিত্তি ধরেই স্পেশাল রিভিশন করতে হবে। অর্থাৎ, আগের তালিকাকে অবৈধ ধরে নিয়ে নতুন করে সবকিছু শুরু করা যায় না।
দ্বিতীয়ত, নির্বাচন কমিশনকে অবশ্যই একটি বিশেষ কারণ লিখিতভাবে রেকর্ড করতে হবে। কেন সাধারণ নিয়মের বাইরে গিয়ে স্পেশাল রিভিশন করা হচ্ছে।
তৃতীয়ত, এই স্পেশাল রিভিশন গোটা রাজ্যে একসঙ্গে করা যায় না। এটি করতে হবে কোনও নির্দিষ্ট কনস্টিটিউয়েন্সি বা কোনও কনস্টিটিউয়েন্সির নির্দিষ্ট অংশে, এবং সেই ক্ষেত্রেও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে কেন সেখানে এই রিভিশন জরুরি।
শামীম আহমেদ বলেন, "বড় প্রশ্ন হল, এখনও পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের যাঁদের উপর এই স্পেশাল রিভিশন প্রয়োগ করা হচ্ছে, তাঁরা কেউই জানেন না কেন তাঁদের এলাকাতে এই স্পেশাল রিভিশন হচ্ছে। কী সেই বিশেষ কারণ? কোন যুক্তিতে তাঁদের কনস্টিটিউয়েন্সিকে বেছে নেওয়া হয়েছে? সেই কারণ কোথাও প্রকাশ্যে জানানো হচ্ছে না।"
তিনি আরও বলেন, "আইন অনুযায়ী স্পেশাল রিভিশন মানে বিশেষ কারণ থাকা বাধ্যতামূলক। অথচ সাধারণ মানুষ এখনো পর্যন্ত জানতেই পারল না, সেই যুক্তি কী? ফলে এসআইআর আজ শুধু একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নয়, বরং সাধারণ মানুষের কাছে তা হয়ে উঠেছে আতঙ্ক, অনিশ্চয়তা এবং নিরাপত্তাহীনতার বিষয়।"
আরও পড়ুন: বাড়ছে উদ্বেগ!মাত্র এক সপ্তাহেই রাজ্যে নিপা আক্রান্ত ৫, সতর্কতা জারি


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us