/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/26/mumbai-attack-11-2025-11-26-11-41-28.jpg)
26/11 Mumbai attacks: আজ ২৬/১১ মুম্বই হামলার ১৭ বছর পার।
Mumbai terror attack: আজ থেকে ১৭ বছর আগে এই রাতেই আগুন ও ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছিল মুম্বই। তাজ প্যালেস হোটেলের গম্বুজকে ঘিরে অগ্নিশিখার যে ছবি সেদিন সারা বিশ্বের সামনে ভেসে উঠেছিল, তা আজও ২৬/১১–র অন্যতম প্রতীক। সে রাত বদলে দিয়েছিল ভারতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে, আর নতুন অধ্যায় লিখেছিল সন্ত্রাসবাদের ইতিহাসে।
হোটেলে নৃশংস তাণ্ডব:
২০০৮-এর ২৬ থেকে ২৮ নভেম্বর, তিন দিন ধরে ভয়ঙ্কর-ভয়াবহ সন্ত্রাসবাদী হামলার মুখোমুখি হয়েছিল বাণিজ্যনগরী মুম্বই। প্রথম আক্রমণ হয় ছত্রপতি শিবাজী মহারাজ টার্মিনাস (সিএসটি) স্টেশনে, যেখানে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে প্রাণ কেড়ে নেওয়া হয় ৫৮ জনের, আহত হন ১০৪ জন। জনতার ভিড়ে মিশে পালায় দু’জন হামলাকারী।
আরও পড়ুন- Kolkata News: কলকাতার ল' কলেজে ছাত্রীকে ধর্ষণ, 'মামলা তুলে নিতে চাপ', অভিযোগ নির্যাতিতার বাবার
তার পরেই খবর আসে তাজ প্যালেস, ওবেরয় ট্রাইডেন্ট, কামা অ্যান্ড অ্যালব্লেস হাসপাতাল, লিওপোল্ড ক্যাফে এবং নারিম্যান হাউসে সন্ত্রাসী হামলার। ভাডিবন্দর ও ভিলে পার্লেতে ট্যাক্সিতে বিস্ফোরণও ঘটে।
তাজ ও ট্রাইডেন্ট: আতঙ্কের কেন্দ্রস্থল
ঐতিহাসিক তাজ প্যালেস হোটেল ও নিকটবর্তী ট্রাইডেন্ট ছিল জঙ্গিদের প্রধান নিশানা। ট্রাইডেন্টে লবি, বার ও সার্ভিস এলাকায় নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। তাজে শুরু হয় আরও ভয়াবহ দৃশ্য। রেস্তোরাঁয় ডিনার করছিলেন বহু অতিথি। সেখানে ঢুকে জঙ্গিরা গুলি চালালে মৃত্যু হয় অনেকের। এরপর নিশানা হয় ওপরতলার কান্ধার রেস্তোরাঁ। গ্রেনেড নিক্ষেপে আগুন লেগে আটকে পড়েন বহু অতিথি, যাদের মধ্যে বিদেশিও ছিলেন।
হোটেল কর্মীদের বীরত্ব:
ভয়াবহ অবস্থায় হোটেল কর্মীদের সাহসিকতা ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে। জরুরি প্রশিক্ষণ ও নির্গমন পথ সম্পর্কে জ্ঞান থাকায় তারা প্রায় ২০০ জন অতিথিকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যেতে সক্ষম হন। তখনকার এক্সিকিউটিভ শেফ হেমন্ত ওবেরয়-সহ বহু সিনিয়র কর্মী নিজের জীবন বিপন্ন করে উদ্ধারকাজে নেতৃত্ব দেন।
সুরক্ষা বাহিনীর অভিযান:
এনএসজি-সহ বিভিন্ন বাহিনী হোটেলে ঢুকে অধিকাংশ জিম্মিকে উদ্ধার করে। নারিম্যান হাউস, তাজ, ট্রাইডেন্ট, সব জায়গায় ধাপে ধাপে অভিযান চালিয়ে জঙ্গিদের খতম করা হয়। একজন বাদে সকল হামলাকারী সংঘর্ষে নিহত হয়। জীবিত ধরা পড়েছিল শুধু আজমল কাসাব, যাকে পরে বিচার প্রক্রিয়ার পর মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
দুর্ভাগ্যের অমানিশা, বীরত্বের আলো:
মোট ১৬৬ জন নিহত ও ৩০০-র বেশি আহত হয়েছিল। মুম্বইয়ের বহু রাস্তায় সেদিন রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল কালো ডামার—নাগরিক, পর্যটক, পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মীদের রক্তে। কামা হাসপাতালের কাছে শহর রক্ষায় প্রাণ দেন তিন বীর অফিসার—হেমন্ত কারকরে, অশোক কামটে ও বিজয় সালস্কর।
নারিম্যান হাউসে মানবতার গল্প:
ইহুদি সেন্টার নারিম্যান হাউসে দেখা যায় এক হৃদয়স্পর্শী ঘটনা। ভারতীয় ন্যানি সান্দ্রা স্যামুয়েল জীবন বাজি রেখে দু’ বছরের মোশে হোলৎসবার্গকে উদ্ধার করেন। জঙ্গিরা রাবাই গ্যাব্রিয়েল, তাঁর স্ত্রী রিভকা ও অন্যদের জিম্মি করলে সান্দ্রা শিশুটিকে কোলে করে পালিয়ে যান। তাঁর তৎপরতা মোশের প্রাণ বাঁচায়। পরে তাঁরা দু’জনই ইজরায়েলে চলে যান।
আরও পড়ুন-West Bengal Weather Updates: সাগরে চোখরাঙানি সেনিয়ারের! বাংলার আবহাওয়ায় বড় বদলের ইঙ্গিত
সীমান্তের ওপার থেকে পরিচালিত হামলা:
তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে, এই হামলার পরিকল্পনা ও পরিচালনা হয়েছিল পাকিস্তানের মাটিতে বসেই।
আজ ১৭ বছর পরও ক্ষত একই রকম গভীর। শহর ও দেশ আজও স্মরণ করে সেই শহিদদের, যাঁরা নিজেদের জীবন দিয়ে অন্যদের রক্ষা করেছিলেন।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us