Abhijit Ganguly: 'চাকরি যেভাবে বিক্রি হয়েছিল'...! রায় ঘোষণার পরই সরব প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়, কি বললেন বিজেপি সাংসদ?

Abhijit Ganguly: প্রাথমিকে নিয়োগ পাওয়া ৩২ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকার চাকরি অবশেষে বহাল রইল। প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের দেওয়া চাকরি-বাতিলের রায় বুধবার খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ।

Abhijit Ganguly: প্রাথমিকে নিয়োগ পাওয়া ৩২ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকার চাকরি অবশেষে বহাল রইল। প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের দেওয়া চাকরি-বাতিলের রায় বুধবার খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ।

author-image
IE Bangla Web Desk
New Update
cats

ছবি-পার্থ পাল

Abhijit Ganguly: প্রাথমিকে নিয়োগ পাওয়া ৩২ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকার চাকরি অবশেষে বহাল রইল। প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের দেওয়া চাকরি-বাতিলের রায় বুধবার খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। আদালতের এই সিদ্ধান্তে প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, "ডিভিশন বেঞ্চ বিবেচনা করে যে রায় দিয়েছে, সে ব্যাপারে আমার কিছু বলার নেই"। তিনি এদিন বলেন, "আজকের এই রায় নিয়ে আমার কোনও মতামত দেওয়ার অধিকার নেই।ডিভিশন বেঞ্চ যদি মনে করে, হ্যাঁ এভাবেই মানুষকে রক্ষা করতে হবে, তাহলে ডিভিশন ঠিকই করেছে বলব।” এরপরই প্রাক্তন বিচারপতি তথা বর্তমান বিজেপি সাংসদ বলেন, “আমি ভেবেছিলাম যে দুর্নীতি যারা করেছে, চাকরি যেভাবে বিক্রি হয়েছিল, সেই পুরো সিস্টেমটাকেই আমি বিসর্জন দিতে চেয়েছিলাম। তবে ডিভিশন বেঞ্চ যেটা ভাল বুঝেছে তা করেছে।”

Advertisment

আরও পড়ুন- বাংলায় ভূতের দৌরাত্ম্য? মৃত্যুতেও যেন ভোটে বাধা নেই! কমিশনের তালিকায় 'অমর' মানুষের দল

৩২ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকার চাকরি বহাল নিয়ে সমাজে মিশ্র প্রতিক্রিয়াও আছে। প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের দেওয়া চাকরি-বাতিলের রায় বুধবার খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। এদিনের রায়ে বিচারপতিরা জানান, “দীর্ঘ ৯ বছর দায়িত্ব পালনের পর তাদের চাকরি বাতিল করা হলে তা শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং তাঁদের পরিবারের ওপর গুরুতর বিরূপ প্রভাব ফেলবে।” এদিকে আজকের এই রায়কে ঘিরে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আইনজীবী তথা কলকাতার প্রাক্তন মেয়র বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, 'আজকের রায় প্রকৃতপক্ষে দুর্নীতিকেই প্রশ্রয় দিল'।

Advertisment

আরও পড়ুন-Kolkata Metro: মেট্রো এখন আরও স্মার্ট, অনেক বেশি আধুনিক, বিশেষ উদ্যোগের প্রশংসা সর্বত্র 

ফলে প্রায় তিন বছর ধরে চলা অনিশ্চয়তার ইতি টেনে ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষক-শিক্ষিকার চাকরি বহাল রাখার নির্দেশ দিল আদালত। এদিনের রায় প্রসঙ্গে আইনজীবী তথা কলকাতার প্রাক্তন মেয়র বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, "এর রায় বাঞ্ছনীয় নয়, এই রায় প্রকৃতপক্ষে দুর্নীতিকেই প্রশ্রয় দিল। এই রায়ের ফলে রাজ্য সরকারে যারা দুর্নীতি করেছেন তারা আরও উৎসাহিত হবেন। একটা বার্তা তাদের কাছে পৌঁছাবে দুর্নীতি করেও পার পাওয়া যায়। আজকের রায়ে মানবিক দিক থেকে বিবেচনা করেছেন বিচাপতিরা, যারা যোগ্য হয়েও চাকরি পাননি সেদিকটা উপেক্ষিত রয়েই গেল"। তিনি আরও বলেন, "চাকরি প্রার্থীরা ঠিক করবে ভবিষ্যতে সুপ্রিম কোর্টে যাবে কিনা না। তবে এটা ঠিক একটা অস্থিরতা থেকে বাঁচল সরকার। রায় যারা মানবে না তারা সুপ্রিম কোর্টে যাবেন। দুর্নীতি মামলায় তদন্ত চললেও আজকের রায়ে তারা বল পাবে। আজকের এই রায়ে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হল। দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই জারি থাকবে"।

আরও পড়ুন-West Bengal SIR 2025: ভয়ঙ্কর কান্ড! 'বাংলাদেশি বউমা'র বিররুদ্ধে বিডিও-র দ্বারস্থ শ্বশুর, তুমুল চাঞ্চল্য বীরভূমে 

হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের এই রায় ঘোষণার পর রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু ‘এক্স’–এ লেখেন, “ডিভিশন বেঞ্চের রায় প্রসঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদকে অভিনন্দন। সিঙ্গল বেঞ্চের রায় বাতিল হয়েছে। ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি সম্পূর্ণ সুরক্ষিত। শিক্ষকদেরও শুভেচ্ছা। সত্যের জয় হল।”

এদিন বিচারপতিরা মন্তব্য করেন,“এই ৩২ হাজার শিক্ষক বহু বছর ধরে কাজ করছেন। তাদের পরিবার–পরিজনের কথা বিবেচনা করেই আদালত চাকরি বাতিল করছে না।”

এই রায়ের প্রতিক্রিয়ায়, বিজেপি বিধায়ক ও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী জানান, বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনকালে কোনও সরকারি নিয়োগ পরীক্ষা স্বচ্ছভাবে হয়নি। পুলিশের নিয়োগ পরীক্ষা থেকেও ওএমআর শিটের কপি দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, কয়েকটি “বিচ্ছিন্ন ভুল, অপরাধ বা গাফিলতি” দেখিয়ে গোটা শিক্ষা ব্যবস্থাকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা হচ্ছে। তাঁর দাবি,“স্বচ্ছ পদ্ধতিতেই আমরা নিয়োগ করি। কিছু ভুল-ত্রুটি হয়েছে, সরকার তা সংশোধনে উদ্যোগী। যোগ্য প্রার্থীরা যাতে দ্রুত চাকরি পান, তার প্রচেষ্টা চলছে।” তিনি আরও বলেন, "এই কয়েকটি ঘটনা থেকে রাজনৈতিক ইস্যু তৈরি করা হচ্ছে, যা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়।"

আরও পড়ুন-West Bengal Weather Update: বাংলায় ঝাঁপিয়ে আসছে তীব্র শীত! আগামী ৭২ ঘণ্টায় থরথরিয়ে কাঁপবে দক্ষিণবঙ্গ 

আজকের এই রায়ের পর মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "মানবিক দিক থেকে বিষয়টা দেখা হয়েছে, তাতে আমি খুশি। কথায় কথায় চাকরি খেয়ে নেওয়া... চাকরি দেওয়া দরকার। চাকরি খেয়ে নেওয়ার পক্ষে রাজ্য সরকার নয়। আমি আজকের রায়ে খুশি"।

Abhijit Ganguly