'প্রিয় মমতা দিদুন, মাকে বাড়ি ফিরিয়ে দাও', মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি একরত্তির, ঝড়ের বেগে ভাইরাল

উত্তর দিনাজপুরের এক প্রাইমারি স্কুলে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতা করছেন স্বাগতা পাইন। কর্মস্থল আর বাড়ির দূরত্ব প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার। ফলে রোজ যাতায়াত করা কার্যত অসম্ভব। ফলে পরিবার থেকে দূরে থাকতে হচ্ছে তাঁকে। একমাত্র ছেলে ঐতিহ্য থাকেন বাবা-দাদুর কাছেই। মাকে কাছে চাইলেও উপায় নেই। অগত্যা ভরসা খোদ মুখ্যমন্ত্রী।

উত্তর দিনাজপুরের এক প্রাইমারি স্কুলে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতা করছেন স্বাগতা পাইন। কর্মস্থল আর বাড়ির দূরত্ব প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার। ফলে রোজ যাতায়াত করা কার্যত অসম্ভব। ফলে পরিবার থেকে দূরে থাকতে হচ্ছে তাঁকে। একমাত্র ছেলে ঐতিহ্য থাকেন বাবা-দাদুর কাছেই। মাকে কাছে চাইলেও উপায় নেই। অগত্যা ভরসা খোদ মুখ্যমন্ত্রী।

author-image
IE Bangla Web Desk
New Update
cats

“প্রিয় মমতা দিদুন, মাকে বাড়ি ফিরিয়ে দাও', মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি একরত্তির

উত্তর দিনাজপুরের এক প্রাইমারি স্কুলে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতা করছেন স্বাগতা পাইন। কর্মস্থল আর বাড়ির দূরত্ব প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার। ফলে রোজ যাতায়াত করা কার্যত অসম্ভব। ফলে পরিবার থেকে দূরে থাকতে হচ্ছে তাঁকে। একমাত্র ছেলে ঐতিহ্য থাকেন বাবা-দাদুর কাছেই। মাকে কাছে চাইলেও উপায় নেই। অগত্যা ভরসা খোদ মুখ্যমন্ত্রী। সরাসরি তাঁকেই  চিঠি লিখে বসলেন বছর পাঁচেকের ছোট্ট ঐতিহ্য। 

Advertisment

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ্য করে ঐতিহ্য লিখেছে, “প্রিয় মমতা দিদুন, আমার বয়স মাত্র পাঁচ। আমি আসানসোলে থাকি। আমার মা প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষিকা দিদিমণি।উত্তর দিনাজপুরে থাকে। আমি বাবার আর দাদুর সঙ্গে থাকি, কিন্তু মাকে খুব মিস করি। মাকে ছাড়া থাকতে খুব কষ্ট হয়। দয়া করে আমার মাকে তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরিয়ে দেবে, আমি মাকে খুব ভালোবাসি।”

উল্লেখ্য, ২০২১ সাল থেকে উত্তর দিনাজপুরে একটি প্রাইমারি স্কুলে শিক্ষকতা করছেন স্বাগতা পাইন। স্বামী কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারি। বাড়ি আসানসোলেই। ৮৯ বছরের শ্বশুরের সঙ্গে একমাত্র সন্তানকে সামলাতে হয় তাকেই। বাড়িতে আর কোনও মহিলা না থাকায় মূলত একজন গৃহপরিচারিকার উপরেই নির্ভর করতে হচ্ছে।

আরও পড়ুন- ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা, দুই উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু, কান্নায় ভেঙে পড়ল গোটা এলাকা

স্বাগতা জানিয়েছেন, “আমি প্রতিদিন অন্য বাচ্চাদের পড়াই, অথচ আমার নিজের ছেলে মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বহুবার আবেদন করেছি, কিন্তু কোনও সাড়া পাইনি। ২০২১ সালে নিয়োগ পাওয়া ১৬,৫০০ প্রাথমিক শিক্ষকের মধ্যে প্রায় ৬,০০০ জনকেই নিজের জেলার বাইরে পাঠানো হয়েছে। সাধারণত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চাকরি মানেই বাড়ির কাছাকাছি এমনটা ভাবা হয়, কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে তা হয়নি।” তিনি আরও বলেন, একবার চেষ্টা করেছিলেন ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে উত্তর দিনাজপুরে রাখার। ছেলের অ্যাজমার সমস্যা বেড়ে যায়, সেকারণে আবার ওকে বাড়ি ফিরিয়ে দিতে হয়। স্বাগতার আক্ষেপ, ছেলের বড় হয়ে ওঠার নানা মুহূর্তকে তিনি মিস করছেন। আক্ষেপের সুরে তিনি বলেন,  “খেলাধুলা বা স্কুল ফাংশন—আমি থাকতে না পারলে ও খুব কষ্ট পায়। তখন কাঁদতে কাঁদতে বলে, মা, তোমাকে খুব মিস করছি।”

আরও পড়ুন-পুজোর মুখে শিয়ালদা শাখার যাত্রীদের জন্য বিরাট খুশির খবর, আরামের যাত্রায় বিরাট উদ্যোগ রেলের

ঐতিহ্য নিজে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে, “আমি মুখ্যমন্ত্রীকে লিখেছি যাতে মা আমার কাছে আসতে পারে। আমি জানি শুধু মমতা দিদুনই মা-কে কাছে আনতে পারবেন। মাকে আমার কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হলে আমি মমতা দিদুন কে ধন্যবাদ জানাব।’” পরিবারের আশা, মুখ্যমন্ত্রী বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে স্বাগতাকে আসানসোলের কাছাকাছি স্কুলে বদলি করবেন, যাতে মা-ছেলে একসঙ্গে থাকতে পারেন।

CM Mamata banerjee