/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/13/8th-pay-commission-implementation-date-central-govt-employees-bengali-2025-12-13-16-32-42.jpg)
১ জানুয়ারি, ২০২৬ থেকেই কার্যকর হবে অষ্টম বেতন কমিশন? বহু প্রতীক্ষিত প্রশ্নের উত্তর দিল সরকার
8th Pay Commission: কবে থেকে অষ্টম বেতন কমিশনের সুপারিশ কার্যকর হবে? দেশের এক কোটিরও বেশি কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীর মধ্যে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই একটাই প্রশ্ন। সপ্তম বেতন কমিশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫। তবে অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, বেতন কমিশনের সুপারিশ মেয়াদ শেষের সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হয় না। সাধারণত সুপারিশ থেকে বাস্তবায়নের মধ্যে গড়ে দু’থেকে তিন বছর সময় লেগে যায়।
পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম বেতন কমিশনের সময়সীমা পর্যালোচনা করলে এই প্রবণতাই স্পষ্ট। সপ্তম বেতন কমিশন গঠিত হয়েছিল ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে এবং তার সুপারিশ কার্যকর হয় ২০১৬ সালের জুনে। সময় লেগেছিল প্রায় আড়াই বছর। ষষ্ঠ বেতন কমিশনের ক্ষেত্রে সময় লেগেছিল প্রায় এক বছর দশ মাস, আর পঞ্চম বেতন কমিশনের ক্ষেত্রে তা পৌঁছেছিল সাড়ে তিন বছরে। ফলে অষ্টম বেতন কমিশনের ক্ষেত্রেও একই ধরনের বিলম্বের আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বর্তমানে অষ্টম বেতন কমিশনের অগ্রগতির দিকেও নজর রয়েছে কর্মচারী মহলের। সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ১৬ জানুয়ারি, ২০২৫ তারিখে অষ্টম বেতন কমিশন ঘোষণা করে। তবে এর টার্মস অফ রেফারেন্স (টিওআর) চূড়ান্ত করতে প্রায় ১০ মাস সময় লাগে। শেষ পর্যন্ত ২৮ অক্টোবর, ২০২৫ তারিখে টিওআর অনুমোদিত হয়। সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিশনকে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য ১৮ মাস সময় দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন জমা পড়লেই যে সঙ্গে সঙ্গে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হবে, তা নয়। অতীত অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, প্রতিবেদন পর্যালোচনা, সংশোধন ও অনুমোদনের জন্য আরও ছ’থেকে আট মাস সময় লাগতে পারে। ফলে বাস্তবায়নের সম্ভাব্য সময়কাল ২০২৭ সালের শেষ দিক বা ২০২৮ সালের প্রথম ভাগ বলে মনে করা হচ্ছে।
সংসদে সরকার ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, কমিশন গঠিত হলেও সুপারিশ কার্যকর করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারই নেবে। এই বক্তব্যের জেরেই কর্মচারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে, কারণ অনেকেই আশা করেছিলেন ১ জানুয়ারি, ২০২৬ থেকেই নতুন বেতন কার্যকর হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বেতন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে দুই-তিন বছর সময় লাগা কার্যত ‘সিস্টেমের অংশ’। কারণ এই প্রক্রিয়ায় একাধিক ধাপ জড়িত—কমিশন গঠন, বিভিন্ন মন্ত্রক থেকে তথ্য সংগ্রহ, কর্মচারী ও ইউনিয়নের সঙ্গে পরামর্শ, আর্থিক প্রভাব মূল্যায়ন, উচ্চপর্যায়ের কমিটির পর্যালোচনা, মন্ত্রিসভার অনুমোদন এবং শেষে সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি। এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণেই বাস্তবায়নে বিলম্ব হয়।
আরও পড়ুন- “জোঁকের মতো চিটে নেতা-মন্ত্রী!” মেসি-কাণ্ডে তৃণমূলকে তুলোধোনা শুভেন্দু অধিকারীর
অষ্টম বেতন কমিশন ঘিরে চলমান বিতর্কের মধ্যে সরকারও অবস্থান স্পষ্ট করেছে। অর্থ প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরী ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে সংসদে এক লিখিত উত্তরে জানান, ১ জানুয়ারি, ২০২৬ থেকে অষ্টম বেতন কমিশন কার্যকর করার বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, কমিশন ইতিমধ্যেই গঠিত হয়েছে এবং অর্থ মন্ত্রক ৩ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে এর টিওআর জারি করেছে। কমিশন নিজস্ব প্রক্রিয়া অনুযায়ী সুপারিশ প্রস্তুত করবে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৫০ লক্ষ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী এবং প্রায় ৬৯ লক্ষ পেনশনভোগী রয়েছেন, যাঁরা সরাসরি অষ্টম বেতন কমিশনের আওতায় পড়বেন। এই বিপুল সংখ্যক মানুষের উপর আর্থিক প্রভাব পড়বে বলেই সরকার প্রতিটি ধাপে সতর্কতা অবলম্বন করছে। কমিশনের সুপারিশ গৃহীত হলে প্রয়োজনীয় তহবিল বাজেটে বরাদ্দ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।সব মিলিয়ে, অতীতের ধারা ও বর্তমান পরিস্থিতি বিচার করলে স্পষ্ট যে অষ্টম বেতন কমিশনের সুপারিশ ২০২৭ সালের শেষ বা ২০২৮ সালের আগে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা কম।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us