/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/01/new-year-2026-01-01-13-08-59.jpg)
Greetings card culture in 90s: প্রতীকী ছবি।
New Year quotes 2026: '৯০-এর দশক ছিল গ্রিটিংস কার্ডের স্বর্ণযুগ। জন্মদিন, বিবাহবার্ষিকী, নতুন বছর, দুর্গাপুজো, বড়দিন, যে কোনও উপলক্ষেই রঙিন খামে ভরা একটি কার্ড ছিল আবেগ প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম। দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কার্ড বেছে নেওয়া, ভিতরে নিজের হাতে দু-চার লাইন লেখা, তারপর ডাকবাক্সে ফেলে দেওয়ার সেই অভ্যাস আজ প্রায় বিলুপ্ত। ২০২৬-এ দাঁড়িয়ে গ্রিটিংস কার্ড যেন শুধুই স্মৃতির অ্যালবামে বন্দি এক অধ্যায়।
নব্বইয়ের দশকে মোবাইল ফোন বা ইন্টারনেট ছিল না বললেই চলে। যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম ছিল চিঠি আর ল্যান্ডলাইন। সেই সময় গ্রিটিংস কার্ড ছিল অনুভূতি জানানোর সবচেয়ে সহজ ও গ্রহণযোগ্য উপায়। বড় ব্র্যান্ডের পাশাপাশি ছোট প্রকাশকরাও নানান ডিজাইন, ছড়া, কবিতা আর হাতে আঁকা ছবির মাধ্যমে কার্ড তৈরি করতেন। স্কুলের বন্ধুকে জন্মদিনের কার্ড পাঠানো বা দূরের আত্মীয়কে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানানো, এই সবের মধ্যেই লুকিয়ে ছিল অপেক্ষা আর উত্তেজনা। কার্ড পৌঁছবে কবে, খুলে পড়বে কবে, এই অপেক্ষাটাই ছিল বিশেষ।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রযুক্তি বদলেছে, বদলেছে মানুষের অভ্যাসও। মোবাইল ফোন, এসএমএস, তারপর হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ডিজিটাল শুভেচ্ছার দুনিয়া একেবারে বদলে দিয়েছে যোগাযোগের ধরন। এখন একটি মেসেজ, একটি ইমোজি বা একটি স্টোরিই যথেষ্ট শুভেচ্ছা জানানোর জন্য। সময়ের অভাব, দ্রুতগতির জীবন আর ‘ইনস্ট্যান্ট’ সংস্কৃতি গ্রিটিংস কার্ডকে ধীরে ধীরে পিছনে ফেলে দিয়েছে।
আরও পড়ুন- LPG gas price hike: নতুন বছরের শুরুতেই হেঁসেলে ধাক্কা! একলাফে অনেকটাই বাড়ল রান্নার গ্যাসের দাম
২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে গ্রিটিংস কার্ডের বাজার প্রায় অস্তিত্ব সংকটে। একসময় যে স্টেশনারি দোকানে কার্ডের আলাদা শেলফ থাকত, সেখানে এখন মোবাইল রিচার্জ বা কুরিয়ার পরিষেবা বেশি গুরুত্ব পায়। অনেক কার্ড প্রস্তুতকারী সংস্থা হয় ব্যবসা বন্ধ করেছে, নয়তো অনলাইনে কাস্টমাইজড কার্ডের দিকে ঝুঁকেছে। যদিও সেই সংখ্যাও খুব বেশি নয়।
তবে গ্রিটিংস কার্ড পুরোপুরি হারিয়ে গেছে, এমনটা বলা ভুল হবে। এখনও কিছু মানুষ আছেন, যাঁরা হাতে লেখা কার্ডের আবেগকে গুরুত্ব দেন। বিশেষ করে বিবাহবার্ষিকী, বিশেষ জন্মদিন বা ব্যক্তিগত মুহূর্তে হাতে লেখা কার্ড আজও আলাদা মূল্য বহন করে। ডিজিটাল শুভেচ্ছা যেখানে মুহূর্তে হারিয়ে যায়, সেখানে একটি কার্ড থেকে যায় ড্রয়ার বা আলমারির কোণে, বহু বছর ধরে।
নব্বইয়ের দশকের গ্রিটিংস কার্ড আসলে শুধু কাগজের টুকরো ছিল না, ছিল সম্পর্কের ছোঁয়া। ২০২৬-এ দাঁড়িয়ে সেই সংস্কৃতি প্রায় হারিয়ে গেলেও, স্মৃতির পাতায় তার আবেদন আজও অমলিন। প্রযুক্তির দাপটে আবেগের প্রকাশ বদলেছে ঠিকই, কিন্তু হাতে লেখা শুভেচ্ছার উষ্ণতা এখনও অনেকের কাছেই অনন্য।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us