/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/10/abhishek-banerjee-bankura-rally-ed-election-commission-sir-bjp-attack-2026-01-10-18-14-19.jpg)
মমতার পর অভিষেক, লক্ষ্মীর ভান্ডার নিয়ে এবার বিরাট ঘোষণা সেনাপতির
এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) এবং নির্বাচন কমিশনকে হাতিয়ার করে বিজেপি তৃণমূল কংগ্রেসকে আটকাতে পারবে কি না! এই প্রশ্ন তুলে শনিবার বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বাঁকুড়া জেলায় এক দলীয় সভা থেকে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, কেন্দ্রীয় সংস্থার কোনও চাপের কাছেই তৃণমূল মাথা নত করবে না। পাশাপাশি আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বাঁকুড়াকে ১২-০ করার ডাক অভিষেকের। তৃণমূল সেনাপতি বলেন, " তৃণমূল জিতলে অধিকার পাবেন। বিজেপি জিতলে বঞ্চিত হবেন। তৃণমূল জিতলে দুমুঠো ভাত। বিজেপি জিতলে ধর্মে ধর্মে আঘাত"।
ইডির অভিযান নিয়ে মমতার প্রতিবাদের পরই তড়িঘড়ি বিবৃতি সংস্থার, কী জানালো IPAC?
সভায় অভিষেক বলেন, “বিজেপি কি মনে করছে ইডি আর নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে আমাদের থামিয়ে দেবে? তৃণমূল কোনওদিনই এই ধরনের চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না।” একই সঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে বাংলার ইতিহাস জানার পরামর্শ দেন। স্বামী বিবেকানন্দ, রাজা রামমোহন রায়, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু এবং ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জাতি গঠনে অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক দাবি করেন, তৃণমূল না থাকলে এখনও রাজ্যে সিপিএমের শাসন চলত। ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের জয়কে তিনি 'ঐতিহাসিক পরিবর্তনের' সূচনা বলে উল্লেখ করেন।
এসআইআর বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশনের নামে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে অভিষেক বলেন, এই প্রক্রিয়ার জেরে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। তাঁর দাবি, এসআইআর-এর চাপের কারণে কেউ কেউ অসুস্থ হয়ে পড়ছেন, আবার কেউ কেউ আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন। তিনি বলেন, “এই মৃত্যুর জন্য যারা দায়ী, তাদের রাজনৈতিকভাবেই জবাব দেওয়া হবে।”
এছাড়াও তিনি অভিযোগ করেন, কিছু রাজ্যে বাংলা ভাষায় কথা বললেই মানুষকে বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রের বিরুদ্ধে রাজ্যের প্রাপ্য প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা আটকে রাখার অভিযোগও তোলেন তৃণমূল নেতা।
২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বাঁকুড়া জেলা থেকে বিজেপির দুইটি আসনে জয়ের প্রসঙ্গ তুলে অভিষেক প্রশ্ন করেন, সেই জয়ের পর বিজেপি কী কাজ করেছে তার রিপোর্ট কার্ড কোথায়। তিনি জানান, তৃণমূল সরকার গত ১৫ বছরে রাজ্যে যে উন্নয়নমূলক কাজ করেছে তার বিস্তারিত রিপোর্ট কার্ড প্রকাশ করেছে। তাঁর মতে, রাজনৈতিক লড়াই হওয়া উচিত তথ্য ও পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে। রাস্তা, পরিকাঠামো, আবাসন, পানীয় জল, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং কর্মসংস্থানের নিরিখে।
জঙ্গলমহল অঞ্চলে মাওবাদী সন্ত্রাস দমনের প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক বলেন, তৃণমূল সরকার শুধু মাওবাদী সমস্যার অবসান ঘটায়নি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিকাঠামোও উন্নত করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, জল জীবন মিশন, সড়ক নির্মাণ ও মনরেগার মতো প্রকল্পে কেন্দ্র অর্থ আটকে রেখেছে।
ট্রাম্পের ৫০০% শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি, অস্থির বাজার, রূপা ২.৬০ লাখ পার, সোনার দামও আকাশছোঁয়া
কয়লা খনির মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়েও কেন্দ্রকে দায়ী করে অভিষেক বলেন, দীর্ঘ অনুমোদন প্রক্রিয়ার কারণে বেসরকারি কয়লা খনন বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। তিনি জানান, ওই অঞ্চলে রাজ্যের হাতে ১৩৩ হেক্টর জমি রয়েছে, যেখানে অন্তত ১৮টি খনি গড়ে তোলা সম্ভব। এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং মার্চের শেষের মধ্যে দুই মাসের মধ্যে সব অনুমোদন প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে প্রায় ২৫ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে তাঁর দাবি।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাঁকুড়া জেলার ১২টি আসনের মধ্যে মাত্র চারটিতে তৃণমূল জয় পেয়েছিল উল্লেখ করে অভিষেক আগামী নির্বাচনে সব আসনে তৃণমূল প্রার্থীদের জয়ী করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “তৃণমূল জিতলে আপনারা অধিকার পাবেন, বিজেপি জিতলে সেই অধিকার কেড়ে নেওয়া হবে।”
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প নিয়েও অভিষেক বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করেন। বিজেপির এক নেতার মন্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, নির্বাচনের ফলই দেখাবে বাংলার মায়েরা কীভাবে গেরুয়া শিবিরকে প্রত্যাখ্যান করবেন। তিনি জানান, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে রাজ্য সরকার বছরে প্রায় ২৭ হাজার কোটি টাকা খরচ করছে এবং তৃণমূল সরকার যতদিন ক্ষমতায় থাকবে, এই প্রকল্প চলবে বলেও আশ্বাস দেন।
বছরের শুরুতেই কেঁপে উঠল চম্পাহাটি! বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us